এম, এ করিম মিষ্টার, নীলফামারী : অর্থের অপ্রতুলতার কারণে কাংখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না সৈয়দপুর ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন মেরামত কারখানা। জনবল সংকট, যুগপোযোগী মেশিনারীজ এবং প্রয়োজনীয় মালামালের অভাবে ৩শ’টির বেশি কোচ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না কারখানাটিতে যেখানে প্রতি বছর সাড়ে ৫’শ বেশি কোচ মেরামত করার কথা।
সৈয়দপুর রেলওয়ে সুত্র জানায়, মেরামত বিহীন চলাচল করায় তিন শতাধিক কোচ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সুত্র জানায়, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে সাড়ে ১৫কোটি, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৪৬ কোটির মধ্যে ২০কোটি এবং ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৪২কোটির মধ্যে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায় যা দিয়ে কোন রকমে সংস্কার করার কাজ চালানো হয় গত তিন বছরে। বর্তমানে যতজন শ্রমিক রয়েছেন তাদের দিয়ে ওভার টাইম পারিশ্রমিক দিয়ে স্বল্পতা পূর্ণ করা সম্ভব। বতর্মান সরকারের গত সময়ে ৮১টি নতুন ট্রেন চালু হওয়ায় যাত্রীবাহি কোচ ও মালবাহী ওয়াগন সরবরাহ তথা মেরামত চাহিদা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কারখানার ২৮৪৭জন শ্রমিকের মধ্যে ১৩৪৫জন শ্রমিক বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। জনবল সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন দক্ষ কারিগর অবসরে যাওয়ায় দিন দিন সংকটের মাত্রা বেড়েছে।
এদিকে হরতাল অবরোধে নাশকতামুলক কর্মকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি ক্যারেজ মেরামত না হওয়ায় কোচ সংকটে পড়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। অতিদ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ক্যারেজগুলো মেরামত করা গেলে যাত্রীদের নিদারুণ কষ্ট লাঘব হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৪৮০টি ইউনিটের মধ্যে অবৈধ দখলে রয়েছে ১২৫০টি। কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাসাবাড়িগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়নি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের। বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় বাসাবাড়িগুলোতে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন শ্রমিকরা। যোগাযোগ করা হলে সৈয়দপুর রেলওয়ের বিভাগীয় তত্বাবধায়ক নূর আহাম্মদ হোসেন বলেন, কারখানাকে আধুনিকায়ন এবং গতিশীল করার জন্য এখন প্রয়োজন সংকটগুলো দুর করা। কারখানায় অনেক সংকটের পরও রেলওয়েকে সচল রাখতে পরিশ্রম করছেন এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তবে সরকারীভাবে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে বলে উলেখ করেন তিনি।
সৈয়দপুরে আগুনে পুড়ে গেছে ৪ লাখ টাকার ঝুট কাপড়

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঝুট কাপড়ের গোডাউনে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে প্রায় ৪ লাখ টাকার কাপড় পুড়ে গেছে। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোডাউন সংলগ্ন বসবাসকারী তিনটি পরিবার। শনিবার ভোরে শহরের মুন্সিপাড়াস্থ দর্জিপট্টিতে ওই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওইদিন ভোর ৫টার দকে দর্জিপট্টির শাহজাদা হোসেনের ঝুট কাপড়ের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তে ওই আগুন গোডাউন সংলগ্ন আসমত আলী, ইমতয়াজ ও দেলওয়ার হোসেনের বাসায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে গোডাউনের প্রায় ৪ লাখ টাকার ঝুট কাপড় পুড়ে গেছে বলে গোডাউনের মালিক ব্যবসায়ী শাহজাদা দাবি করেছে। ওই আগুনে আসমত ও ইমতিয়াজের বাসার আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ভষ্মিভূত হয়েছে। পরিবার দুটির ক্ষতির পরিমান প্রায় ২ লাখ টাকা। আগুনে পুড়েছে ব্যবসায়ী দেলওয়ার হোসেনের তিনতলা ভবনের নীচতলার একটি কক্ষের আসবাবপত্র। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মিজান বেগ।
ভারতীয় ভয়ংকর সুন্দরীরা নীলফামারীর বাজারে : প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারী
লাল টুকটুকে, হলুদ- আলতার মিশ্রন। দেখতে সুন্দর। হলুদের আভা এবং বোঁটার দিকে টকটকে লাল এ আম দেখলে কিনে নিতে মন চায়। এর নাম ভারতীয় সুন্দরী। এই ভয়ংকর সুন্দরী নামক আম মাদ্রাজ থেকে সীমান্ত পথে এখন নীলফামারীর সব বাজারে। এ আম বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে হরহামেশা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এই আম বিক্রি না করার জন্য ফল আড়ত ও ব্যবসায়ীদের উপজলা প্রশাসন কঠোরভাবে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।
নীলফামারী জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ফলের দোকানে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা সুন্দর করে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন আমগুলো। ফলে সহজেই যে কোনো ক্রেতা আকৃষ্ট হবেন। দিনের পর দিন এ আম দোকানে থেকে গা কুঁচকে গেলেও নষ্ট হয়না। বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হলেও বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। সূত্র জানায়, অনেক ব্যবসায়ী রাইফেলস ও কেন্ট জাতীয় ওষুধ স্প্রে করে ফলের রং উজ্জ্বল ও পাকানোর ব্যবস্থা করেন। এরপর ফরমালিন দয়ে কৃত্রিম উপায়ে আমগুলো সজীব রাখা হয়। লোকজন শুধু এর বাহ্যিক রুপ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। ভারতের মাদ্রাজ থেকে আসা সুন্দরী আম দেশীয় আমের আগে বাজারে আসায় বাজারে বক্রিও হচ্ছে প্রচুর। দামও অনেক বেশি। প্রতিকেজি আম ১৬০ থেকে ২শ’ বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সুন্দরী এই আম বিক্রি না করার জন্য ফলের আড়ত ও দোকানদারদের কঠোরভাবে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। আর যেন কোন সুন্দরীর চালান আনতে না পারেন তার জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




