তাপস চন্দ্র সরকার, চট্টগ্রাম উত্তর : আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২ডিসেম্বর সোমবার কুমিলা জেলা প্রশাসন মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার নিকট কুমিলা সদর আসন (কুমিলা-৬) থেকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহারসহ ৪জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। কুমিলা সদর আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- কুমিলা (দঃ) জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ আফজল খাঁনের ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খাঁন ইমরান, জাতীয় পাটির মনোনীত প্রার্থী হুমায়ুন কবির মুন্সী ও ন্যাশনাল আওয়ামীপাটি (ন্যাপ)’র মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ফারুক। এ ছাড়াও বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া এলাকা (কুমিলা-৫) থেকে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী সাবেক আইন মন্ত্রী অ্যাড. আব্দুল মতিন খসরু, সদর দক্ষিণ-নাঙ্গলকোট এলাকা (কুমিলা-১০) থেকে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী কুমিলা (দঃ) জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), মুরাদনগর এলাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইউসুফ আব্দুলাহ হারুন ও চান্দিনা (কুমিলা-৭) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম.এ লতিফ, দেবিদ্বার (কুমিলা-৪) স্বতন্ত্র প্রার্থী রৌশন আলী মাষ্টার।
সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাড. আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া-বুড়িচং (কুমিলা-৫) নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি দেখলাম নির্বাচনের ব্যাপারে জনগনের মাঝে ব্যাপক সারা দেখা দিয়াছে। আমি আশা করছি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ব্যতিত ক্ষমতা পরিবর্তনের কোন বিকল্প নেই। আমি এখনো আশা করছি প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী একটি চক্র দেশে নাশকতা সৃষ্টি করছে। যারা নাশকতা করে তারা দেশ ও মানুষের শত্র“। জনগণকে সাথে নিয়ে মানবতাবিরোধীদেরকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করা হবে।

হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, দেশ পরিচালনা এবং ক্ষমতা বদলের পদ্ধতিই হচ্ছে নির্বাচন। ১৯৯১সালে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণ অভ্যূত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদ সাহেব ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তিনি আরো বলেন- রাতের অন্ধকারে রেল লাইন তুলে ফেলা এবং চলন্ত বাসে আগুন লাগিয়ে জনগণকে হত্যা করেছে। এটা জনগণ বিরোধী আন্দোলন। একটি গোষ্ঠী সন্ত্রাসী দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে। বাহার বলেন, দেশের মানুষ চায় আমরা বৈধভাবে তাদের প্রতিনিধিত্ব করি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। আমার বিশ্বাস কুমিলার মানুষ আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করবে। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের সন্তানদের জন্যে একটি সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমাদের প্রিয় নেত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা কাজ করছে এবং সেই ডাকে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
মাসুদ পারভেজ খাঁন ইমরান বলেন, আমাদের চৌদ্দগোষ্ঠী আওয়ামীলীগের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে হতে পারে অবশ্যই বিজয় নিশ্চিত। কুমিলার মুখোশধারী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারসহ অবৈধ অস্ত্র গুলো উদ্ধার করার জোর দাবী জানান এ নেতা। আমি আমার নেতা-কর্মী ও কুমিলাবাসীর চাপের মুখে নির্বাচন করছি। প্রধান বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করারও আহবান জানান ইমরান। তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

ন্যাপ নেতা মোহাম্মদ আলী ফারুক বলেন, সরকারী দল- বিরোধী দল হিসেবে আমাদেরকে বিবেচনা না করে যেন সকলের জন্যে সমান সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়। আমি কখনো আদর্শ বদলাইনি। এদেশের গরীব-দুঃখী মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এদেশের প্রতিটি সংগ্রাম আন্দোলনে আমি স্ব-ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। নাশকতা নিয়ে আমি খুবই দুঃচিন্ত গ্রহস্থ। দেশে যে হাড়ে নাশকতা সৃষ্টি হচ্ছে সে নাশকতা সত্যিকারার্থে আমাদের সকলের ঝুঁকি হয়ে গেছে। এখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নাই। তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন এ জাতিকে উপহার দেওয়ার আহবান জানান এ নেতা। দুঃখ জনক হলেও সত্য, সরকারের চেষ্টা থাকলেও মানুষের নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সে কারণেই প্রতিবাদ স্বরূপ এ নির্বাচনে ন্যাপ একা নির্বাচন করবে। যেহেতু এ নির্বাচনে অধিকাংশ দলই অংশ গ্রহণ করছে সেহেতু এ নির্বাচনকে একতরফা নির্বাচন বলা যাবেনা। তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
জাতীয় পাটির নেতা হুমায়ুন কবির মুন্সী বলেন, হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রীন সিগনাল না দিবেন ততক্ষণ পর্যন্ত যেন আমরা মাঠে না নামি। তিনি বলেন, নির্বাচনের বিকল্প নাই। নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন আসবে। যেহেতু প্রধান বিরোধীদল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে না সেহেতু এ নির্বাচনকে সর্বদলীয় নির্বাচন বলা যাবে না। সাধারণ মানুষ আওয়ামীলীগ ও বর্তমান সরকার এর বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার। তাই সে কোন মুল্যে সাধারণ মানুষ ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। তিনি আরও বলেন, দেশে যে ভাবে নাশকতা চলছে নির্বাচন করতে পারবো কিনা আমি সন্দীহান। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে তিনি নিরাপত্তা দাবী করেন। তিনি বলেন, কুমিলাবাসী নাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।




