কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : অবশেষে কেশবপুরের বহুল আলোচিত বুড়িহাটি বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে দীর্ঘ ৬ মাস পর অবশেষে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেই সাথে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বরখাস্তাদেশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কেশবপুর প্রেসক্লাবে দেয়া প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ মে বুড়িহাটি বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এক সভায় বুড়িহাটি গ্রামের আব্দুস সামাদকে বিধিমোতাবেক সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৫ মে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্য সচিব শাহাজান আলী ম্যানেজিং কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা অনুমোদনের জন্য যশোর মধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক বরাবর প্রেরণ করেন। এ খবর জানতে পেরে বুড়িহাটি গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা শাহিন তার ভাই জাতীয় সংসদের হুইপ আব্দুল ওহাবের এপিএস লতিফুজ্জামান তাদের পিতা মোসলেমউদ্দীন কে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি বানানোর জন্য ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য শিক্ষক আবুল কাশেম, শিক্ষক আমির হোসেন, সামাদ বিশ্বাস ও ফরিদ গাজীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে ২১ মে ওই ক্ষমতাধর পরিবার দলীয় লোকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তারা ১৫ জুন এডহক কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলামকে দিয়ে অবৈধ ভাবে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক কে সময়িক বরখাস্ত করে সদ্য নিয়োগ পাওয়া জুনিয়র শিক্ষিকা রেবেকা খাতুনের ওপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়। এ ঘটনায় ২২ জুন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে বাধা ও লেখা পড়ার পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ এনে সকল শিক্ষকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র উপজেলা নির্বাহীর কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের পাঠদান চরম ভাবে ব্যাহত হয়।
এদিকে, নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটিকে বাদ দিয়ে এডহক কমিটির সভাপতিকে দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ চালানোর অভিযোগে নির্বাচিত সভাপতি আব্দুস সামাদ গত মে মাসে উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ২৪ অক্টোবর ওই মামলার রায় সভাপতির পক্ষে যায় এবং উচ্চ আদালত পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ ৬ মাস পর ১৩ নভেম্বর যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একটি স্মারকমূলে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনমোদন দেয়া হয়। ম্যানেজিং কমিটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ১৭ নভেম্বর কার্য নির্বাহী কমিটির এক সভায় প্রধান শিক্ষক শাহাজান আলী ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের বেআইনিভাবে সাময়িক বরখাস্তাদেশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।




