ads

বুধবার , ৩০ অক্টোবর ২০১৩ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে হেরে গেল গৃহবধূ কলেজছাত্রী আঞ্জুমান আরা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
অক্টোবর ৩০, ২০১৩ ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

অভিযোগ যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন : পুলিশ বলছে আত্মহত্যায় প্ররোচনা

sherpur disঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্ত পল্লীতে যৌতুকের দাবিতে পাষন্ড স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের নির্যাতনে গুরুতর আহত গৃহবধূ ও অনার্সপড়–য়া কলেজছাত্রী আঞ্জুমান আরা (১৯) টানা ৩ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে হেরে গেছেন। ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ওই গৃহবধুর মৃত্যু হয়। এরপরও ঘটনাকে আড়াল করতে স্বামীর পক্ষের লোকজন হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের চোখে ধুলো দিয়ে বিনা ময়না তদন্তেই আঞ্জুমান আরার লাশ হাসপাতাল থেকে রাতেই তার পিতার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং একটি বিশেষ মহলের তদবিরে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে ওই লাশ দাফনের তৎপরতা শুরু করে। এ নিয়ে এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক গুঞ্জন। অবশেষে থানা পুলিশ খবর পেয়ে রাতেই ওই বাড়ি থেকে আঞ্জুমান আরার লাশ থানায় নিয়ে যায়। বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠায় জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে ফের ফেরত যায় আঞ্জুমান আরার লাশ পরিবারের কাছে। এরপরও ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আঞ্জুমান আরার পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনাটিকে যৌতুকের জন্য মারপিটের করুণ পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করলেও পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে আঞ্জুমান আরা আত্মহত্যার চেষ্টা চালাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মারা গেছে। তবে স্বামীও তার লোকজনদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তপল্লী হলদিবাটা গ্রামের দিনমজুর সৈয়দুর রহমানের কন্যা এবং শেরপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের (অনার্স) প্রথম বর্ষের ছাত্রী আঞ্জুমান আরার সাথে একই গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর পুত্র শাহাদাত হোসেনের প্রেমঘটিত সম্পর্কের সূত্রে প্রায় ৪ মাস পূর্বে বিয়ে হয়। আঞ্জুমান আরার গরিব পিতা সৈয়দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গরিব ঘরের কন্যা বলে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেনে নিতে পারছিল না আঞ্জুমান আরাকে। এজন্য কথায় কথায় তার প্রতি নেমে আসে অত্যাচার-নির্যাতন। এক পর্যায়ে পরিবারের অন্যদের সাথে যোগ দেয় প্রেমদুলাল স্বামী শাহাদাত হোসেনও। এরপর থেকে অত্যাচারে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে আঞ্জুমান আরাকে নির্যাতন শুরু করে। ওই অবস্থার পরও চলে আসছিল আঞ্জুমান আরা’র স্বামীর ঘরে টিকে থাকার লড়াই। আঞ্জুমান আরার গর্ভে সন্তান আসার সংবাদে তারা আরও হিংস্র হয়ে উঠে। এরই এক পর্যায়ে ২৬ অক্টোবর শনিবার নির্যাতন চালিয়ে আঞ্জুমান আরা’র গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করে দেয় তারা। ওই ঘটনার জের ধরে পরদিন রবিবার সকাল ১০টায় নির্যাতনের শিকার হয়ে আঞ্জুমান আরা অজ্ঞান  হয়ে পড়লে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয় স্বামীসহ পাষন্ডরা। পরে লোক দেখানোর জন্য তাকে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে টানা ৩ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আঞ্জুমান আরা।
এব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম হায়দার জানান, আঞ্জুমান আরা গরিব ঘরের সন্তান হওয়ায় প্রেমঘটিত সম্পর্কের সূত্রে বিয়ের পরও স্বামীর লোকজন তাকে মেনে নিতে পারছিল না। এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ ছিল। এক পর্যায়ে আঞ্জুমান আরাকে স্বামী তালাক দিয়েছে- এরকম সংবাদ শুনে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় সে মারা গেছে। এ ব্যাপারে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে স্বামীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!