‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্প’-এর আওতায় দেশব্যাপী খাল খনন/পুন:খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেরপুরে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ১৩ মে বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাব্দীরচর হতে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত কাটাখালী খাল খননের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। ওইসময় তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকজল্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে এক অনন্য উদ্যোগ। খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা হ্রাস, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। খাল খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন হবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে। একইসাথে স্থানীয় অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ। ওইসময় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. হযরত আলী, ভারপ্রাপ্ত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রকিবুল হাসানসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে অতিথিরা খাল খনন কাজের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত ও সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদের ইউজিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সোয়া চার কিলোমিটার দৈর্ঘের কাটাখালি খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। কৃষিজমিতে সঠিকভাবে পানি প্রবাহ না থাকায় কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হতেন। খালটি পুন:খননের ফলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় জলাবদ্ধতা কমে আসবে।




