মনিবুর রহমান চৌধুরী, (পত্নীতলা) নওগাঁ : নওগাঁর পত্নীতলায় কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা কেউ একা বা কেউ দলবদ্ধভাবে মাঠে ধান কাটছেন। এবারে বৃষ্টির পানি কম হওয়ায় খাল বিল পুকুর না ভরলেও আমন ক্ষেতের উঁচু জমিগুলোতে কিছুটা সমস্যা হলেও নিচু জমিগুলোতে কোন সমস্যা হয়নি। তবে মৌসুমের শেষ সময়ের বৃষ্টিতে ধানে কিছুটা পোকার আক্রমন হলেও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের একান্ত সহযোগীতায় ওই সমস্যা কাটিয়ে উঠে বাম্পার ফলনের আশাবাদী অত্রাঞ্চলের কৃষকরা। তবে ধানের বর্তমান বাজার মূল্য নিয়ে তাঁরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় চলতি আমন মৌশুমে ২৬ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। বর্ষার শুরুতে এলাকায় কম বৃষ্টিপাত ও শেষের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় কিছুটা পোকার আক্রমন সহ অত্রাঞ্চলের উঁচু জমিগুলো নিয়ে কৃষকরা কিছুটা হতাশায় পড়লে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপÿের ডিপটিউবয়েল গুলো চালু করে পানি সমস্যা কাটিয়ে তোলে। অপরদিকে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের একান্ত সহযোগীতায় পোকার সমস্যা কাটিয়ে উঠে এখন বাম্পার ফলনের আশাবাদী অত্রাঞ্চলের কৃষকরা।
কৃষকরা এবারে লক্ষমাত্রার ধান পেয়ে খুশিতে কেউ কেউ আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা কেউ একা বা কেউ দলবদ্ধভাবে মাঠে ধান কাটছেন। এ বছর আগাম জাতের সুমন স্বর্ণা ধান বিঘা প্রতি ১৫/১৬ মণ হারে এ ধান আবাদ হয়েছে। এই ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে তারা সরিষা, আলু সহ অন্যান্য আবাদের জন্যও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
তবে এবারে কৃষকরা আমনের বাম্পার ফলনের আশাবাদী হলেও ধানের বাজারদর নিয়ে তারা কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। এব্যাপারে উপজেলার গাহন গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান, আকাই মন্ডল, সাদেক হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, সুমন স্বর্ণা ধান বর্তমানে বাজারে ৬শ থেকে ৬শ ৫০ টাকা মণ হিসাবে বিক্রয় হচ্ছে। তবে বাজারে ধানের আমদানি বৃদ্ধি পেলে বর্তমান দাম আরও কমতে পারে বলেও তারা মনে করেন। তারা বলেন, এবারে ধানের বাম্পার ফলন হলেও উৎপাদন খরচ তুলতে প্রতিমণ ধান ন্যূনতম ৭শ ৫০ টাকা থেকে ৮শ টাকা হলে তাদের জন্য ভালো হতো।




