আরিফ মাহমুদ, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরার কলারোয়ার আইচপাড়ার দুই উপজেলার চলাচলের অনুপযোগী একমাত্র সংযোগ সড়কটি এলাকার যুবসমাজ নিজেদের অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেহালদশা রাস্তাটি ইট দিয়ে সংস্কার ও মেরামত করেছে। কর্দমাক্ত ও চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগি কাঁচা রাস্তাটিতে ইটের খোয়া দিয়ে সংস্কর করায় জনদূর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেল ওই এলাকাবাসী। স্থানীয় যুবকদের ব্যতিক্রমধর্মী ওই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকার ভুক্তভোগি হাজারও মানুষ।
সম্প্রতি ‘আইচপাড়ার দুই উপজেলার সংযোগ রাস্তাটি পাকা করনের দাবি’ শীর্ষক শিরোনামে রাস্তাটি নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা কোন উদ্যোগ না নিলেও স্থানীয় উদ্যমী কয়েকজন যুবক নড়েচড়ে বসে। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত প্র”েষ্টা ও উদ্যোগে তারাই ইট ও খোয়া ফেলে বেহাল রাস্তাটি সংস্কার করে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আইচপাড়া গ্রামের ওই রাস্তাটি ওই এলাকার সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিপাতে এক কিলোমিটারের মতো ওই কাঁচা রাস্তাটি হাটু সমান কাদা থাকতো। দুই উপজেলার সংযোগকারী এক কি.মি সেই বেহালদশা রাস্তাটি চলাচলে অনুপযোগী থাকায় ১২/১৩ কি.মি রাস্তা ঘুরতে হতো। আর এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তারা এগিয়ে না আসলেও থেমে থাকেনি দামাল ছেলেদের প্রচেষ্টা। এগিয়ে এসেছে ওই এলাকার ছইলদ্দিনের নেতৃত্বে আইচপাড়ার সাধারণ বেকার যুবকেরা। কয়েকদিন পূর্বে পত্রিকায় ‘আইচপাড়ার দুই উপজেলার সংযোগ রাস্তাটি পাকা করনের দাবি’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই গ্রামের কতিপয় যুবক নিজেদের উদ্যোগে রাস্তায় ইট দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করায় পথচারীদের দূর্ভোগ লাঘব হয়েছে। ওরা বেকার তাতে হয়েছে কি- ওদের আছে উদ্যম, সাহস ও বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা। ওদের আছে সদিচ্ছা। বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট লিখেছিলেন ‘পৃথিবীর সব অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করা যায় যদি থাকে সদিচ্ছা’। কান্টের সেই উদ্ধৃতি বাস্তবে প্রমাণ করলো আইচপাড়ার কয়েকজন যুবক। তবে রাস্তাটি পূর্ণপাকা করণের জন্য দুই উপজেলার হাজারও মানুষের প্রানের দাবি সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।




