শ্যামলবাংলা স্পোর্টস : নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪ সপ্তাহ ধরেই দাপটের সঙ্গে খেলেছে বাংলাদেশ। ২ টেস্টে দুর্দান্ত খেলে কৃতিত্বপূর্ণ ড্রয়ের পর ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ। তবে শেষ ম্যাচে একমাত্র টি- ২০তে হেরে গেল স্বাগতিকরা। কারণ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এই ফরম্যাটের ক্রিকেটের সঙ্গে অনভ্যস্ততার কথাই বার বার সামনে আনলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

টোয়েন্টি টোয়েন্টিতে জিততে না পারার কারণ…..
আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করতে পারিনি। পাওয়ার প্লেতে অনেক বেশি রান দিয়েছি। সব মিলিয়ে আমরা আমাদের যে টার্গেট ছিল তার চেয়ে ২০ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি। তাদেরকে যদি ১৮০-১৮৫ রানের মধ্যে আটকাতে পারতাম, তাহলে খেলাটি অন্য রকম হতে পারত। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, টি-২০তে আমরা এখনও খুব ভালো দল হইনি। অনেক জায়গা আছে যেখানে উন্নতি দরকার। আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা অনেক টি-২০ ম্যাচ খেলব। কারণ ৪/৫ মাস পর পর দু’একটি টি-২০ ম্যাচ খেলবেন আর জিতে যাবেন- এটা খুবই কঠিন।
দুই দলের খেলার ধরন প্রসঙ্গে…..
যতই ভালো ক্রিকেট খেলেন না কেন, টি-টোয়েন্টিতে ৫/৬ ওভারে ৮০ রান দিয়ে দিলে সেখান থেকে ফেরা কঠিন। ওরা ব্যাটিংয়ে আমাদের একটি সুযোগও দেয়নি। আমাদের পাওয়ার প্লের বোলিং পরিকল্পনা করতে পারিনি। আর আমাদের ব্যাটিং দেখে বলতে পারেন আমরা অনেক ফাইট করেছি। কিন্তু এটা অস্বাভাবিক ব্যাটিং। এভাবে খেললে আমরা কখনোই জিততে পারব না। ওরা কিন্তু ধুমধাড়াক্কা খুব মেরেছে, তা নয়। হিসাব করে শান্ত থেকে খেলেছে। আমরা যত খেলব তত শিখব এটা। আমাদের তো অন্তত: খেলার সুযোগটা দিতে হবে। যদি প্রতি বছরে এক-দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেন, তাহলে কখনোই শিখতে পারবেন না।

আরও বেশি টোয়েন্টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা নিয়ে…..
টেস্ট সিরিজ খেলতে গেলে সব সময়ই যে টেস্ট নিয়েই পড়ে থাকব, তা কিন্তু না। টি-২০ ম্যাচে ভালো করার জন্য এ ধরনের ম্যাচ বেশি বেশি খেলতে হবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়েই শুধু ভাবলে হবে না। তার আগে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলা আছে, এশিয়া কাপ আছে। তবে আমার মনে হয় আমাদের টি-২০ আরো বেশি খেলা উচিত যাতে আমরা বুঝতে পারি, কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে খেলতে হবে।
নিজে পারফর্ম করেও উদ্যাপন না করা প্রসঙ্গে…..
পারফর্ম করলে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। তবে এটা প্রকাশের অনেকের অনেক রকম স্টাইল থাকতে পারে। আমার যে উদ্যাপন করতে ইচ্ছে করে না, তা নয়। তবে অনেক সময় পরিস্থিতি সে রকম থাকে না। প্রথম ওয়ানডেতে আমি যে পরিস্থিতিতে আউট হয়েছিলাম, ৯০ কেন আমি দেড় শ রান করে আউট হলেও খারাপ লাগত। কারণ ওই সময়ে আমার আউট হওয়া উচিত ছিল না। আজও ওই সময়ে আউট না হলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। আমি যদি আরও ৫ টা ওভার খেলতে পারতাম! তবে অন্য কোনো উপায় ছিল না। কারণ ওভারে তখন সাড়ে ৯ রান করে দরকার ছিল।
পাওয়ার প্লের ব্যাটিং সম্পর্কে…..
পাওয়ার প্লেতে আমরা যে রকম ব্যাটিং করেছি এটা কখনোই টি-২০ ব্যাটিং না। ৩ উইকেট পড়ার পর আমরা অন্ধের মতো ব্যাট চালিয়েছি। প্রত্যেক বলে চালাতে থাকব, এটা তো আমারও স্বভাব না, নাঈম ভাইয়েরও স্বভাব না বা আমাদের কোনো ব্যাটসম্যানেরই স্বভাব না। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল পাওয়ার প্লেতে যত বেশি রান করা যায়। তার পরও রান ঠিক ছিল কিন্তু বেশি উইকেট পড়ে গেছে। শেষ দুই ওভারে যদি আমি বা রিয়াদ ভাই বা সেট ব্যাটসম্যানদের কেউ থাকত তাহলে দুই ওভারে ২০ রানও তাড়া করে ফেলতাম।
দর্শকদের নিয়ে…..
যত দর্শক হবে, তত খেলোয়াড়েরাও খেলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে এবং দর্শকরাও আনন্দ পাবে। আশা করব, ভবিষ্যতে তারা এভাবেই সমর্থন জানাবে। আমরাও এভাবে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলব।




