কৃষি, খাদ্য ও শষ্য সমৃদ্ধ অঞ্চল শেরপুরে অন্যান্য ফসল চাষের পাশাপাশি মটরশুঁটি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। চলতি বছর জেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে মটরশুঁটির আবাদ হয়েছে। খরচ কম ও লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে এই ডাল জাতীয় ফসলের চাষ। উন্নত জাতের মটরশুঁটি রোপণের ৮০ থেকে ৯০ দিন পর ফসল সংগ্রহ করা যায়। বিঘাপ্রতি ফলন হয় ৪০ থেকে ৫০ মণ। বাজারে প্রতি মণ মটরশুঁটি বিক্রি হয় ২৮শ থেকে ৩ হাজার টাকায়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ডাল জাতীয় ফসল চাষে খরচ কম হয়। এছাড়া একই জমিতে এক ফসল বারবার চাষ করলে জমির উর্বরতা হারিয়ে ফসল উৎপাদন কম হয়। এতে একদিকে যেমন ফসলের ফলন কমে অন্যদিকে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নানা পরামর্শসহ নতুন নতুন ফসল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গেলে কথা হয় শেরপুর সদর উপজেলার চরখারচর গ্রামের কৃষক আল-আমিনের সাথে। তিনি জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবার এক বিঘা জমিতে মটরশুঁটি চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় খরচ বাদ দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভের আশা করছি।

শেরপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ আনোয়ার বলেন, মটরশুঁটি চাষে সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ আমরা কৃষি বিভাগ থেকে দিয়ে যাচ্ছি। আগামীতে টমেটো, সরিষা ও ভুট্টার পাশাপাশি অল্প দিনের ফসল হিসেবে মটরশুঁটি চাষে কৃষকরা ব্যাপক হারে প্রস্তুতি নিয়েছে। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় আগামী মৌসুমে মটরশুঁটি চাষ আরও বাড়াবে বলে আশা করছেন এ কৃষি কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা কৃষকদের এই সম্ভাবনার ফসলটি চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এছাড়া চর অঞ্চলের একটি প্রকল্প রয়েছে, তার মাধ্যমে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছি। আশা করছি, এতে করে কৃষকরা লাভবান হবেন।




