সারা দেশে জঘন্যতম বেশ কয়েকটি শিশু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অপরাধীদের ইতোমধ্যে আদালত সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে। এখন শুধু কার্যকরের অপেক্ষা। তারপরও শিশু হত্যাকান্ড ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দিনকে দিন বেইে চলছে। গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচাইতে আলোচিত ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের মধ্যে একটি হল শেরপুরের আরাফাত ইসলাম রাহাত (৮) হত্যা। শিশু আরাফাত ইসলাম রাহাত হত্যার ঘটনায় শেরপুরের সর্বস্তরের মানুষ বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। সোচ্চার সকল মানুষের দাবি ছিল প্রকৃত খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাসির রায় কার্যকর করা। চাঞ্চল্যকর ওই শিশু হত্যার মামলাটির বিচার কার্য প্রায় শেষের দিকে। আদালত আগামী ২৯ মার্চ ওই মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছে। প্রায় ৮ মাস সময়ের মধ্যে মামলাটির রায় হতে যাচ্ছে।
গত বছরের ২ আগস্ট দুপুরে শেরপুর শহরের শিববাড়ি এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম খোকনের ছেলে এবং স্থানীয় বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাতকে তার আপন খালু আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের ৬ দিন পর ৮ আগস্ট দুপুরে নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড় থেকে অপহৃত শিশু রাহাতের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত রাহাতের খালু লতিফসহ অপর তিন আসামী রবিন মিয়া, আসলাম বাবু ও ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮/৩০ ধারা এবং তৎসহ দঃবিঃ ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় ২৯ নবেম্বর লতিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠালে ৩ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাষ্ট্রপক্ষের ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে সকলের জবানবন্দি-জেরা গ্রহণ করা হয়। ২০ মার্চ রবিবার বিকেলে যুক্তিতর্ক শেষে ২৯ মার্চ ওই মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ সায়েদুর রহমান খান।
সারাদেশে কাছাকাছি সময়ে একের পর এক বেশ কয়েকটি শিশু হত্যাকান্ডের ঘটনা জাতিকে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ওই অবস্থায় শেখ হাসিনার সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতায় বেশ কয়েকটি মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে রায় ঘোষিত হওয়ায় শিশুহত্যা ও শিশু নির্যাতন পুরোপুরি রোধ করা না গেলেও কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। সমাজে আর কোন শিশু যেন নির্মম নির্দয় হত্যাকান্ডের শিকার না হয়, সে উদ্দেশ্যেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা সদয় থাকবে এবং শিশু রাজন ও রাকিব হত্যাকান্ডের মতো রাহাত হত্যাকান্ডের স্বীকৃত খুনীদেরও সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হোকÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।




