• সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শ্রীবরদীতে নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন নালিতাবাড়ীতে পুলিশের আনন্দ উৎসব উদযাপন নালিতাবাড়ীতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন শাকিবের নতুন লুক নজর কাড়ল সিনেমাপ্রেমীদের ঝিনাইগাতীতে পুলিশের উদ্যোগে ৭ মার্চ উদযাপন ৭ মার্চ উদযাপন ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্তিতে শ্রীবরদীতে পুলিশের আনন্দ উৎসব জামালপুরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেরপুরে ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে পুলিশের আনন্দ উৎসব রমজানে বাজার স্বাভাবিক রাখতে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেল আমদানি করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান

উৎসর্গের চরম পরাকাষ্টা প্রদর্শনের নাম ‌’কুরবানী’ : ড. আবদুল আলীম তালুকদার

প্রতিবেদকের নাম / ৯৩১ বার পঠিত
প্রকাশকাল : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

dr. Abdul Alimমুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম ঈদুল আয্হা। সেদিন যেসব কার্যাবলী সম্পন্ন করা ওয়াজিব হিসাবে গণ্য তার মধ্যে প্রধান হলো কুরবানী। কুরবানী শব্দের অর্থ নৈকট্য, ত্যাগ, উৎসর্গ অর্থা আল্লাহ্ তায়ালার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে প্রিয়বস্তু ত্যাগ ও উৎসর্গ করা। কুরবানীকে আরবি ভাষায় ‘উয্হিয়্যা’ বলা হয়। ‘উয্হিয়্যা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল, ঐ পশু যা কুরবানী তথা ঈদের দিন যবেহ্ করা হয়। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পশু যবেহ্ করাকে কুরবানী বলা হয়। আরো স্পষ্ট করে বললে বলা যায়, আল্লাহ্ পাককে রাজী ও খুশি করার উদ্দেশ্যে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে ১০ যিলহজ্জ হতে ১২ যিলহজ্জ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে গৃহপালিত হালাল পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করাকে কুরবানী বলে। এই তিন দিনের যে কোন দিন কুরবানী করা জায়িয। তবে প্রথম দিন কুরবানী করা সর্বাপেক্ষা উত্তম। যিলহজ্জের ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পর কুরবানী করা দুরস্ত নয়। কুরবানী করতে হয় উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি গৃহপালিত হালাল, সুস্থ ও সবল পশু দ্বারা।
নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্যের সমপরিমান) মালের মালিক সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব। অর্থাৎ যদি কোন জ্ঞান সম্পন্ন, প্রাপ্ত বয়স্ক, মুকীম (মুসাফির নয় এমন ব্যক্তি) ১০ যিলহজ্জ ফজর হতে ১২ যিলহজ্জ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য যাকাতের নিসাবের মত সম্পদের এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। বরং যে অবস্থায় সাদ্কায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় ঐ অবস্থায় কুরবানীও ওয়াজিব হয়। নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী করা ওয়াজিব। সন্তানের পক্ষ থেকে পিতার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। তবে পিতা যদি নিজের মাল হতে নাবালিগ সন্তানের পক্ষ হয়ে কুরবানী করে তাহলে তা নফল হিসাবে গণ্য হবে।
নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ব্যক্তির উপর শুধুমাত্র একটি কুরবানী ওয়াজিব। একাধিক কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। ঐ ব্যক্তি যতই সম্পদশালী হোক না কেন। অবশ্য এরপরও যদি কেউ একাধিক কুরবানী করে তবে তাতে সে অতিরিক্ত সাওয়াব লাভ করতে পারবে। ঋণ করে কুরবানী করা দুরস্ত নয়, এহেন অবস্থায় যখন কোন ব্যক্তির উপর কুরবানীই ওয়াজিব নয় তখন অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়ে কুরবানী করার কোন প্রয়োজন নেই। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়িজ। আর এতে সে অধিক সাওয়াবের অধিকারী হবে। এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কুরবানী করাও বিশেষ সাওয়াবের কাজ।
কুরবানী আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অতুলনীয় নিষ্ঠা ও অপূর্ব ত্যাগের পূণ্যময় স্মৃতি বহন করে। কুরবানী দ্বারা মুসলিম মিল্লাত ঘোষণা করে যে, আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য তারা জানমাল সবকিছু কুরবানী করতে প্রস্তুত। কুরবানীর নজিরবিহীন ত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করে মুসলমানগণ আল্লাহ্র দরবারে শপথ করেন যে, হে আল্লাহ্! আমাদের জান-মাল, জীবন-মৃত্যু তোমারই জন্য উৎসর্গিত। তোমার সন্তুষ্টির জন্য আমরা যেভাবে পশু কুরবানী করছি, তেমনিভাবে আমাদের জীবন উৎসর্গ করতেও কুন্ঠিত হব না।
কুরবানী করতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে। তবে দম্ভ-অহংকার বা গর্বের মনোভাব নিয়ে নয়। আল্লাহ্ তায়ালা সূরা হজ্জের ৩৭নং আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিকট সেগুলোর (কুরবানীর পশুর) গোশ্ত এবং রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, পৌঁছায় শুধু তোমাদের তাক্ওয়া।’ মানুষের মধ্যে যেমন মনুষ্যত্ব আছে, তেমনি পশুত্বও আছে। কুরবানীর অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে কুরবানীর মাধ্যমে পশুত্বকে হত্যা করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে তোলা।
মুসলিম সমাজে কুরবানী প্রচলনের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। আল্লাহ্ পাকের আদেশে একদিন হযরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা এবং তাঁদের বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র শিশুপুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে মক্কায় তখনকার দিনে লুপ্ত কা’বার নিকটবর্তী জনমানব শূন্য মরুভূমিতে রেখে চলে যান। আল্লাহ তা’য়ালা অপার করুণায় তাঁরা নিরাপদে থাকেন।
ইসমাঈল (আ.) যখন কিশোর বয়সে উপনীত, তখন ইব্রাহীম (আ.) তাঁদের দেখতে এলেন। এবার তিনি এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হলেন। তিনি স্বপ্নে দেখলেন, আল্লাহ তাঁকে আদেশ করছেন প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কুরবানী করতে। একই স্বপ্ন দেখলেন বারবার। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পুত্রকে কুরবানী করতে মনস্থির করলেন। তিনি তাঁর স্বপ্নের কথা পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে জানিয়ে বললেন, “হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখলাম আমি তোমাকে যবেহ্ করছি। এখন তোমার অভিমত কী বলো।” উত্তরে ইসমাঈল (আ.) বললেন, “হে আমার পিতা, আপনি তাই করুন, যা আপনাকে আদেশ করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ্ আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” (সূরা আস্-সাফ্ফাত, আয়াত: ১০২)
ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর প্রতি তাঁর পুত্রের এমন আনুগত্য, নিষ্ঠা ও সাহসিকতাপূর্ণ উত্তরে খুশি হলেন। তিনি প্রাণপ্রিয় পুত্রকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করতে তার গলায় ছুরি চালালেন। পূত্র ইসমাঈলও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য শাণিত ছুরির নিচে মাথা পেতে দিলেন। এবারের কঠিন পরীক্ষায়ও পিতা-পুত্র উত্তীর্ণ হলেন। আল্লাহ তা’য়ালা ইবরাহিম (আ.)-এর কুরবানী কবুল করলেন এবং ইসমাঈলকে প্রাণে রক্ষা করলেন। তাঁর পরিবর্তে অলৌকিকভাবে একটি দুম্বা কুরবানী হয়ে যায়।
আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাঈল (আ.)-এর অপরিসীম আনুগত্য ও অপূর্ব ত্যাগের ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য এবং মুসলিমদের ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত করার জন্য তখন থেকেই কুরবানীর প্রচলন শুরু হয়। চিরকালের জন্য মানবসমাজে এটি একটি পবিত্র ধর্মানুষ্ঠানরূপে প্রতিষ্ঠিত।
কুরবানীর প্রকৃত তাৎপর্য হলো, ত্যাগ, তিতীক্ষা ও প্রিয়বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। বস্তুত মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম কুরবানী হলো হযরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কুরবানী। এ সম্পর্কে কুরআন মজীদের সূরা মায়িদার ২৭নং আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শোনান, যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো এবং অন্যজনের কুরবানী কবুল হলো না।”
এ কুরবানীর বিধান যুগে যুগে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ সমস্ত শরীয়তেই বিদ্যমান ছিল। কুরআন মজীদের সূরা হজ্জের ৩৪নং আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি যাতে আমি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি সেগুলোর উপর তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।”
মূলত: প্রচলিত কুরবানী হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর পূত্র কুরবানী তথা তাঁর এই অপূর্ব আত্মত্যাগের ঘটনারই স্মৃতিবহন করে। এ অবিস্মরণীয় ঘটনাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্যেই উম্মাতে মুহাম্মদীর উপরও তা ওয়াজিব করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সূরা কাউসারের ০২নং আয়াতে ইরশাদ করেন, “সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।”
আমলে সালেহা তথা নেক্ আমল সমূহের মধ্যে কুরবানী একটি বিশেষ আমল। এ কারণেই মহানবী (সা.) সব সময় কুরবানী করেছেন এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী বর্জনকারী ব্যক্তির প্রতি তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। কেননা ইব্নে মাজাহ্ শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।
অপর এক হাদীসে আছে, হযরত যায়িদ ইব্নে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) কে একদিন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কুরবানী কী? তিনি বললেন, ইহা তোমাদের জাতির পিতা ইব্রাহীম (আ.)-এর সুন্নাত। তারা (আবার) বললেন, এতে আমাদের কি কল্যাণ নিহিত আছে? তিনি বললেন: কুরবানীর পশুর প্রত্যেকটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে। তারা পুণরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ছোট্ট বক্রীর পশমেও কি তাই? জবাবে তিনি বললেন, বক্রীর প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকি আছে।
কুরবানীর এ ফযিলত হাসিল করতে হলে প্রয়োজন ঐ আবেগ, অনুভূতি, প্রেম, ভালোবাসা ও ঐকান্তিকতার; যে আবেগ, অনুভূতি, প্রেম-ভালোবাসা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে কুরবানী করেছিলেন আল্লাহর প্রিয় বন্ধু হযরত ইব্রাহীম (আ.)। কেবল গোশ্ত ও রক্তের নাম কুরবানী নয়। বরং আল্লাহর রাহে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার এক দৃপ্ত শপথের নাম কুরবানী। প্রকৃতপক্ষে কুরবানীদাতা কেবল পশুর গলায় ছুরি চালায় না বরং সে তো ছুরি চালায় সকল প্রবৃত্তির গলায় আল্লাহর প্রেমে পাগলপরা হয়ে; এটিই কুরবানীর মূল নিয়ামক। এ অনুভূতি ব্যতিরেকে কুরবানী করা হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আ.)-এর সুন্নাত পালন নয়, বরং এটা একটি প্রচলিত প্রথা মেনে চলা মাত্র। এতে গোশ্তের ছড়াছড়ি হয় বটে কিন্তু ঐ তাক্ওয়া হাসিল হয় না; যা কুরবানীর প্রাণশক্তি। এ মর্মে কুরআনে পাকের সুরা হজ্জের ৩৭নং আয়াতে আল্লাহ্ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, “আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না এর গোশ্ত ও রক্ত, পৌঁছায় তোমাদের তাক্ওয়া।”
বস্তুত: যে কুরবানীর সাথে তাক্ওয়া এবং আবেগ-অনুভূতির সম্পর্ক নেই, আল্লাহর দৃষ্টিতে সেই কুরবানীর কোন মূল্য নেই। আল্লাহর নিকট ঐ (কুরবানী) আমলই গ্রহণযোগ্য, যা প্রেরণা দেয় তাক্ওয়াবান হতে এবং যার মাধ্যমে বান্দা তার সকল প্রবৃত্তিকে পশুর মতো কুরবানী করে আল্লাহ্র রাহে নিজেকে সমর্পিত করতে পারে।
লেখক : কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও বিসিএস (সা.শি) ক্যাডার কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “উৎসর্গের চরম পরাকাষ্টা প্রদর্শনের নাম ‌’কুরবানী’ : ড. আবদুল আলীম তালুকদার”

  1. স্যার আমার খুব প্রিয়, স্যারের ক্লাস খুব উপভোগ করি। তিনার লেখা আমার ভালো লাগে। স্যারের দীর্ঘ আয়ী কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর