• সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শ্রীবরদীতে নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন নালিতাবাড়ীতে পুলিশের আনন্দ উৎসব উদযাপন নালিতাবাড়ীতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন শাকিবের নতুন লুক নজর কাড়ল সিনেমাপ্রেমীদের ঝিনাইগাতীতে পুলিশের উদ্যোগে ৭ মার্চ উদযাপন ৭ মার্চ উদযাপন ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্তিতে শ্রীবরদীতে পুলিশের আনন্দ উৎসব জামালপুরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেরপুরে ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে পুলিশের আনন্দ উৎসব রমজানে বাজার স্বাভাবিক রাখতে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেল আমদানি করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার চিরচেনা সুস্বাদু মৌসুমী ফল কদবেল

প্রতিবেদকের নাম / ১৩৩৮ বার পঠিত
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪

nandigram bogra- 03-01-14নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার কদবেলের আদি জন্মস্থান। বাংলাদেশের প্রাায় সর্বত্রই কদবেল জন্মে। প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফল গাছ জন্মাতে পারে। একটি পূর্ণ বয়স্ক কদবেল গাছে বছরে প্রায় ১০০০টি কদবেল হয়। প্রতিটি ফলের গড় ওজন প্রায় ২৫০-৩০০ গ্রাম। একটি কদবেল গাছ অনেকদিন বাঁচে। আগস্ট-নভেম্বর মাসে কদবেল পাকে। কদবেল অম্লমধুর মুখরোচক ফল। যা ছোট বড় সবার কাছেই প্রিয়। পাকা কদবেল মাখা সকলের প্রিয়। কদবেলের নাম শুনলেই জিভে পানি আসে। পাকা বেলের গন্ধে ঘর ভরে যায়। কদবেল একটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সুস্বাদু মৌসুমী ফল। আমাদের দেশের মৌসুমী ফলগুলো স্বাদে যেমন ভালো তেমনি পুষ্টিগত দিক থেকে কম নয়। মহিলা এবং শিশুদের প্রিয় একটি ফল কদবেল। কদবেল টক ও হালকা মিষ্টি স্বাদের।  আর এ ফলে রয়েছে প্রচুর ঔষধি গুণ। যা আমাদের মানব দেহকে নানাবিধ রোগ বালাই হতে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। কদবেলের ফল, পাতা, ছাল ও শাঁস ঔষধি হিসেবে ব্যবহার হয়। বাজারে এ ফলের চাহিদাও প্রচুর। এ বছর কদবেলের ফলন ভালো। প্রায় সব জায়গাতে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে কদবেল। ভ্যান গাড়িতে নিয়ে পাকা কদবেল বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। প্রতিটি কদবেলের মূল্য ১৫ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার ধুন্দার বাজারের কদবেল বিক্রেতা শ্যামল চন্দ্র উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাইকারি দরে কদবেল ক্রয় করে। তিনি বলেন, বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছ হিসেবে কদবেল কিনি । ৭০০ থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা করে এক গাছের সব কদবেল কেনা হয়। তারপর বিভিন্ন জায়গার বিক্রেতারা আমার নিকট থেকে কদবেল কিনে নিয়ে গিয়ে খুচরায় বিক্রি করে। লাভ ভালোই হয়। পল­ী গাঁয়ের চিরনেতা কদবেল লটকো,ডেউয়া,চালতা,তেতুল সহ বিভিন্ন প্রকার অসংখ্য ফল আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন গ্রামের ঝোপঝার কেটে তৈরী করা হচ্ছে বিভিন্ন কারখানা ও বাড়ী ঘর। ঝোপঝার কেটে ফেলায় হয়তোবা আর কিছুদিনের মধ্যে চিরনেতা এই সব ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এসব ফলের নাম শুধু বইয়ের পাতায় পাওয়া যাবে। তখন প্রজন্মের আনেকেই এসব ফল চিনতেও পারবেনা। ঝোপঝারে সারারণত মানুষ এ ফলের চারা গুলো পরিকল্পিত ভাবে রোপন করতো না। বাড়ির পাাশ্বে ঝোপঝাড়ে পতিত জায়গায় প্রাকৃতিক নিয়মে অথবা পশু পাখির বিষ্টা থেকে বীজবাহিত হয়ে এসব ফল গাছের জন্ম হতো। পরর্বতীতে ওই সব গাছের ফলই আমাদের রসনার স্বাদ যোগাতো । আগের দিনে গ্রাম জনপদে কদবেল গাছের দেখা মিললেও নির্বিচারের বৃক্ষ নিধনের ফলে বর্তমানে কদবেলের গাছ এখন আর চোখে পড়েনা। বর্তমানে দেশীয় ফলের গাছগুলো অধিকাংশ ব্যাক্তি মালিকানাধীন। আধুনিক যুগে অপ্রয়োজনীয় ও অলাভজনক মনে করে গাছের মালিকরা কদবেলের গাছ কেটে বিক্রয় করে দিচ্ছে। তাই ক্রমেই হাড়িয়ে যাচ্ছে চিরচেনা সুস্বাদু মৌসুমী ফল কদবেল । তাই এখনই সরকারী ভাবে কদবেল গাছ রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার চিরচেনা সুস্বাদু মৌসুমী ফল কদবেল”

  1. বাংলার ফল

    মো. রহমত উল্লাহ্

    রসে ভরা লাল লিচু আনারস জামরুল
    তাজা তাজা ফল খেতে গ্রামে আসে কামরুল।

    পাকা আম খেয়ে খুকি বলে- ‘ভারি মিষ্টি’
    কাঁঠালের কোয়া গুলো কী দারুন সৃষ্টি।

    আনার বা ডালিমের দানা গুলো টস টস
    আতা মেওয়া সফেদার কোয়া গুলো রস রস।

    কচকচে গোলা’জাম পেয়ারা ও পানিফল
    টক মজা তৈকর, টিপা- চুকা- আঁশফল।

    খরমুজ তরমুজ মনেহয় ভাই ভাই
    খেজুরের কমলার যেন কোন জুড়ি নাই।

    কামরাঙা লটকন করমচা কেউয়া
    জামবুরা জলপাই আরবরি ডেউয়া

    হরিতকি সাতকরা বিলম্বি বেতফল
    আমলকি আমড়া লেবু কুল গাবফল।

    ফুটি-বাঙি বেশি মজা চিনি দিলে সঙ্গে
    কচিতাল চালতার একই রূপ অঙ্গে।

    বারমাস পাওয়া যায় কলা পেঁপে নারিকেল
    খুব মজা শরবত গুড়ে দিলে পাকাবেল।

    কদবেল, বহেড়া, ডুমুর, ডেফল
    চাম্বুল, তেঁতু্ল, এ ফল সে ফল…

    নূনে-ঝালে গুনে ভরা টক্ ফল ভর্তা
    খেয়ে খুশি মেয়ে-ছেলে গৃহিনী ও কর্তা।

    দাঁতরাঙা পাকা জামে মুখ হয় রাঙ্গা
    বাংলার ফল খেয়ে দেহ-মন চাঙ্গা।<
    ————————

    [গত ০৪ জুন ২০১৬ তারিখের দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এই ছড়াটি পড়ে শিশুরা  বাংলার ৫২টি ফলের নাম শিখতে পারবে। তাই , যত পারুন , শেয়ার  করুন।]

    যোগাযোগ: অধ্যক্ষ, কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। ০১৭১১১৪৭৫৭০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর