• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English Hindi Hindi
শিরোনাম :
দেশে পৌঁছেছে ‘আকাশ তরী’ জাতীয় প্রেসক্লাবে সৈয়দ আবুল মকসুদের জানাজা অনুষ্ঠিত শেরপুরে সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত বিএনপি বলেছিল শেখ হাসিনা করোনার ভ্যাকসিন আনতে পারবেন না, এখন তারাই গোপনে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন, মতিয়া চৌধুরী শেরপুরে বহুমুখী পাটপণ্য তৈরি ও বিপণন বিষয়ক সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু শেরপুরে আইনগত সহায়তা প্রদান কর্মসূচির অগ্রগতি বিষয়ক সমন্বয় সভা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রাকিবকে ডিভোর্স দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছি: তামিমা নালিতাবাড়ীতে মধুটিলা ইকোপার্কের ২২৩ ধাপ সিঁড়ি উঠতে গিয়ে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীও সবসময় মাস্ক পরেন, আপনারাও সবসময় মাস্ক পরুন : শেরপুরে মতিয়া চৌধুরী

শেরপুর জেলার আবহমানকালের সাহিত্য সংস্কৃতির কথা : তালাত মাহমুদ

প্রতিবেদকের নাম / ৮০ সময় দর্শন
হালনাগাদ : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীমান্তকন্যা গারো পাহাড়ের সুষমামণ্ডিত, আদি ব্রহ্মপুত্রের উর্বর পলিমাটির সোঁদাগন্ধ মাখা আর আষাঢ়ে শ্রাবণে আসাম ও মেঘালয় ছুঁয়ে নেমে আসা রোধিচ পাবর্ত্যাশ্রুর সৌন্দর্যের নান্দনিক ঝর্ণাধারায় কাঁদাজল বিধৌত সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলে আকীর্ণ হাজার বছরের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারক, দেশের ছোট্ট সুন্দর ও প্রান্তিক জেলা শেরপুর অতি প্রাচীনকালে কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোগল সম্রাট মহামতি আকবরের শাসনামলে এই পরগনা ‘দশকাহনীয়া বাজু’ নামে পরিচিত ছিল। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে ভাওয়াল গাজীগণ ঈশা খাঁর বংশধরদের কাছ থেকে দশকাহনীয়া পরগনা দখল করে নেন। গাজী বংশের শেষ জমিদার বহুল আলোচিত ও সংসার ত্যাগী সাধক সিদ্ধপুরুষ শেরআলী গাজীর নামানুসারে দশকাহনীয়ার নামকরণ হয়-শেরপুর।
১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলায় উন্নীত হলে শেরপুর ময়মনসিংহের অন্তর্ভুক্ত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই শেরপুরে ফৌজদারী কোর্ট ও থানা স্থাপিত হয়। ময়মনসিংহ পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার একদিন আগে ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুন শেরপুর পৌরসভা স্থাপিত হয়। ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে শেরপুরে টেলিগ্রাফ অফিস এবং ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে মুন্সেফ কোর্ট চালু হয়। ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে শেরপুর ডিক্টোরিয়া একাডেমী, ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে সাপমারী হাইস্কুল, ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে চন্দ্রকোণা রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে শেরপুর জি.কে.স্কুল এবং ১৯১৯ সালে নালিতাবাড়ী হিরন্ময়ী উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে গড়জরিপার দূর্গ (১৪৮৬-১৪৯১), দরবেশ জরিপ শাহর মাজার, বার দুয়ারী মসজিদ, হযরত শাহ্ কামালের মাজার (১৬৪৪), শেরআলী গাজীর মাজার, কসবার মোগল মসজিদ, ঘাঘরা লস্কর বাড়ি মসজিদ, মাইসাহেবা মসজিদ, বিলুপ্ত নয়আনি জমিদার বাড়ি, আড়াইআনি জমিদার বাড়ি, পৌনে তিনআনি জমিদার বাড়ি, নালিতাবাড়ি রাণী সুতানলী দীঘী, নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা ইউনিয়নের বাছুর আলগা গ্রামে অবস্থিত “হযরত বুড়াপীর (রঃ) ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং- ১৭৫৪৯), নারায়ণখোলা গ্রামে হাজারবর্ষী বেড় শিমুলগাছ, পাঠাকাটার বিলুপ্তপ্রায় নীলকুঠি এবং রুণীগাঁয়ের গায়েবী মসজিদ (মতান্তরে সমাধি) উল্লেখযোগ্য।
১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি শেরপুর থানা থেকে মহকুমা এবং ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি জেলায় উন্নীত হয়। ১৩৬৩.৭৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট শেরপুর জেলা নকলা, নালিতাবাড়ি, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও শেরপুর সদর এই পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। পৌরসভা ৪টি। ইউনিয়ন ৫২টি। লোকসংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। শিক্ষার হার প্রায় ৫০ শতাংশ। অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, মৃগী, মালিঝি, ভোগাই, চেল্লাখালী, মহারশি প্রভৃতি নদ-নদী বিধৌত শেরপুর জেলায় রবি শস্যের পাশাপাশি প্রচুর ধান উৎপন্ন হয়। শেরপুরের উদ্বৃত্ত খাদ্য-শস্য দিয়ে দেশের মোট খাদ্য ঘাটতির ১৫% পূরণ হয়ে থাকে। জেলায় পাঁচ শতাধিক রাইস মিল রয়েছে। যোগাযোগের মাধ্যম একমাত্র সড়ক পথ। উল্লেখ্য, সেকালে ইংল্যান্ডের ডান্ডি এবং কলকাতার সাথে শেরপুর ও চন্দ্রকোণার সরাসরি নৌ-যোগাযোগ ছিল। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুন মঙ্গলবার বিকেলে এ জেলায় বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে যমুনা নদীর সাথে মিশে যায় এবং অসংখ্য দালানকোঠা, ঘর-বাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এতে শেরপুরের ভৌগোলিক মানচিত্রের পরিবর্তন ঘটে।
দেশের ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম তীর্থ পর্যটন কেন্দ্র শেরপুরের দীপ্ত অহঙ্কার ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ কেন্দ্র, সন্ধ্যাকুড়ার রাবার বাগান, নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক, রাবার ড্যাম এবং নাকুগাঁও স্থলবন্দর প্রকৃতিপ্রেমীদের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের খুব কাছাকছি নিয়ে যায়। বিশেষ করে গজনী অবকাশ কেন্দ্রের পাহাড়ের চূঁড়ায় স্থাপিত সুউচ্চ টাওয়ারের উপরে উঠলে যেমন ভাসমান মেঘের ছোঁয়া লাগে তেমনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বিস্তীর্ণ পার্বত্য অঞ্চল অবলোকন করা যায়। চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ আর দলবদ্ধ বুনোহাতির আনাগোনা সে এক অন্যরকম অনুভূতি।
শেরপুর প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি আর আন্দোলন সংগ্রামে গোটা ভারতবর্ষের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, আর আদিবাসী গারো, হদি, কোচ, হাজং, সাঁওতাল, বানাই, ডালুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ভূক্ত মানুষের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সেই প্রাচীনকাল থেকে আজোবধি সাদৃশ্য বর্তমান। হাজার বছরের সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারার সাথে সকল ধর্মের, সকল গোত্রের ও বর্ণের মানুষ একই কাতারে সামিল হয়েছে আপত্য স্নেহ আর অনাবিল ভালবাসায় আপ্লুত হয়ে।
যেসব মনীষীর অবিমিশ্র নীরব কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়ে শেরপুরের ঐতিহ্য স্ফীত হয়েছে, তাদের মাঝে জরিপ শাহ্, মজনু শাহ্ পাগল, টিপু শাহ পাগল, শাহ কামাল, শেখ কাদের ইয়েমেনী, শেখ বোরহানউদ্দিন, বুড়াপীর, ছাওয়াল পীর, খাজাবাবা ফরিদপুরীর নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এসব পীর-এ-কামেল, অলী-আওলিয়ার জন্ম ও আগমনে এতদাঞ্চলে শরিয়তী, মারেফতী, দেহতত্ত্ব, মুর্শিদী ও মরমী সঙ্গীতের মাধ্যমে ধর্মীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। একই সাথে সনাতন ধর্মালম্বীরাও নানা পূজা-পার্বনে যেসব উৎসবের আয়োজন করে তাতে সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষ বহুকাল পূর্ব থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দ উপভোগ করে আসছে। এছাড়া জারি, সারি, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি নানান উৎসবগীতি, পালাগান ও দলীয় সঙ্গীতে ভরপুর শেরপুরের লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি আবহমানকাল থেকেই এ অঞ্চলের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার চিত্ত-বিনোদনের অনন্য উপাদান হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে। পাশাপাশি হা-ডু-ডু, দাড়িয়াবান্ধা, ঘোড়দৌঁড়, নৌকা বাইচ, ষাঁড়ের লড়াই, লাঠিখেলা, ফুটবল, ভলিবল, ছি-কুৎ-কুৎ প্রভৃতি খেলার আজও জেলার সর্বত্র প্রচলন রয়েছে।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরপুর বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নানা ছলচাতুরী, প্রহসন আর বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ইংরেজ শাসকরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে দিয়ে ভারতে তাদের সাম্রাজ্যের সূচনা করে। শুরু হয় প্রায় দু’শ বছরের পরাধীনতার ঘৃণ্য ইতিহাস। সেইসাথে চলে ইংরেজ প্রভূত্বের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর সশস্ত্র সংগ্রামের শোণিতধারা। শেরপুরেও সেই আন্দোলন ও সংগ্রামের বহ্নিশিখা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে।
১১৭৬ বঙ্গাব্দে (১৭৬৯-৭০ খ্রি:) বাংলা এবং বাংলা সন্নিহিত প্রদেশগুলোতে এক তৃতীয়াংশ লোক দুর্ভিক্ষে মারা যায়। সে দুর্ভিক্ষ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর‘ নামে খ্যাত। ছিয়াত্তরের ভয়াবহ বিয়োগান্তক ও মর্মস্পর্শী মন্বন্তরের সময় অত্যাচারী ইংরেজ শাসক ও তাদের রাজস্ব আদায়কারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শেরপুরসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের দরিদ্র হিন্দু ও মুসলমান কৃষকরা বিদ্রোহ করেছিল। এ বিদ্রোহ প্রায় তিন দশক ধরে চলে। বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সন্যাসী ও ফকিররা। তাদের নেতাদের সাঝে প্রধান ছিলেন মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক। সন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চলে। ওয়ারেন হেস্টিংয়ের সময় থেকে লর্ড কর্ণওয়ালিশের সময় পর্যন্ত শেরপুরে ফকির ও সন্যাসীদের নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ও জমিদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় ফকির ও পাগলপন্থী নেতা টিপুশাহ ক্যাপ্টেন টমাসকে হত্যা করে শেরপুরে বাংলার প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং গড়জরিপায় রাজধানী স্থাপন করেন। উল্লেখ্য, সুসং দুর্গাপুর পরগনার পূর্ব প্রান্ত থেকে শেরপুর পরগনার পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত (দৈর্ঘ্যে ১০০ মাইল এবং প্রস্থে ৭০ মাইল) এই বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। টিপুশাহের নেতৃত্বে শেরপুরসহ সমগ্র উত্তর ময়মনসিংহে সংঘটিত গারো বিদ্রোহের পরিচালনায় ছিলেন শিবরাজ পাথ¦র ও ধুবরাজ পাথ¦র। এরা দুই ভাই শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ির সন্তান ছিলেন। ১৭৭১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ওয়াহাবী আন্দোলন, ১৮৪২ খ্রিষ্টাব্দের ফরায়েজী আন্দেলন, ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের সিপাহী বিদ্রোহ, ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কৃষক বিদ্রোহসহ ভারতবর্ষের অসংখ্য ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন, সংগ্রাম ও বিদ্রোহের সাথে শেরপুরের নাম ওঁৎপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ও ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে খোশ মামুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শেরপুরের কামারের চরে কৃষক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শেরেবাংলা এ, কে, ফজলুল হক তখন জামালপুর মহকুমার এসডিও ছিলেন। তিনি ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের কৃষক মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী এসময় শেরপুরে শিক্ষকতা করেন এবং গোপনে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে বৃটিশ বিরোধী আন্দেলনে সংগঠিত করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তবে তিনি বেশ কয়েক বার শেরপুরে আগমণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চলে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে নানকার বিদ্রোহ, ভাওয়ালী বিদ্রোহ, টঙ্ক আন্দোলন, মহাজন বিরোধী আন্দোলন, ইজারাদারী ও জমিদারী প্রথা বিরোধী আন্দোলন সংঘটিত হয়। শেরপুরের যেসব কৃতী সন্তান বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মাঝে বিপ্লবী রবি নিয়োগী (আন্দামান ফেরত), বিপ্লবী নগেন্দ্র চন্দ্র মোদক (আন্দামান ফেরত), বিপ্লবী আফসার আলী খান, বিপ্লবী মন্মথ দে, বিপ্লবী জ্যোৎস্না নিয়োগী, বিপ্লবী তুলশী বক্সী, বিপ্লবী বেলাপাল, বিপ্লবী দ্বীজেন্দ্র কিশোর মজুমদার, বিপ্লবী জলধর পাল, বিপ্লবী সচী রায় প্রমুখের নাম ইতিহাসে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছে।। এছাড়া চন্দ্রকোণার মোখলেছুর রহমান মুকুল, মোঃ কফিলউদ্দিন, আব্দুল হাকীম বাম রাজনীতির সাথে ওঁৎপ্রোভাবে জড়িত ছিলেন।
বিভিন্ন সরকারের আমলে শেরপুর জেলা থেকে মন্ত্রী হয়েছেন যথাক্রমে খোন্দকার আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুস সালাম, বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং আলহাজ্ব রেজাউল করিম হীরা। শ্রবরদী-ঝিনাইগাতী থেকে ২বারের নির্বাচিত এমপি ডা. সেরাজুল হক (১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।) পরবর্তীতে তার পুত্র মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল একই দল বিএনপি থেকে ৩বার এমপি নির্বাচিত হন। এরশাদ সরকারের শাসনামলে শেরপুরের তিনটি আসনের এমপি ছিলেন যথাক্রমে শেরপুর-১ শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ি) অধ্যাপক আঃ সালাম এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) খোন্দকার মোহাম্মদ খুররম। জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী (বিএনপি)। বর্তমানে দু’বারের হুইপ আতিউর রহমান আতিক, তিনবারের কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক চাঁন মহাজোট সরকারের জাতীয় সংসদ সদস্য। উল্লেখ্য, ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে এডভোকেট আনিসুর রহমান ও এমএ হাকিম এমএনএ নির্বাচিত হন। এমপি নির্বাচিত হন যথাক্রমে নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ডা: নাদিরুজ্জামান ও এডভোকেট আব্দুল হালিম। শেরপুর জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন খোন্দকার মুহাম্মদ খুররম এমপি।
তৎকালে শেরপুর জেলায় শিক্ষা বিস্তারে যারা আত্মনিবেদিত ছিলেন তাদের মাঝে পদার্থ বিজ্ঞানী ড. মোসলেহ উদ্দিন, রোহিনী কান্ত হোড়, অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল হান্নান, মোঃ ইউসুফ মিয়া, মৌলভী সৈয়দ আহমেদ, আলীম উদ্দিন আহমেদ, কুলুরঞ্জন গোস্বামী (চন্দ্রকোনা), আতাউর রহমান (আতর আলী মাষ্টার, নকলা), মাহবুবুর রহমান বিএসসি (চন্দ্রকোনা), আমজাদ হোসেন (নকলা), নগেন্দ্র চন্দ্র পাল (নালিতাবাড়ি) প্রমুখ। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনেও শেরপুরের বিশেষ অবদান রয়েছে। এ জেলায় অর্ধশতাধিক ভাষা সৈনিক রয়েছেন। শেরপুর জেলায় তালিকাভূক্ত ১৬৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বর্তমানে এর সংখ্যা বেড়েছে।
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্তির পর থেকে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অধিবাসীরা সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। এমনকি বাঙালিদের মাতৃভাষার উপরও আঘাত আসে। যে কারণে চির সংগ্রামী বাঙালী জাতি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলন, ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে গণ-অভ্যূথান এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধে পঙ্গপালের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসব আন্দোলন সংগ্রামে শেরপুরের মানুষ বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শেরপুর ও কামালপুরের রণাঙ্গণের বীরত্ব গাঁথা বিশ্ববাসীর কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। কামালপুরের যুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তাহের গুরুতর আহত হন এবং একটি পা হারান। শেরপুরে বেশ কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি ও গণকবর রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ঝিনাইগাতী আহম্মদনগর ও কয়া রোড বদ্ধভূমি, শেরপুর সদর উপজেলার ঝাউগড়া বধ্যভূমি ও নালিতাবাড়ির বিধবা পাড়া বধ্যভূমি। এছাড়া গণকবর ২টি ও স্মৃতি ফলক ২টি। শেরপুরে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন। এরা হলেন বীর বিক্রম (মরণোত্তর) শহীদ শাহ্ মোতাসিম বিল্লাাহ্ (খুররম), বীর প্রতীক জহুরুল হক মুন্সী ও বীর প্রতীক ডাঃ মাহমুদুর রহমান।
বাঁচার মত বাঁচা, সুন্দর করে বাঁচার নাম সংস্কৃতি। রাজনীতি সংস্কৃতির জন্যই। আন্দোলন-সংগ্রাম, বিদ্রোহ, যুদ্ধ-বিগ্রহ রাজনীতি থেকে উৎসারিত। জীবন ও রাজনীতি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। শেরপুরের সাহিত্য, সাংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার ইতিহাস অত্যন্ত পুরনো। প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যে শেরপুরের বুকে জন্ম গ্রহণকারী কবি ও সাহিত্যিকগণ যুগান্তকারী অবদান রেখে গেছেন। নতুন প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল কবি-সাহিত্যিকরাও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন।
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সাহিত্য ও সংস্কৃতির উৎকৃর্ষ সাধনকল্পে জমিদার হরচন্দ্র রায় চৌধুরী ও মহাপণ্ডিত চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোন্নতি সাহিত্য চক্র’। জমিদার হরচন্দ্র রায় চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘বিদ্যোন্নতিসাধিনী’ নামে একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। মহাপণ্ডিত চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার এ পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।
‘চারুপ্রেস’ নামে ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ববঙ্গের প্রথম মূদ্রণযন্ত্র স্থাপিত হয় শেরপুরে। এই ছাপাখানাকে ঘিরে সাহিত্য বিকাশের পাশাপাশি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রও তৈরী হয় শেরপুরের মাটিতে। জমিদার হরচন্দ্র রায় চৌধুরী সম্পাদিত “সাপ্তাহিক চারুবার্তা” পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে চারুপ্রেস থেকে। সাপ্তাহিক চারুবার্তা ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয়। ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘সাপ্তাহিক বিজ্ঞাপনী সংবাদ’ প্রকাশিত হয় শেরপুর বিজ্ঞাপনী প্রেস থেকে। জমিদার হরচন্দ্র রায় চৌধুরী ও জমিদার হরিকিশোর রায় চৌধুরী ‘সাপ্তাহিক বিজ্ঞাপনী সংবাদ’ পত্রিকার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। আর সম্পাদক ছিলেন শ্রী জগন্নাথ অগ্নিহোত্রী। তখনকার আমলে জমিদার হরচন্দ্র রায় চৌধুরী নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ‘হেমাঙ্গ লাইব্রেরি’। লাইব্রেরিতে প্রায় ৩০ হাজার বই ছিল। হরচন্দ্র রায় চৌধুরী বাংলা, সংস্কৃত, আরবী, ফার্সী ও ইংরেজী ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। তাঁর গ্রন্থাবলী-উপাসনোল্লাসিনী, শ্রীবৎস উপাখ্যান, শেরপুর বিবরণী, (১৮৭২) বংশানুচরিত, (১৮৮৬) জীবনের নশ্বরত্ব, শেরপুরের বংশাবলী, মানুষের মহত্ব, ভারতবর্ষীয় আর্যজাতির কর্মকাণ্ড ইত্যাদি। স্মর্তব্য, প্রথম পাগলপস্থী নেতা ও গারো বিদ্রোহের মহানয়াক টিপু শাহকে ‘লুই ব্ল্যাংক অব বেঙ্গল’ উপাধী দিয়ে জমিদার হরচন্দ্র রায় চৌধুরী মহান বিপ্লবীর ভূমিকা পালন করেন।
শেরপুর শহরের বাগরাক্সায় জন্ম গ্রহণ করেছিলেন মহাপণ্ডিত চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার। তিনি কলকতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ছাড়াও পাঞ্জাব ইউনির্ভাসিটির গভর্ণমেন্ট সংস্কৃত উপাধী পরীক্ষার পরীক্ষক এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল এর সদস্য পদের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সমূহে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ’সতী পরিণয়’ শিশুশিক্ষা ও প্রাথমিক পাঠশালাসহ ৩১টি গ্রন্থ রচনা করে গোটা বাংলা সাহিত্যে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন। পন্ডিত চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার বেদ শাস্ত্রের উপরও বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে শেরপুর থেকে বেশকিছু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। রামনাথ বিদ্যাভূষণের সংখ্যামতে শ্রী মদভগবত গীতার পদ্যানুবাদ। শেরপুরের জমিদার রায় বাহাদুর রাধাবল্লভ চৌধুরীর হরিনাম নিকুঞ্জ রহস্য গীতিকা, রাগানুগাদীপিকা, বিষ্ণুর দ্বাদশ যাত্রা পদ্ধতি ও শ্রী রাধা গোবিন্দের দ্বাদশ মহোৎসব পদ্ধতি। হরচন্দ্র তর্করত্নের উপদেশ শতকম, অত্রি সংহির্তা, হারিত সংহির্তা, বিষ্ণু সংহির্তার অনুবাদ। জমিদার হরগোবিন্দ লষ্করের রাবন বধ কাব্য ও দশাশ্বমেধ কাব্য। হিরন্ময়ী চৌধুরাণীর পুষ্পাধার। কিশোরী মোহন চৌধুরীর কুসুমকুরক কাব্যগ্রন্থ উল্লেখযোগ্য।
ময়মনসিংহ ও শেরপুর অঞ্চলে ব্রাহ্মধর্ম প্রচার কাজে নিয়োজিত থাকাকালে গীরিশ চন্দ্র সেন পবিত্র কোরআন শরীফ বঙ্গানুবাদ করেন। ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে কোরআন শরীফের বঙ্গানুবাদকৃত প্রথম পারা ছাপা হয় শেরপুরের চারুপ্রেস থেকে। অমর কথাশিল্পী মীর মোশাররফ হোসেনের বিখ্যাত বিষাদসিন্ধু গ্রন্থটিও প্রথম ছাপা হয় চারুপ্রেস থেকে ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে শেরপুরের বুকে জন্ম নিয়ে আবহমানকালের বাংলা সাহিত্যকে যারা সমৃদ্ধ করেছেন তাদের মাঝে বিজয় চন্দ্র নাগের নাগ বংশের ইতিবৃত্ত (১৯২৯) ফজলুর রহমান আজনবীর প্রেমের খনি ও ধর্মবান। করিম বক্সের চতুরঙ্গ কাহিনী। মুন্সি বসিরউদ্দিনের শাহাদতনামা এবং কুমার চৌধুরী ও জিতেন সেনের মত আরো অনেকে সাহিত্য চর্চায় আত্মনিয়োগ করে শেরপুরের লোকগাঁথা ও পুঁথি সাহিত্যকে বাংলা সাহিত্যের আসরে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। এছাড়া খালেকদাদ চৌধুরী রচিত শেরপুরের ঐতিহাসিক ঘটনা সম্বলিত নাটক- ‘রক্তাক্ত অধ্যায়’ অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনের শেরপুরের ইতিকথা (১৯৬৯) ও পন্ডিত ফসিহুর রহমানের শেরপুর জেলার অতীত ও বর্তমান (১৯৯০), সাপ্তাহিক শেরপুর এর সম্পাদক কবি আবদুর রেজ্জাকের আমাকে বলতে দাও (কাব্য), চলার পথে, বড় একা একা লাগে ও শেষ দেখা (উপন্যাস), সাপ্তাহিক চলতি খবরের সম্পাদক এডভোকেট জাকির হোসেনের বাংলার মানুষ (নাটক) সুনীল বরণ দের সর্বহারা (নাটক), মিনা ফারাহ’র জাহান্নাম বাড়ির ভূত, বনমালী তুমি পরজনমে হইও রাধা, নারীর জীবন যৌবন বার্দ্ধক্য ও উঠ’র ফাঁদে লোবান আলী, সাংবাদিক সুশীল মালাকারের পদ্মাবতী (উপন্যাস), সাদিকুর রহমানের ছাইকালা মেয়ে (উপন্যাস), তালাত মাহমুদের গ্রন্থাবলী স্বর্গের দ্বারে মর্তের চিঠি (১৯৭৫), গীতিলতিকা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৯) লোকহীন লোকরণ্য (২০০৪), সংবাদপত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত-উদাম গতরী ন্যাংটা বয়ান, নিয়ম ভাঙার নিয়ম, টাউট মুক্ত সমাজ চাই, শতাব্দীর শুরুতে বিপন্ন বিশ্ব, দ্বিতীয় চিন্তা তৃতীয় মত, হৃদয় থেকে নেয়া ইত্যাদি। নুরুল ইসলাম মনির কাব্যগ্রন্থ হাজার সুরের প্রতিধ্বনি (১৯৯০), তুমি (২০১৮), বিভা সরকারের ভালোবাসার ক্রীতদাস নই (কাব্য) মুখলেছুর রহমান ফকিরের রাখাল হলো রাজা (নাটক) অধ্যাপক আজিজুল হকের মানবীয় মতবাদ ও ইসলাম (গবেষণা) আবদুর রহমানের সুখ ঘাতক (উপন্যাস) শেরআলী গাজী (নাটক) রথী মহারথী (নাটক) উদয় শংকর রতনের নিসর্গের নীল খামে (কাব্য) মুকুল পাহাড়ীর গ্রন্থ ছাপ্পান্ন বছরের দুর্নাম, সহ কয়েকটি গ্রন্থ, মনিরুজ্জামান ফেরদৌসের সোনার হরিণ সুখ (উপন্যাস) আনছার আলীর শান্তির দেশ লিবিয়া (ভ্রমণ কাহিনী) অধ্যাপক ড. সুধাময় দাসের গবেষণা গ্রন্থ বাংলা উপন্যাসে জাতীয়তাবোধ, আনিছুর রহমান রিপনের কাব্যগ্রন্থ কষ্টে আছি প্রিয়তমা (১৯৯৬), রবিন পারভেজের কাব্যগ্রন্থ দৃশ্যের ওপাশে চিহ্নের আড়ালে (১৯৯৯) সাপ্তাহিক দশকাহনীয়ার সম্পাদক মুহাম্মদ আবু বকরের ক্ষয়িষ্ণু আব্রু (কাব্য ২০০৪) লুলু আব্দুর রহমানের ছড়ার বই লাল ঘোড়া টকবগ (১৯৯৮) ও ভূত পেত্নীর ছা (২০০২), খোরশেদ আলমের উপন্যাস উর্মির বুকে সাগর (২০০৭), মাসুদুজ্জামান উৎসবের ভালবাসা কেন কাঁদায় (উপন্যাস) হাদিউল ইসলামের কাব্য গ্রন্থ দুলোকালস্রোত (২০০৪), কোহীনূর রুমা’র কাব্যগ্রন্থ নীল উপাখ্যান (২০১২), দেলোয়ার হোসেনের কাব্যগ্রন্থ প্রথম ফুল (১০১২), অধ্যাপক আবু তাহের সম্পাদিত ওস্তাদ অবিনাশ গোস্বামী স্মারক গ্রন্থ (২০১২)।
এছাড়া শেরপুরে জন্ম গ্রহণ করে জাতীয় পর্যায়ে যারা বিশেষ অবদান রেখে গেছেন এবং এখনো রেখে যাচ্ছেন- তারা হলেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কালজয়ী সাংবাদিক, দৈনিক ইত্তেফাকের মঞ্চে নেপথ্যে কলামের স্পষ্টভাষী, রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী খোন্দকার আবদুল হামিদ, শিশুতোষ সাহিত্যিক প্রাবন্ধিক, রাজনীতিক ও রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আবদুস সুলতান, সাবেক মন্ত্রী ও গবেষক অধ্যাপক আবদুস সালাম, বাংলা একাডেমী পুরস্কার ও একুশে পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, বিটিভির সাবেক ডিজি আবদুল্লাহ আল-মামুন। দৈনিক সংবাদের সম্পাদক বজলুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমান রতন, সাপ্তাহিক তকবীরের সম্পাদক আজিজুর রহমান, সাপ্তাহিক নবজাগরণের সম্পাদক এডভোকেট আবুল কাশেম, গীতিকার শহীদুল হক, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও কবি ফেরদৌস পারভীন, চলচ্চিত্রকার ও অভিনেতা আজম ফারুক, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ও বিএফইউজে’র সাবেক নেতা, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, অধুনালুপ্ত দৈনিক অবজারভারের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক আশরাফ আলী, কবি সংঘ বাংলাদেশ ও জাতীয় সাহিত্য সংগঠন ‘লেকশি’র সভাপতি, ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে সাড়া জাগানো “জিলবাংলা সাহিত্য পুরস্কার” প্রাপ্ত ও বিলুপ্ত সাপ্তাহিক জনকন্ঠের প্রধান সহকারী সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক পূর্বকথা’র প্রধান সম্পাদক কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট তালাত মাহমুদ, কবি, ছড়াকার, গল্পকার ও প্রকাশক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, কবি সৈয়দ শওকত আলী, কবি শাহজাদী আঞ্জুমান আরা মুক্তি, কলামিষ্ট ও প্রাবন্ধিক বিরুপাক্ষ পাল, সাংবাদিক সুভাষ চন্দ্র বাদল, সাপ্তাহিক জীবন এর সম্পাদক অধ্যাপক আবদুর রউফ, কবি ও প্রাবন্ধিক ড. সৌমিত্র শেখর দে, কবি ও গীতিকার আসাদুজ্জামান, মোঃ হামিদুর রহমান, কবি আরিফ হাসান প্রমুখ।
শেরপুরের সাহিত্য জগতের অপরাপর কলম সৈনিকদের মধ্যে অধ্যাপক আবু তাহের, প্রফেসর মোঃ মজিবর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ শিক্ষক মহসীন আলী, মোস্তফা কামাল, মোস্তাক হাবীব, গঙ্গেশ চন্দ্র দে, রাধা বিনোধ দে, অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান (এডভোকেট), রনজিত নিয়োগী, রাজিয়া ছামাদ, জোবায়দা খাতুন, কাকন রেজা, দুলাল দে বিপ্লব, কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. আবদুল আলীম তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান (তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে), মোতাহার খালেদ, বৃতেন্দ্র মালাকার, বিজন চক্রবর্তী, কমল চক্রবর্তী, ক্ষমা চক্রবর্তী, শাহরিয়ার রিপন, মুগনিউর রহমান মণি, রফিকুল ইসলাম আধার (এডভোকেট), শিব শংকর কারুয়া, মলয় মোহন বল, হাফিজুর রহমান লাভলু, রবিউল আলম টুকু, রাবিউল ইসলাম, গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ভুট্টো, রবেতা ম্রং, জিয়াউল হক মুক্তা, শাহরিয়ার মিলটন, আব্দুর রফিক মজিদ, আইরিন আহমেদ লিজা, আতিয়া রহমান কনিকা, লতিফা হক শ্যামা, সন্ধ্যারায়, মোহাম্মদ নাছির, খন্দকার রাশেদুল হক, অনির্বান হারুন, শাহীন খান, খায়রুল ওয়ারা, শাহ আলম বাবুল, আছমা জামান, সাজ্জাদ মাহমুদ মমিন, হাসানুজ্জামান শরাফত, গীতিকার আজিজুর রহমান সরকার, মনিরুজ্জামান মনির, গীতিকার আজিজুল হক, কে এ নিউটন, জ্যোতি পোদ্দার, প্রাঞ্জল এম সাংমা, আইয়ুব আকন্দ বিদ্যুৎ, এমদাদুল হক রিপন, খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, শাহ আলম মঞ্জু, শ্যামল বণিক অঞ্জন, কামরুন নাহার জ্যোতি, মোস্তফা হোসাইন, মেহেদী আহসান, পলাশ আহম্মেদ, জান্নাতুল মাওয়া জেনী, স্বজন বিবাগী, রফিকুল ইসলাম, রত্নাকর, শিশু ছড়াকার হোসনে তানসেন মাহমুদ ইলহাম ও জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত শিশু কবি রাশিকা জান্নাত মারিয়া সহ আরও অনেক কবি-সাহিত্যিকের আবির্ভাবে শেরপুরের সাহিত্যাঙ্গন আজ মুখরিত। এছাড়া পল্ললীকবি হাছুর উদ্দিন ফকির (নকলা) কাহিনী কবিতা লিখে সাধারণ মানুষের ভালবাসা অর্জন করেন।
গত তিন যুগে শেরপুর থেকে অনেক সাহিত্যপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তন্মধ্যে অধ্যাপক আবু তাহের সম্পাদিত উত্তরণ, মহসীন আলী সম্পাদিত সঞ্চরণ, সুশীল মালাকার সম্পাদিত প্রবাহ, রবিন পারভেজের সম্পাদনায় মানুষ থেকে মানুষে ও রাঁ, আরিফ হাসানের সম্পাদনায় সাহিত্যলোক, সঞ্জীব চন্দ বিল্টু সম্পাদিত সাহিত্যপত্র বোধন, নকলা থেকে প্রকাশিত মরহুম কামরুজ্জামান মুকুল সম্পাদিত সাহিত্যাঙ্গন, মুগনিউর রহমান মনি সম্পাদিত সপ্তডিঙ্গা মধুকর, হাকিম বাবুল সম্পাদিত শেরপুর উপজেলা প্রোফাইল, কবি সংসদের মূখপত্র বালার্ক, নালিতাবাড়ী থেকে প্রকাশিত রুকুনুজ্জামান অঞ্জন সম্পাদিত মাসিক সংলাপ, শ্রীবরদী থেকে প্রকাশিত মাজিদুর রহমান শাহীন সম্পাদিত নোলক উল্লেখযোগ্য। এছাড়া জামালপুর ও শেরপুর জেলার সৃজনশীল সাহিত্য সময়িকী হিসেবে তালাত মাহমুদের সম্পাদনায় ‘আমরা তোমারই সন্তান’ ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। জেলার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও বিশেষ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে শেরপুরে প্রতিবছর কবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এছাড়া যুব সম্মেলন, নারী সম্মেলন এবং গণিত উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শেরপুর জেলায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে শেরপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিক অঙ্গনে পাতাবাহার খেলাঘর আসর, শেরপুর সাহিত্য সংসদ, কবি সংসদ বাংলাদেশ, কবি সংঘ, শেরপুর সাংস্কৃতিক সংসদ, অনুপ্রাস, চন্দ্রবিন্দু থিয়েটার, রূপান্তর থিয়েটার, মেহেদীডাঙ্গা খেলাঘর আসর, ইত্যাদি সংগঠন যথারীতি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে; সৃষ্টি হচ্ছে লেখক, কবি, নাট্যশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী ও নৃত্যশিল্পীর। সঙ্গীতে কানু সেন গুপ্ত, ওস্তাদ অবিনাশ গোস্বামী, বিজন ঘোষ, নিরঞ্জন দে, মরহুম আমিনুল রহমান নিঝু, ওস্তাদ আতিকুর রহমান, ওস্তাদ অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম, ওস্তাদ সঞ্চিতা হোড় দীপু, কন্ঠশিল্পী শফিকুর রহমান, ওস্তাদ মজিবর রহমান, মিউজিক ডিরেক্টর ওস্তাদ আমিনুল ইসলাম লোকন, গণসংগীত শিল্পী তপন সারওয়ার, গণ সংগীত শিল্পী নূর মোহাম্মদ, কন্ঠশিল্পী দেবাশীষ দাস মিলন, কন্ঠশিল্পী নির্মল কুমার দে, কন্ঠশিল্পী মুক্তি দত্ত, কন্ঠশিল্পী সুতপা দত্ত, কন্ঠশিল্পী স্বরলিপি দত্ত, কন্ঠশিল্পী সঞ্চিতা সাহা। নৃত্যে ওস্তাদ মোশারফ হোসেন, ওস্তাদ কমল কান্তি পাল, তবলায় উদয় শংকর সাহা, রতন সাহা এবং নাট্যকলায় শেরপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব লুৎফর রহমান মোহন, বিজন চক্রবর্তী, শিব শংকর কারুয়া, বিমল কর্মকার ও মালিক ফখরুদ্দিন (মরহুম), অর্নিবাণ হারুন এদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষণায় শেরপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রি এর সাবেক সভাপতি ও শেরপুর পৌরসভার তিনবারের মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, ইদ্রিস এণ্ড কোং (প্রাঃ) লিঃ এর চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস মিয়া, জে এন্ড এস গ্রুপের চেয়ারপারসন আলহা জয়নার আবেদীন, আমিন এন্ড কোং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাংবাদিক আলহাজ্ব মোঃ বজলুর রহমান এবং পাকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ হায়দার আলী বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
শেরপুর জেলায় একটি দৈনিক ও পাঁচটি সাপ্তাহিক পত্রিকা রয়েছে। তন্মধ্যে মোঃ আতিউর রহমান আতিক (এমপি) সম্পাদিত ‘সাপ্তাহিক কালের ডাক’ পত্রিকাটি সম্পূর্ণ রঙিন ও অফসেট পেপারে মৃদ্রিত হয়ে থাকে। মফস্বল শহর থেকে এধরনের পত্রিকার আত্মপ্রকাশ সত্যি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এছাড়া কবি আব্দুর রেজ্জাক সম্পাদিত সাপ্তাহিক শেরপুর, এডভোকেট জাকির হোসেন সম্পাদিত সাপ্তাহিক চলতি খবর, মোঃ আবু বকর সম্পাদিত সাপ্তাহিক দশকাহনীয়া, কাকন রেজা সম্পাদিত দৈনিক ঘটনা (বর্তমানে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ), জাহাঙ্গীর হোসেন খান সম্পাদিত দৈনিক তথ্যধারা এবং ডাঃ মিনা ফারাহ সম্পাদিত সাপ্তাহিক জয় নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। মোঃ মেরাজ উদ্দিন সম্পাদিত সাপ্তাহিক নতুন যুগ জামালপুর ও শেরপুর জেলার মূখপত্র হিসেবে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। শেরপুর জেলায় (উপজেলাগুলোসহ) স্বাধীনতাপূর্ব ও পরবর্তীকালে যারা সাংবাদিকতায় এসেছেন তাদের মাঝে শাহ এআর চৌধুরী (সুরুজ চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জামালপুর প্রেসক্লাব), সুনীল বরণ দে, বিপ্লবী রবি নিয়োগী, ভাষা সৈনিক হাবিবুর রহমান, গোলাম রহমান রতন, সুশীল মালাকার, অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান (এডভোকেট), মুক্তিযোদ্ধা তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু, ইমাম হোসেন ঠান্ডু (এডভোকেট), প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডভোকেট জাকির হোসেন, গোলাম মোস্তফা, শেরপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, রতন চৌধুরী, আবদুর রহিম বাদল (এডভোকেট), শেরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও শেরপুর জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ বজলুর রহমান, দেবাশীষ সাহা রায়, সঞ্জীব চন্দ বিল্টু, জিএম আজফার বাবুল, আমিরুজ্জামান লেবু, এডভোকেট শাহরিয়ার লিটন, মোঃ ছানাউল্লাহ, আনিছুর রহমান বাচ্চু, এসকে সাত্তার, শেরপুর জেলা সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুগনিউর রহমান মনি, হাকিম বাবুল, মোঃ সামেদুল ইসলাম তালুকদার, হাকাম হীরা, এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন, মোঃ হযরত আলী, শরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, ও সাবেক সম্পাদক কাকন রেজা, শেরপুর প্রেসক্লাবের কর্তমান সভাপতি শরিফুর রহমান ও সম্পাদক মোঃ মেরাজ উদ্দিন, গৌতম পাল, ে মাসুদ হাসান বাদল, শওকত জামান, আলহাজ্ব এম. এ. হাকাম হীরা, শাহরিয়ার মিল্টন, আব্দুর রফিক মজিদ, , আবদুল মান্নান সোহেল, আদিল মাহমুদ উজ্জল, মুক্সিতুর রহমান হীরা, সাবিহা জামান শাপলা, আবুল হাসেম, সুরুজ্জামান, এডভোকেট সুব্রত দে ভানু, আবু হানিফ, আনিসুর রহমান আকন্দ, জিএইচ হান্নান, সুমদ দে, ফুয়াদ হোসেন, মোশারফ হোসাইন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, মমিনুল ইসলাম সুমন, তৌফিকুর রহমান জুয়েল, মোশাররফ হোসেন সরকার, আলহাজ্ব মাহবুবর রহমান, আল হেলাল, মনিরুল ইসলাম মনির, আব্দুল মোত্তালেব সেলিম, এম মোকাদ্দেস, আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান, দেবাশীষ চক্রবর্তী, আসাদুজ্জামান মোরাদ, শাহাজাদা স্বপন, সেলিম হোসেন, মুহঃ হারুনুর রশিদ, জাহাঙ্গীর হোসেন আহমেদ, একে আজাদ, শফিউল আলম লাভলু, সামিদুল ইসলাম জীবন, ইউসুফ আলী মন্ডল, সাইফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান মিন্টু, আব্দুল মান্নান সরকার, তারেক মাহমুদ রানা, আহসানুজ্জামান ফিরোজ, আরিফুর রহমান, মতিউর রহমান মধু, বিপ্লব দে কেটু, লাল মোহাম্মদ শাহজাহান কিবরিয়া, গোপাল চন্দ্র সরকার, মঞ্জুরুল আহসান, জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, আবুল হাসেম বাচ্চু, আমিরুল ইসলাম প্রমুখ সাংবাদিকের নাম উল্লেখযোগ্য।
শেরপুর শুধু সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতেই সমৃদ্ধ নয়, প্রশাসনিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। যতটুকু জানা যায়, পূর্ববঙ্গ হাইকোর্টের বিচারপতি বদিউজ্জামান আহমেদ, পশ্চিম ময়মনসিংহের প্রথম ব্যারিস্টার এ.এম রশিদুজ্জামান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ কে জামান, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জেলার প্রথম ইপিসিএস অফিসার ও অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সাদিকুল হক, প্রথম ইপিসিএস (বিচার) এডভোকেট আমিনুল ইসলাম, জেলার প্রথম সচিব ব্যারিস্টার এম হায়দার আলী, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোশাররফ হেসেন মিয়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোফাখখারুল ইসলাম, পিএসসি’র সাবেক সদস্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. সোহরাব আলী, আমেরিকা প্রবাসী ড. বেলায়েত হোসেন, প্রফেসর আসাদুজ্জমান, অবসর প্রাপ্ত উপসচিব ফেরদৌস পারভীন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অতিরিক্ত সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব মোঃ খোরশেদ আলম, অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান, যুগ্মসচিব শাহজাদী আঞ্জুমান আরা মুক্তি, যুগ্মসচিব তাহমিনা বেগম, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. মোঃ ফজলুর রহমান সহ অসংখ্য কৃতি ব্যক্তিত্ব স্ব স্ব পদে অধিষ্ঠিত থেকে দেশ ও জাতির সেবা করে যাচ্ছেন। উেেশরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক ্শেরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক উল্লেখ্য যে, শেরপুরের সাবেক জেলা প্রসাশক মোঃ আবুল হোসেন (২০০১), সাবেক জেলা প্রশাসক নাসিরুজ্জামান, শেরপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব) কবি ও গবেষক ড. কামাল আব্দুল নাছের চৌধুরী (কামাল চৌধুরী), শেরপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও কবি মোহাম্মদ জাকীর হোসেন (জাহাঙ্গীর জাকীর), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গল্পকার ও চিন্তাবিদ মুহাঃ আকবর আলী এবং শেরপুর উপজেলা প্রোফাইল সম্পাদনা পরিষদের সভাপতি সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (বর্তমানে উপ-পরিচালক পিএটিসি) এ.এফ.এম. হায়াতউল্লাহ শেরপুরের সাহিত্যাঙ্গনে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন।

img-add

তথ্যসূত্রঃ ক) ময়মনসিংহের সাহিত্য ও সংস্কৃতি খ) বৃহত্তর ময়মনসিংহ গ্যাজেটিয়ার ও অন্যান্য সহায়ক গ্রন্থাবলী।

লেখক: তালাত মাহামুদ: কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ জুলাই ২০০৬ সংখ্যা থেকে প্রবন্ধটি বর্ধিত আকারে পুণঃমুদ্রিত।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর