• শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

অপ্রত্যাশিত আচরণগত মানসিক সমস্যা ও প্রতিকার ॥ লুৎফুন্নেছা শান্তা

প্রতিবেদকের নাম / ৬১৪ বার পঠিত
প্রকাশকাল : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গত বছরের এই দিনটিতে আমরা সম্ভবত কেউই ‘করোনা ভাইরাস’ শব্দটি শুনিনি। কিন্তু আজকের এই সময়ে এসে প্রতিদিন অসংখ্যবার আমাদের করোনা শব্দটি বলতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে ও দেখতে হচ্ছে। সেইসাথে জীবনে যুক্ত হচ্ছে ভয়, দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা এবং আতঙ্ক। অপ্রত্যাশিতভাবে অবরুদ্ধ হয়ে গেছে আমাদের জীবন। অপ্রত্যাশিত সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে গেছে আমাদের আচরণ, সৃষ্টি হচ্ছে নানারকম মানসিক সমস্যা। পরিবর্তিত হচ্ছে জীবনধারা কখনও গোচরে, আবার কখনও অগোচরে। সময়ের সাথে সমন্বয় করতে পারছি না জীবনযাত্রাকে, সারাক্ষণ মনের মধ্যে চলছে অস্থিরতা, উদ্বেগ, হতাশা, মন খারাপ, কিছুই ভালো লাগে না, মেজাজ খিটখিটে, বিরক্তিকর অনুভূতি, খেতে ভালো লাগে না, ঘুম হয় না, কখনও বা পরিবারের সদস্যদের সাথে মনোমালিন্য- এভাবে আমরা জর্জরিত হয়ে পড়ছি বিভিন্ন মানসিক সমস্যায়। এই জীবন আমাদের কাম্য নয়। আমরা চাই সুন্দর স্বাভাবিক আনন্দময় জীবন।
বৈশ্বিক এই মহামারিতে আমরা হয়তো খুব সহসাই করোনামুক্ত ঝকঝকে রৌদ্রউজ্জল সকাল দেখতে পাবো না। কিন্তু তাই বলেতো হতাশার কালো অন্ধকারে আমরা ডুবে যেতে পারি না। আমাদের জয় করতে হবে এই দুু:সময়। আর তাই টুট রাখতে হবে মনোবল। মানসিক সমস্যার সমাধান করতে হবে নিজের মনের জোরে। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে, ভাবতে হবে সমস্যা আমার একার নয়, তাই সমাধানের পথ আমাকেও দেখতে হবে।

এই সময়ে একঘেয়ে জীবন থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। তাই পড়তে পারেন গল্পের বই, শুনতে পারেন গান, করতে পারেন বন্ধুদের সাথে গল্প, আড্ডা চলতে পারে ফোনে ফোনে। অতীতের ভালোলাগা কোন বিষয়, যা সময়ের অভাবে করতে পারেননি, সেটা এখন করতে পারেন। যেমন- লেখালেখি, ছবি আঁকা, বাগান করা, মুুভি দেখা, হাতের কাজ সেলাই, ফুল তৈরী বা মাটির কাজ। নিজেকে ব্যস্ত রাখুন পরিবারের সদস্যদের সাথে। এই দু:সময়ে যারা আপনাকে আপনার পরিবারকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করছে সেই করোনা সম্মুখযোদ্ধা যেমন- চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সংবাদকর্মী, আইশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, মনে অবশ্যই প্রশান্তি আসবে। সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস ও ভরসা রাখুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, সচেতন থাকুন, আতংকিত হবেন না, নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখুন।
লেখক : মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর