• সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শ্রীবরদীতে নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন নালিতাবাড়ীতে পুলিশের আনন্দ উৎসব উদযাপন নালিতাবাড়ীতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন শাকিবের নতুন লুক নজর কাড়ল সিনেমাপ্রেমীদের ঝিনাইগাতীতে পুলিশের উদ্যোগে ৭ মার্চ উদযাপন ৭ মার্চ উদযাপন ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্তিতে শ্রীবরদীতে পুলিশের আনন্দ উৎসব জামালপুরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেরপুরে ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে পুলিশের আনন্দ উৎসব রমজানে বাজার স্বাভাবিক রাখতে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেল আমদানি করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান

উদ্ভিদের শরীরেও কী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে?

প্রতিবেদকের নাম / ১৩২৪ বার পঠিত
প্রকাশকাল : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

আমাদের শরীরে প্রতিদিন অনেক জীবাণু প্রবেশ করে। কিন্তু আমরা রোগাক্রান্ত হই না। কারণ, আমাদের শরীরে অনেক ধরণের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো- আমাদের শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা(WBC) যারা শরীরের জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। কিন্তু উদ্ভিদের শরীরে এমন বিশেষ কোন কোষ থাকেনা যারা জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। বরং উদ্ভিদের প্রতিটি কোষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের কিছু উপাদান থাকে।

উদ্ভিদকোষের ক্লোরোপ্লাস্ট, নিউক্লিয়াস, কোষঝিল্লি, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এবং পারঅক্সিজোম সম্মিলিতভাবে কোষের রোগপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কিন্তু উদ্ভিদকোষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে ক্লোরোপ্লাস্ট। এজন্য কোষে রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে তারা প্রথমে ক্লোরোপ্লাস্টকে আক্রমণ করে। এটাই তো স্বাভাবিক তাইনা? চোরেরা তো পুলিশকেই মারতে চাইবে। যেহেতু রোগ-জীবাণু উদ্ভিদের জন্য ‘চোর’ আর ক্লোরোপ্লাস্ট ‘পুলিশ’। তাই রোগজীবাণু উদ্ভিদের শরীরে প্রবেশ করলে, তারা প্রথমেই ক্লোরোপ্লাস্টকে আক্রমণ করে।

তোমরা লক্ষ্য করবে, গাছে যে কোন রোগ-জীবাণু যেমন-ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক যেটাই আক্রমণ করুক না কেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাছের পাতা হলুদ হবার প্রবণতা দেখা যায়। এর মানে বুঝো?
-গাছের পাতা হলুদ হচ্ছে মানে, গাছের ক্লোরোপ্লাস্ট কমে যাচ্ছে। তার মানে, জীবাণুগুলো গাছের কোষের ক্লোরোপ্লাস্টকে টার্গেট করে মেরে ফেলছে।

কিন্তু গাছ তো জীবাণুকে এতো সুযোগ দিবেনা। নিশ্চয় জীবাণুর বিরুদ্ধে কোন না কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
গাছের শরীরে প্রধানত দুই রকমের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিদ্যমান।
১। Hypersensitive response
২। Systemic Acquired Resistance
দুটো প্রক্রিয়াতেই ক্লোরোপ্লাস্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোষের মধ্যে জীবানুর উপস্থিতি টের পেলেই ক্লোরোপ্লাস্ট ইচ্ছাকৃতভাবে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়। এবং Reactive Oxygen Species অর্থাৎ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বা হাইড্রোজেন সুপার অক্সাইড এর মতো বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে।

১। যখন কোন উদ্ভিদ কোষে জীবাণু প্রবেশ করে, তখন যদি কোষটির ক্লোরোপ্লাস্ট বেশি পরিমাণ হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড বা হাইড্রোজেন-সুপার-অক্সাইড তৈরি করে তাহলে পুরো কোষের মৃত্যু ঘটে। কোষের সাথে সাথে জীবানুগুলোর মৃত্যু ঘটে। এই প্রক্রিয়ার জীবণু ধ্বংস করার নাম Hypersensitive response।

২। ক্লোরোপ্লাস্ট যদি কম পরিমাণ পরিমাণ H2O2 , HO2 তৈরি করে, তাহলে সেটা পুরো কোষকে ধ্বংস করে না। বরং সে দেহের সকল কোষকে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ তৈরি মাধ্যমে খবর পাঠায় যে- ‘উদ্ভিদ শরীরে জীবাণু প্রবেশ করেছে’ এতে পুরো উদ্ভিদ দেহ জীবাণুর উপস্থিতির ব্যাপারে সতর্ক হয়। এই ধরণের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাম Systemic Acquired Resistance।

গাছের এই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলোকে আমাদের শরীরের সহজাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে তুলনা করা হয়।

এগুলো ছাড়াও উদ্ভিদ দেহে অনেক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। সে গল্প অন্য কোনদিন হবে।

লেখক : নাজমুছ সাকিব, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 


করোনা পরিস্থিতিতে শ্যামলবাংলা২৪ডটকমের বিশেষ আয়োজন ‘শ্রেণিপাঠ’ বিভাগে আপনিও পাঠাতে পারেন শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিষয়ক যেকোন লেখা। যোগাযোগ : ড. বিভূতিভূষণ মিত্র, বিভাগীয় সম্পাদক, শ্রেণিপাঠ ই-মেইল : bhushan.bibhutimitra@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর