স্টাফ রিপোর্টার : বাল্যবিয়ের ঝুঁকিপ্রবণতা কাটিয়ে উঠতে শেরপুরে প্রশাসনের যখন নাভিশ্বাস, ঠিক তখনও বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিয়ে। প্রশাসন ও সমাজকে ফাঁকি দিয়ে কেবল শিক্ষায় অনগ্রসর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহরেও ঘটছে বাল্যবিয়ের ঘটনা। ওইসব বাল্যবিয়ের খুব কম অংশই জানাজানি হয়।
এমনি অবস্থায় ৪ অক্টোবর রবিবার জেলা শহরের উপকণ্ঠ দমদমা মহল্লায় দিনে-দুপুরে আয়োজিত বিয়ের পিঁড়ি থেকে রক্ষা পেয়েছে ইয়াসমীন আক্তার (১২) নামে এক শিশু। সে স্থানীয় এম.এ পাবলিক স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও দিনমজুর ইয়াজ উদ্দিনের মেয়ে।
জানা যায়, সদর উপজেলার চৈতনখিলা গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে সুজন মিয়ার সাথে স্কুলছাত্রী ইয়াসমীন আক্তারের বিয়ের গুঞ্জন চলছিল ক’দিন ধরেই। বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সচেতন লোকজন জানার পর ইয়াসমীনের অভিভাবককে বুঝাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ওই অবস্থায় রবিবার বেলা ৩টার দিকে কন্যার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন-প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর বরপক্ষের আগমনের জন্য যখন চলছিল অপেক্ষা, ঠিক তখন খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে পৌঁছে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল করিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়ে ইয়াসমীনের বাবা। পরে বাড়ির অন্যান্য লোকজন ওই বাল্যবিয়ে বন্ধে অঙ্গীকারনামা দেওয়ায় বাল্যবিয়ের দায় থেকে রক্ষা পায় ইয়াসমীনের অভিভাবক আর বাল্যবিয়ে হাত থেকে বেঁচে যায় ইয়াসমীন।
উল্লেখ্য, বাল্যবিয়ের দিক থেকে ৬৪ জেলার মধ্যে শেরপুরের অবস্থান ৬১তম।




