শ্যামলবাংলা ডেস্ক : আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘আইনজীবীদের সহকারি হিসেবে যারা কাজ করেন, তাদের পেশার স্বীকৃতি দিতে শিগগিরই আইন পাস করা হবে। বিচারাঙ্গণ থেকে টাউট বাটপার উচ্ছেদ করতেই আইনজীবী সহকারিদের স্বীকৃতি দরকার। কারণ আইনজীবীর সহকারিদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে আদালতে অনিয়ম দূর করা সহজ হবে।’ ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ আইনজীবী সহকারি সমিতির চতুর্থ মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওইসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, ‘পেশাগত স্বীকৃতি চাওয়া আইনজীবী সহকারিদের ন্যায়সঙ্গত দাবি। কাউকে মর্যাদা দিতে শেখ হাসিনার সরকার কার্পণ্য করে না। আলাপ-আলোচনা করে দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
আইনজীবী সহকারি সমিতির সভাপতি নুর মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হারুন অর-রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, প্রবীন আইজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আ্যডভোকেট জয়নুল আবেদীন, আবদুল মতিন খসরু এমপি, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বশির আহমেদ এবং অল ইন্ডিয়া ক্লার্ক আইনজীবী কার্যকরী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক কুমার মণ্ডল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আইনজীবীর সহকারীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বীকৃতিসহ মোট নয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
আইনজীবীদের সহকারিদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে আপনাদের দাবি করতে হবে? আমি আপনাদেরই একজন। মন্ত্রী হয়েছি তাতে কী হয়েছে? আমি ১৯৮৫ সালে আইনজীবী হয়েছি। কিন্তু আমার বাবা আইনজীবী ছিলেন বিধায় আমার কাজ শেখা বাসা থেকে হয়েছে। তবে আদালতে কীভাবে রিট, মামলার ড্রাফটিং করতে হয় তা আমি মঈনুদ্দিন পাটোয়ারি নামে একজন ক্লার্কের কাছে শিখেছি।’ এ সময় সারা দেশে আইনজীবীর সহকারিদের তহবিলের জন্য পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘মামলা পরিচালনা করতে আইনজীবীরা যে ফি পান তার একটা অংশ সহকারিদের দেওয়া উচিত। এতে তাদের কাজে আগ্রহ বাড়বে। আইনজীবীর সহকারিরা সৎ থাকলে আইনজীবীর জন্য কাজ করা সহজ হয়ে যায়। আইনজীবীরা প্রত্যেক মামলার ফির একটি অংশ সহকারিদের প্রদান করলে তাদের পক্ষে সৎ থাকাটা সম্ভব।’
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করে বলেন, ‘জাল সার্টিফিকেটের কাছে আইনজীবীরা এবং আইনজীবীর সহকারিরা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সহকারিদের সচেতন হতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’




