বাংলা গানের অন্যতম কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত হবে এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।

আগামী ১২ জুন সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে ‘কালজয়ী কণ্ঠ : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরেণ্য এই শিল্পীর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নিজস্ব কণ্ঠসৌন্দর্য, শিল্পনিষ্ঠা এবং অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই দেশের সংগীতাঙ্গনের এই জীবন্ত কিংবদন্তিকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

সম্মাননা প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সৈয়দ আব্দুল হাদী গণমাধ্যমে বলেন, ‘দীর্ঘ সংগীতজীবনে ভক্ত-শ্রোতাদের এত বেশি ভালোবাসা পেয়েছি, সম্মানিত হয়েছি যে জীবনের এই পর্যায়ে এসে আর কোনো প্রাপ্তি বা সম্মাননা বিশেষভাবে পুলকিত করে না বা আনন্দিত করে না। তারপরও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাকে নিয়ে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটা একজন শিল্পী হিসেবে অবশ্যই ভালো লাগার।
আশা করছি আমাকে ঘিরে এ আয়োজন সুন্দর হবে এবং সবার কাছে উপভোগ্য হবে। যারা এই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবে, তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইল। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিল্পকলা একাডেমির প্রতি।’
তিনি জানান, অনুষ্ঠানে তিনি নিজে গান পরিবেশন করবেন না।
তবে তার কণ্ঠে অমর হয়ে থাকা জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করবেন এই প্রজন্মের শিল্পী রাশেদ, আতিক, অপু আমান, কোনাল, অনন্যা ও সুস্মিতাসহ আরো অনেকে। এ জছাড়া অনুষ্ঠানে তার জীবন ও সংগীতযাত্রা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি থাকবে আলোচনা পর্ব।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় দেশের আরেক কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল। ওই আয়োজনে তার সংগীতজীবন নিয়ে আলোচনা এবং তার জনপ্রিয় গানগুলোর বিশেষ পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য সৈয়দ আব্দুল হাদী পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়কের স্বীকৃতি পেয়েছেন।
‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘সুন্দরী’ (১৯৭৯), ‘কসাই’ (১৯৮০), ‘গরিবের বউ’ (১৯৯০) এবং ‘ক্ষমা’ (১৯৯২) চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের জন্য তিনি এই সম্মান অর্জন করেন।
তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘আছেন আমার মুক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘আমি তোমারি প্রেম ভিখারি’, ‘চোক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘যেও না সাথি’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি’ এবং ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’। এসব গান আজও বাংলা সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে সমানভাবে জনপ্রিয়।




