এই নালিতাবাড়ীর ভূ-খন্ডে হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রায় সবাই বহিরাগত। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবার আগেই প্রথম প্রজন্মের কালখণ্ডটি জীবন ও জীবিকায় “নিজেদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করার পশ্চাতেই কেটে গেছে”১। কাজে কাজেই “এ উপজেলায় শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে যারা প্রাতঃ স্মরণীয় হয়ে আছেন, সাহিত্য রচনার কাজটিও প্রথমতঃ তারাই শুরু করেছিলেন”। (২) এই সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে যিনি বীজ বপন করেছিলেন, যার প্রযত্নে লালিত পালিত এবং আরো আরো সাহিত্যসেবীকে উস্কে দিয়েছিলেন, তিনি হলেন নগেন্দ্র চন্দ্র পাল (১৯১৬, ১৬ জানুয়ারি-২০০৩, ২৫ জুলাই)।
সাহিত্য চর্চার মতোই নালিতাবাড়ীর সাহিত্য বিষয়ক ছোট কাগজ প্রকাশের ইতিহাসও দীর্ঘ নয়। স্বাধীনতা পূর্ব তৎকালীন সময়ে একমাত্র আব্দুর রহমান ১৯৫৪ সালে “তারপর’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। ইসলামী চিন্তাবিদ আব্দুর রহমান স্কুলে অধ্যয়নরত সময়েই সাহিত্যের হাতে খড়ি। “তের বছর পরে”, “রূপসী নদীর তীরে” তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা। এ ছাড়াও আব্দুর রশিদ, আঃ রেজ্জাক, মুহম্মদ আবুল হোসেইন, নাট্যকার নাকু বোস প্রমুখ স্বাধীনতাপূর্ব কালখন্ডে সাহিত্য চর্চা ও চর্যার জমিনকে করেছেন প্রসারিত। আশির দশকের শেষের দিকে আঃ রেজ্জাক সম্পাদিত ও “মাসিক নালিতাবাড়ী”র কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে যায়।
মূলত স্বাধীনতার পরই নালিতাবাড়ীতে নানা ধরনের সংগঠন—হোক সে নাট্য বা ক্রীড়া—সাহিত্য চর্চা ও দেয়ালিকা বা ম্যাগাজিন বের করবার একটা তৎপরতা দেখা মিলে। আমাদের জাতীয় দিবসকে আবর্ত করেই মূলত পত্রিকা প্রকাশের পরিসর সৃষ্টি হতো।স্বাধীনতার আগে কিংবা ১৯৪৭ সালের আগে নাট্যচর্চা ও যাত্রাপালার একটা ঝোঁক বেশ বেগবান ছিল। ছিল একাধিক নাটক ও যাত্রাপালার দল। আর ছিল স্থায়ী ঘূর্ণনমান মঞ্চ। এই মঞ্চকে ঘিরেই এই তল্লাটে সাংস্কৃতিক চর্চার পাটাতন গড়ে ওঠে।
১
বাংলাদেশ অর্জিত হবার পর পরই এই নালিতাবাড়ীতে নানা সংগঠন ও চর্চার একটা পরিসর গড়ে ওঠতে থাকে। শাপলা শালুক আসর একটি কিশোর সংগঠন।১৯৭৪ সালে সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রযত্নে প্রকাশিত হয় ‘রক্ত পলাশ”। মূল্য ২.৫০ টাকা।শহীদ বিদস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত “রক্ত পলাশ”। স্বাধীনতা উত্তর নালিতাবাড়ীর প্রথম স্মরণিকা। শাপলা শালুকের আসর: আমবাগান সংগঠনের স্মরণিকা। পরিচালক অসীম দত্ত হাবুল (১৯৫৮), সাথী ভাই তপন চক্রবর্তী ননাই (১৯৫৯) এম.এ হাকাম হীরা (১৯৫৯) ও সবুজ ভাই মনজুরুল আহসান বুলবুল (১৯৫৮) প্রমুখের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত শাপলা শালুকের সাংগঠনিক তৎপরতা এ এলাকায় সাংগঠনিক চর্চার এক মাইল ফলক।
নীতি নৈতিকতার চর্চার পাশাপাশি শরীর চর্চাসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মতৎপরতা তৎকালীন কিশোর তরুণের মাঝে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শাপলা শালুকের কিছুদিন আগে বদিউজ্জামান বাদশার নেতৃত্বে মুকুল ফৌজ গঠন ও ক্রিয়া তৎপরতা একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। দেয়াল পত্রিকা “টুং টাং”, “কলতান” কিংবা “আমবাগান” প্রকাশের ভেতর দিয়ে একই সাথে সাহিত্য আন্দোলনের অকর্ষিত জমিনকে করেছে উর্বর। মুকুল ফৌজ কিংবা শাপলা শালুকের সেই তরুণ/কিশোর সংগঠকবৃন্দই তৎপরবর্তীকালীন নালিতাবাড়ীর আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক -ক্রীড়া সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আলোকিা ভূমিকা পালন করছে।
এই সংখ্যায় লিখেছেন মুশতাক হাবীব / আবু হাসান শাহরিয়ার / খালেদা রায়হান রুবী।
নূরুন নাহার তুলি / শাহ্ওয়ারী ইমাম অ্যালিস / সৈয়দ আমির আলী / তপন চক্রবর্তী ননাই / বিরূপাক্ষ পাল /আফরোজা বেগম বাচ্চু / স্বদেশ বাবু সরকার /মনজুরুল আহসান।
২
শাপলা শালুক আসরের সংগঠকেরাই পরবর্তীতে গড়ে তুলেন নবরূপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। নানা ধরনের কায় কায়কার নিয়ে নবরূপ গঠিত। শারীরিক কসরত।খেলাধুলা। ইংলিশ স্পিকিং ক্লাশ।ফুটবল।ক্রিকেট।নাটক মঞ্চায়ন ইত্যাদি। উদ্যম ও উদ্যোগী সংগঠকেরা নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে নাগরিক সুনাম কুড়িয়েছেন।সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও জয়জিৎ দত্ত শ্যামলের নেতৃত্ব প্রকাশিত হয় শহীদ দিবস সংখ্যা১৯৯২। লিখেছেন মোস্তফা কামাল।মুস্তাক হাবিব।রাধা বিনোদ দে। আনোয়ারুল মঞ্জিল জয়জিৎ দত্ত শ্যামল বিপ্লব দে প্রমুখ।
নবরূপী সে সময়ে নিজেকে আর্দশ সংগঠন হিসাবে গড়ে তুলেছেন। আমি বরং নবরূপীর নিজের কথা তুলে দেই। তাহলে এই সময়ের তরুণেরা বুঝতে পারবে নবরূপীর দৃঢ় প্রত্যের কথা।
“”**’দূরন্ত ভোগাই’ যেমন নালিভাবাড়ীর ‘দু’কুলকে সুজলা, সুফলা শস্য শ্যামলা করে তুলেছে। আমিও ঠিক তেমনি মালিভাবাড়ীয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অংগনকে নতুন মায়ার অঞ্জনে পরিয়ে সাজাতে চাই।
***তাই আমার নাম নবরূপী (ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক) গোষ্ঠী।
****নালিতাবাড়ীর মুমূর্ষ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অংগনের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে আমার জন্ম।
##আর্থ সমাজিক কাঠামোতে ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা সরিয়ে এক শোষনহীন সখাজ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
##সমাজের আমুল পরিবর্তনের জন্য নাটককে ব্যবহার করতে চাই শৈল্পিক হাভিয়ার রূপে।
##আপনাদের আশির্বাদ আমার পাথেয়।
###সুষ্ঠ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আমি আপনাদের সকলের আন্তরীক সহযোগিতা কামনা করি।”
এই ছিল নবরূপী (ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক) গোষ্ঠী। একটা আকাশি রঙের কভারের গঠনতন্ত্রও ছিল। ছিল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা।গত শতকের আটের দশকে এই সংগঠন নালিতাবাড়ী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক এবং নাট্য চর্চায় উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখে। যে সমাজে সংগঠন চর্চার প্রাবল্য বেশি সে সমাজ গণতান্ত্রিক হতে বাধ্য।এমন কি সমাজে ইতিবাচক ভুমিকা রাখে সংগঠন।দূর্ভাগ্য শরীর ও মন বিকাশে এখনকার তরুণদের জন্য সংগঠনের বড়ই অভাব।একটা সময় সংগঠন দাঁড়াত ঘরের খেয়ে অন্যের মোষ তাড়ানোর মতো ব্যাপার।সংগঠক সমাজের জন্য কিছু করবার ও অপরকে দিয়ে কিছু করাবার প্রত্যয় নিয়ে একটা আর্দশ নিয়েই সংগঠন গঠিত হতো। তার কায় কারবারও সেই ভাবে পরিচালিত হতো।
নবরূপী যে সকল নাটক মঞ্চায়ন করেছে সেগুলো একটু টুকু রাখি।ক্রীতদাসের হাসি।এবং লাঠিয়াল।ওরা কদম আলী।চাপা পড়া মানুষ। সাত পুরুষের ঋণ ইত্যাদি। সবগুলো নাম আমার মনে নেই। একবার হাকাম হীরা নেতৃত্বে একটি নাটকেও অভিনয়ের কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলাম।
৩
‘বৈশাখী’ পত্রিকাটি বের হয় ১লা বৈশাখ ১৩৮৮ সালে।সম্পাদক তপন চক্রব্রতী ননাই।তপন চক্রবর্তী গত শতকের সাতের দশক থেকে নিজেকে নানা সম্পাদনা কাজে যুক্ত রেখেছেন।এই কিছুদিন আগে তিনি প্রয়াত হন।গীতিতট সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী বেশিদিন তৎপর ছিলেন না।এই গোষ্ঠী পরিচালক ছিলেন সুধাংশু কালোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার নাথ বৈশাখী সংখ্যায় লিখেন—মানববর্দ্ধন পাল।মোস্তফা কামাল।বিরূপাক্ষ পাল।জোবায়দা হাবীব। রাধা বিনোদ দে।রণজিৎ দাশ। রহুল আমীন।মোনোয়ারা বেগম।মিনু সরকার।রতন দে। ফারহানা গাজী।মুশতাক হাবীব।তপন চক্রবতী।খালেদা রায়হান।
৪
বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ সংকলন ”পদক্ষেপ” বিনোদন সাহিত্য পরিষদ গঠিত হবার পা পরই এই বুলেটিন প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন বজলুল করিম ও গোলাম কিবরিয়া বুলু। সংগঠন করার দিকে যতটুকু ঝো্ক তা চালিয়ে নেবার ক্ষেত্রে তেমন ঝোক থাকে না। বিনোদন সাহিত্য পরিষদ তেমনই একটি সংগঠন। এখানে লিখেন—এম এন ইসলাম।বিরূপাক্ষ পাল। শ্যামল দত্ত।জাকিয়া পারভিন।রূপদর্শী।রহুল আমীন। মোস্তফা কামাল। গোলাম কিবরিয়া বুলু।
পরবর্তীতে জাকিয়া পারভীন একাধিক গদ্য ও পদ্যের বই প্রকাশ করেন।শিশু কিশোরদের জন্যও লিখেছেন। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয় ‘পদক্ষেপ’। মেঘের মিছিল’ জাকিয়া পারভিনের একটি ভাল কাজ। খালেদা রায়হানের পর তিনিই নালিতাবাড়ীতে আটের দশকের কবি যিনি এখনও লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। ( নিচে লিংক দিলাম)।
৫
আড়াইআনি বাজারের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা বহুদিনের পুরাতন। বিশেষ করে নাটক ও যাত্রাপালার ক্ষেত্রে। মূলত শেরপুরের আড়াই আনি জমিদারের তালকু ভুক্ত হবার কারনে নয়ানি জমিদারের আওতাধীন তারাগঞ্জ বাজারোর সাথে একটা প্রতিযোগিতা বিদ্যমান ছিল পুরোমাত্রায়। হোক সেটা খাজনা আদায় খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক চর্চা—বিশেষ করে নাটক ও পালাগানের। আমাদের উদ্যোগের অভাবে সেই সব তথ্য উপাত্ত আমরা সংরক্ষণ করে রাখতে পারিনি।
যাই হোক গত শতকের আটের দশকে আড়াইআনি বাজারে সাহিত্য ও সাংস্কতিক চর্চা বেগবান হয়। এমনকি ফুটবল খেলা—প্রভাতি সংঘ তখন তুমুল জনপ্রিয়। নয়ের দশকে গঠিত হয়
লেখক কল্যাণ শিবির। বেশিদিন তৎপর ছিলেন না। তারা প্রকাশ করে “হৃদয়ে বাংলাদেশ”
১৬ই ডিসেম্বর ১৯৯২।সম্পাদক। রফিকুল ইসলাম ভুট্টো তিনি আমাদের অগ্রজ। তাদের লেখালেখি দেখে ঠেকেই আমার এই পথে ব্যর্থ হাটাহাটি শুরু। এই সংখ্যায় লেখেন—
রণজিত দাশ।মোস্তাফিজুর রহমান বকুল। মো: রেজ্জাক। রাধা বিনোদ দে।বনবাসী রায়। মারজীনা মোকারেজ। মো: হাসানুজ্জামান। শহীদুজ্জামান।।জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।তপন চক্রবর্তী।
৬
আরো কিছু স্মরণিকাগুলো প্রকাশিত হয়েছে।একবার আলোর মুখ দেখেই কফিনে ঢুকে পড়েছেন ‘একুশে’ (১৯৮৬, ২১ ফেব্রুয়ারী), ‘সীমান্ত’ (১৯৮৬, ১৬ ডিসেম্বর), ‘শারদীয়া’ (১৯৯৪), ‘সুবর্ণ সম্ভার’ (১৯৯৪, ২৩ ডিসেম্বর), ‘ঠিকানা’ (১৯৯৫, জুলাই), ‘অমর ৫ই জুলাই’ (১৯৯৬), ‘সীমান্ত’ (১৯৯৭), স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপের ভাঁজপত্র (২০০১, ১২ডিসেম্বর), ‘গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগারের ভাঁজপত্র’ (২০০২, ২১ ফেব্রুয়ারী), ‘সীমান্ত দর্পণ’ (২০০২), ‘খেয়া’ (২০০২), ‘মাসিক সংলাপ’ এপ্রিল), ‘মরন সাগর (২০০১.পাড়ে তুমি যে অমর’ (২০০৩, ১৪ আগষ্ট), ‘সেতু’ (২০০৩), ‘এক ফালি চাঁদ’ (২০০৩), ‘সবুজের মাঝে লাল’ (২০০৩, ২১ ফেব্রুয়ারী), ‘সঞ্চারণ’ (২০০৬, ১ জুন), ‘অর্পণ’ (২০০৪), ‘গন্তব্য’ (২০০৫), ‘প্রভাত ফেরী’ (২০০৬), ‘নলিতা বাগান’ (২০০৬), ‘প্রথম প্রকাশ’ (২০০৭), ‘কলমসূত্র’ (২০০৮), ‘ওসনের স্মরণিকা’ (২০০৯), ‘বিচরণ’ (২০১০) ইত্যাদি। ‘সেঁজুতি ”
৭
ঠিকানা”—ছোট কাগজ নয় কিন্তু স্মরণিকা। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবহুল স্মরণিকা। রয়েছে ১৯৭১ সালের ২৭ শে জুলাই মঙ্গলবার সকালে সংঘটিত সোহাগপুর গণহত্যার শহীদদের নামের তালিকা। স্মরণিকার নাম ‘ঠিকানা’। প্রকাশ ১৯৯৫। মুশতাক হাবিব লিখেছেন, “একটি গ্রাম- কেবলই একটি গ্রামকে নিয়ে একটি স্মরণিকা বের করা বেশ স্পর্ধার ব্যাপার”। সেই স্পর্ধার অহংকারে নয় বরং সম্পাদক মোস্তাফা কামাল লিখেছেন, “কোন আত্মশ্লাঘারপরিচয়ে নয়; আত্মপরিচয় উম্মোচনের প্রয়াস মাত্র”।
নালিতাবাড়ীতে এর আগে এমন ক্ষুরধার সম্পাদকীয় নিয়ে অন্য কোন ছোট কাগজ কিংবা স্মরণিকা প্রকাশ ঘটেনি। তিনি এলাকার লিখেছেন, “আমাদের প্রবল আকাঙ্খা রয়েছে, আমরা এ আদিবাসীদের সংগ্রাম। বিশেষ করে বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে এ এলাকার অলিখিত ইতিহাস, ১৯৫০ এবং ১৯৬৪ সালের ঘৃণিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং এ এলাকার জন জীবন ও অর্থনীতিতে তার প্রভাব এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধকালে এ এলাকার বিস্তারিত সঠিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি।”
এমন দীর্ঘমেয়াদী কষ্টসাধ্য পরিকল্পনা নিয়ে য় অন্য কেউ উদ্যোগী হয়নি। মোস্তফা কামাল শুধু সাহিত্যিক মনোভঙ্গির য়ে কারণে নয় বরং আত্মপরিচয় উন্মোচনের এক ঐতিহাসিক ব্রত নিয়ে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ধারাবাহিকতা তার রক্ষা হয়নি। নালিতাবাড়ীর বিস্তৃর্ণ প্রেক্ষাপটে
কিন্তু ধারাবাহিক জনপদে বিশেষ করে বরুয়াজানী গ্রামে যে আগন্তুক অধিবাসীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন তাদেরই প্রজন্মের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মোস্তাফা কামাল। অসংখ্যা লেখায় নালিতাবাড়ীর আর্থ-সামাজিক- সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় সমাজ বিন্যাসের পরতে পরতে সন্ধানে ব্রতী কামালের কোন মূল্যায়ন হয়নি; আমরা করতে পারিনি; তার লেখাগুলোও সংকলিত হয়নি।
আট পৃষ্ঠার একটি কবিতা পুস্তিকা ‘থুথু” ছাড়া তার অন্য কোনগ্রন্থ বের হয়নি। মোস্তফা কামালের প্রজন্মরা জীবন ধারণে জমিনে আর মুখ গুজে নেই; জীবন সাজাবার জীবন বদলাবার; আত্ম পরিচয়ে উন্মোচনের সাহসী প্রজন্ম।অস্তিত্ববাদী মোস্তাফা কামাল শেকড় সন্ধানে সদা কর্মতৎপর থেকেছেন।সমাজ বিন্যাসের নানা অসংগতি ভন্ডামী, কুসংস্কারাচ্ছন্নতা কিংবা দ্বিচারি ভূমিকার মুখোশ উন্মোচনেতিনি কখনো গদ্যে কখনো ব্যাঙ্গাক্ত গদ্যে কখনো ব্যক্তি আলাপচারিতায় যথার্থই বাহাস তিনি করেছেন।- বরুয়াজানী একটি বর্ধিষ্ণু উজ্জল গ্রাম। (সংক্ষিপ্ত)
এই সংখ্যায় লিখেছেন—মুশতাক হাবূব।সারোয়ার আহমেদ স্বপন।মো আব্দুর রহমান। শহীদ উল্লাহ তালুকদার। মো: মোজাম্মেল হক।খালেদা রায়হান রুবী
৮
‘শারদীয়া’ খালভাঙ্গা গ্রামের শ্রীমঙ্গল ভবণের দূর্গা পুজার শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে প্রকাশিত সংকলন। প্রকাশ ১৯৯৫ সাল। সম্পাদক অঞ্জন কুমার পাল। কংস নদীর অববাহিকার শাখা ন নদী ভোগাই নদীর পাড়ে এই বধিষ্ণু গ্রাম শেরপুরের আড়াই আনী কাচাড়ীর তহশিলদার ছিলেন শ্রীমঙ্গল রাম ও সরকার। নগন্দ্রে চন্দ্র পাল লিখেছেন পু “নব্বই উত্তীর্ণ বয়সে প্রয়াত মঙ্গল সরকারের বাস্তুভিটায় শেরপুর বাদে এই বিরাট পূর্বাঞ্চলে শ্রী শ্রী শারদীয়া দূর্গমাতার বার্ষিক পূজায় প্রতিষ্ঠাতা তদীয় পূর্ণ স্মৃতিতে আমরা পূজামন্ডমসহ শ আমাদের বসত বাড়ীর নাম সামগ্রিকভাবে “শ্রীমঙ্গল ভবণ” বলে আখ্যায়িত করেছি।” এই অঞ্চলে প্র খালভাঙ্গা দূর্গোৎসব প্রাচীনতম শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত সংকলন নালিতাবাড়ীর স্মরণিকা নির্ভর ছোট তু কাগজে শিল্প সাহিত্য চর্চার এক মাইল ফলক। পূজা উপলক্ষে এটিই নালিতাবাড়ীতে প্রথম সংকলন। সম্পাদক অঞ্জন কুমার পাল লিখেছেন, “শতবর্ষ পূর্বে যে মহান পূর্বপুরুষ শ্রীমঙ্গল ভবণের মিলনের স্রোত, ভক্তির এ উপধ্যায় রচনা, সূচনা, প্ররোচনা করে গেছেন আজ আনত শিরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, প্রণতি জানাই উনার প্রতি।” লিখেছেন-
‘কালের করাল স্রোতে
কে বা রহে স্থির।
কীর্তিসৌধ থাকে শুধু
অক্ষর শরীর।’
উৎসব যা উৎস বহন করে। অর্থাৎ অতীত ও বর্তমানের সাথে সাঁকো বেধে দিয়েই তো প্রাগ্রসর যাত্রা। এ যাত্রা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, অনাবাদী জমিন থেকে আবাদী জমিনের দিকে যাত্রা। রবি নিয়োগী, প্রবীণ রাজনৈতিকতায় বাণীতে যথার্থই বলেছেন, “এই উৎসব জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হোক। শোষন নির্যাতন দূর হয়ে থাক।” সংকলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাসহ আরো যারা কবিতা ও ছড়া লিখেছেন, নিবেদিতা পাল, অর্পণ পাল, দিপা রানী পাল, অনুপমা পাল, অনুরূপা পাল, ঋত্বিকেশ পাল, অনুপমা পাল (দুলালী) প্রকাশিত কবিতার কিছু উদ্ধৃত তুলে দি দিচ্ছি। যদিও শিল্প সাহিত্যের নান্দনিকতার নিরিখে নয়, জীবন বোধের অনুভবের নিক্তিতে কবিতা কিংবা ছড়াগুলোর রস বিচার সম্ভব। চিহ্নিত করা সম্ভব সাহিত্য চর্চার, জীবনের বহুরৈখিক বোধ ও বোধনের অনুশীলিত হবার প্রয়াস।
দুর্গোৎসবের শতবার্ষিকী : মাতৃচরণে শতপদ্ম নিবন্ধে নগেন্দ্র চন্দ্র পাল তুলে এনেছেন শ্রীমঙ্গল ভবণের দূর্গা পূজার ইতিকথা। প্রদীপ জ্বালাবার আগেই প্রয়োজন সলতে তৈরী। পূজার পুরহিতের কথা, কারিকর, আমোদ প্রমোদ এমনকি আর্থিক উৎসের কথা। তুলে এনেছেন তৎকালীন সমাজ-সামাজিকতার বয়ান। ১৯৭১ সালে সংঘঠিত ধ্বংসযজ্ঞে ধুলিসাৎ হয়ে গেছে “সুরম্য সুপ্রশস্ত মন্ডপ”। কোথায় মন্ডপ, কোথায় আটাচালা, কোথায় বাড়ী ঘর ?”
নিবন্ধকারের অশ্রুসিক্ত অতিতে যে কোন
শতবর্ষ পূর্বে যে মহান পুর্বপুরুষ শ্রীমঙ্গল ভবনের মিলনের স্রোত, ভক্তির এ উপধ্যায় রচনা, সূচনা, প্ররোচনা করে গেছেন আজ আনতশিরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, প্রনতি জানাই উনার প্রতি। আমাদের সকল আরাধনা, প্রার্থনা হোক উনার ও উনার উত্তরসূরীদের শুভানুকূলে আর প্রার্থনা করি কালের কপোলতলে এ শতবর্ষ যেন সহস্রবর্ষে পদাপর্ণ করে এই একই বিচ্যুতিহীন ধারায়।
মোস্তফা কামাল লিখেছেন,”‘খালভাঙ্গা গ্রামে তখন আমাদের কোন সাথী ছিল না। পূজা মন্ডপের সাথে বিরাট আটচালা ঘরটির একপাশে যখন নাড়ার আসনে বসে মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, হ্যাজাক নিয়ে স্বোচ্ছা সেবকদের ব্যস্ততা দেখতাম, পর্দার ফাঁক দিয়ে কোন অভিনেতার মেকআপ করা মুখের উকি ঝুঁকি দেখতাম। মনে হতো, আহা। এতসব আনন্দ আয়োজনে আমাকেও যদি কেউ ডাক দিতো। কিংবা আমাদের গোপীদা অথবা জয়কিশোর যখন মঞ্চে আসতো (তারা এলেই আটচালা ঘর আনন্দে যেন কেঁপে উঠতো), তাদের যতোই মেকআপের ছদ্মবেশ থাকুক, আমরা ঠিক চিনে ফেলতাম, চিনে ফেলার উল্লাসে আমরাও সেই আনন্দ-হাটের হট্টগোলে হারিয়ে যেতাম।
আমাদের শৈশবের স্মৃতিগুলো এতোই সাধারণ যে, তার সাথে বৈদ্যুতিক আলোর স্পর্শ নেই, মাইকের শব্দ নেই, হিন্দী গানের বিকট কোলাহল নেই। পূজো তো কেবল অর্চনা-আরাধনা নয়—সন্মিলনও বটে.
৯
‘শারদ সম্ভার’—তারাগঞ্জ দক্ষিণ বাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজার পঞ্চাশবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরনিকা৮, অক্টোবর ২০০০ সম্পাদক সুভাষ সাহা ও প্রদীপ দেবনাথ।
যতটুকু জানতে পেরেছি এই শারদ সম্ভাব প্রকাশের পেছনে বড় উদ্যোক্তা ছিলেন মোস্তফা কামাল মূলত তার সলতে পাকানোর কাজের ভেতর দিয়ে আমরা পেলাম চমৎকার একটা কাজ। এই দক্ষিণ বাজারে দেশভাগ হবার পরে মূলত ১৩৫৬/ ১৯৪৯ সালে সূচনা হয়। প্রদীপ দেবনাথ ৫০ আগের সকল তথ্য উপাত্ত চমৎকার ভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন। সেই সময়ের কমিটির নাম। প্রতিমা কারিগরের নাম। পুরহিতের নাম সহ নানা উপাদানে এই শারদ সম্ভার।
নালিতাবাড়ী থানায় প্রথম পুজাশ্রী মঙ্গল ভবন (১৩০৩)।দেশভাগের আগে নিন্মের জায়গাগুলোতে কবে শারদীয় পুজা শুরু হয় বা কবে থেকে বন্ধ হয়ে যায় তা ঠিক ভাবে জানা যায় না।যেখানে হতো আর যার বাড়িতে আয়োজিত হতো তার কিছু তথ্য শারদ সম্ভারে তুলে এনেছেন সম্পাদক প্রদীপ দেবনাথ।
কাকরকান্দি/ বিশ্বনাথ কর।বনমালি কর। অমর দেব।
গরকান্দা/ রাধাকৃষ্ণ নাথ।
দেবীপুর খামার বাড়ি/ ক্ষীর মোহন সাহা
আমবাগান কালিবাড়ি
বেলতফল— মদন মোহন সরকার
কয়রা কুড়ি—চলন্ত সরকার
মানুপাড়া— মহেশ সরকার
মধ্যমকুড়া—গেরাপচা।
কচুবাড়ি– ধীরেন্দ্র বর্মণ
বনকুড়া কাপাসিয়া।
বাঘবেড় —বামন পাড়া
এছাড়াও শারদে লিখেছে নগেন্দ্র চন্দ্রপাল। নিশিকান্ত ভাদুরী।মনিন্দ্র পাল। প্রভাপ পাল।
তপন চক্রবর্তী। প্রদীপ দেবনাথ। মুশতাক হাবীব।রাধা বিনোদ দে।যোগেন রায়।অর্পণা দেবনাথ। সুপর্না দেবনাথ।তনুশ্রী দে। অভিজিৎ দত্ত।প্রিয়াংকা পোদ্দার। সৌরভ দেআনাথ। তমা সাহা। সুস্মিতা দত্ত টুম্পা। সুপ্তা দেবনাথ রীতু কালেয়ার। অভিজিৎ দেবনাথ।
সুভাষ সাহা—স্মৃতিতে পঞ্চাশ বছরের দক্ষিণ বাজারের দুর্গাপূজা—নিবন্ধে তুলে ধরছেন দক্ষিণ বাজারে শারদীয় উৎসব শুরু হবার সলতে পাকাবার কাজটুকু কে কিভাবে করলেন।
হাকাম হীরা তার স্মৃতি গদ্য’ সেই যে আমার দিনগুলো”তে লিখেছেন,”আরও কত স্মৃতি একের পর এক ভেসে আসছে মনের মনি কোঠা থেকে। ধীরে ধীরে উঠে দাড়ালেন। একএক করে প্রায় সব কটি পূজা মন্ডপে গেলেন। প্রতিটি মন্ডপে আবালবৃদ্ধ বনিতা হিন্দু নরনারী নতুন বসনে, নতুন ভূষণে সজ্জিত হয়ে মহামায়া দশভূজা দর্শনে ব্যস্ত। মাইকে পদাবলী কীর্ত্তনের বদলে বাজছে হিন্দি চটুল গান। এক রিক্সায় ৪/৫ জন করে কিশোর-কিশোরীদের চঞ্চল ছুটোছুটি। সবই নজরে পড়লো তার। এই মফস্বল শহরে কাটানো জীবনের অনেকগুলো বছরের সঙ্গে পরিচিত জিনিষগুলো খোঁজার চেষ্টা করলেন।
কিন্তু সে সবের কোন চিহ্ন নেই বদলে গেছে শহর। বদলে গেছে শহরের মানুষগুলো। রামশংকর কালোয়ার, নুরুল হক, আঃ রহমান, ধীরেন্দ্র সরকার, লালবিহারী নাথ, ফারুকী আঃ রসীদ, অনিল দে এদের দেখা যেতো এই শহরের খেলার মাঠে, নাটকের মঞ্চে, পূজা মন্ডপে, শহরের রাস্তায় বাড়ীর আড্ডায়, নদী তীরে সর্বত্র। এরা এখন কে কোথায় আছে কে জানে। হয়তো কেউ পরপারে। কেউবা অন্যত্র। এদের কথা মনে পড়তেই গানটি গুনগুন করার চেষ্টা করলেন।
কিন্তু পারলেন না। তার আগেই ধরা পড়ে গেলেন বন্ধু রহমান ও নুরলের কাছে। ওরা স্বপন বোসের ক্লাশ মেট। মাঠের ধারে কিংবা নদীর ধারে জমে উঠা আড্ডায় ওরা সবসময় থাকতো। ব্যাসধরা খেয়ে গেলেন। ছদ্মবেশে একান্ত নিজের মতো করে শৈশব, প্রথম যৌবনের শহরটিকে আর দেখা হলো না। ধরা পরে গিয়ে স্বপন বোসের যে খারাপ লাগছিল তা নয়। বরং ৪ দিন একাকিত্বের ফলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল তা কেটে গেলো।””
স্মৃতিকথা ‘প্রদীপ জ্বলে, সুভাষ শুনি’ মোস্তফা কামাল লিখেছেন,….. সুভাষদের সামনের ঘরের বারান্দায় বসে নানা লতা-গুল্ম-শিশি কৌটার যা ক্ষীর মোহন সাহা তামাক টানছেন, কথা বলছেন স্বাভাবিক কণ্ঠে; মাঝে প্রায় ধ্যানস্থ হয়ে আছেন শ্রদ্ধেয় নরেন দাস (ডালু হত্যাকান্ডে নিহত); শুনতে পাই দীর্ঘদেহী ফর্সা বাবু ধীরেন্দ্র চন্দ্র সরকার (আমি কাকা বলে ডাকতাম) কেমন আছো কামাল’ বলে আমার কুশল জিজ্ঞেস করছেন।
এখনো তো দেখতে পাই, সুধাংশুকে কোলে নিয়ে ওর বাবা রামশংকর বাবু ওদের বাসার সামনের আমগাছটার নীচে দাঁড়িয়ে আছেন, সারা গায়ে তিলক কেটে মাখন ধর ঘর থেকে বের হয়ে আসছেন, (কলসীর উপর থালা রেখে, তাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে তার আরতি দেয়ার বিষয়টিই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়) তার ছেলে জিতেনের জ্বালায় কাক-কুকুর ভয়ে পালাচ্ছে, স্যারের ছেলে দীপু একদম দিগম্বর হয়ে গেটের সামনে রাস্তায় বসে খেলছে; সহ-দিগম্বর দীলিপ কোমরের মুনচি’ ধরে টানছে; দুই-আড়াই বছরের স্বপ্না গোপাল নাথের ডালের বস্তার উপর অষ্টমীর পুতুলের মতো বসে আছে। হায়! কি দ্রুত হারিয়ে গেল সেই সব দিন। এতো বছর পর স্মৃতির হৃদয় খুঁড়ে বেদনাকে জাগানো ছাড়া আর কি-ই বা করতে পারি।
তখন তো বাজারে এতো মানুষ ছিল না। এক ইঞ্চি পাকা রাস্তা ছিল না। বিজলী বাতি, টিভি, ক্যাসেট প্লেয়ারে চিৎকার ছিল না। সন্ধ্যার পরপরই ভীষণ অন্ধকার নেমে আসতো। খুব প্রাতে জেগে ওঠা জীবন সন্ধ্যা-রাতেই নিদ্রার করতলে বন্দী হতো। পূজোয় বাজতো না কোন মাইক; ব্যান্ড-সঙ্গীতের নামও শোনা যায়নি। কিন্তু জীবন ছিল আনন্দময়। জীবনের সম্মান ও নিরাপত্তা ছিল। দুর্বৃত্তের ছোবল থেকে রক্ষা পাবার জন্য কোন মা-বোনকেই বেতস লতার মতো কাঁপতে হতো না। টিমটিমে প্রদীপের প্রায় অন্ধকারের ভেতরই আমরা আমাদের শৈশব ও কৈশোরকে কাটিয়েছি-কিন্তু আলোক উজ্জ্বল এ সময়ের মতো অকল্পনীয় নির্লজ্জ, আদিম-বর্বর মানুষের ছদ্মবেশে কোন পশুকে দেখিনি। আন্দময়ীর আগমনে জীবন যথার্থ আনন্দেই ভরে উঠতো-নিরাপত্তার দুর্ভাবনায় জীবনকে নিরানন্দ করার আশংকা কল্পনাতেও ছিল না।
সকল দুর্বৃত্তকে প্রতিরোধ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে, সকল অশুভকে প্রতিহত করার শক্তি নিয়ে এই যে প্রতি বছরের দুর্গাপূজোর আয়োজন-এ আয়োজন সার্থক হোক, সুন্দর হোক-মাভৈঃ।
প্রতিষ্ঠাকালের পর থেকে দক্ষিণ বাজারের এই দুর্গাপূজোর বয়স পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হলো। ব্যক্তিগতভাবে আমি আটত্রিশ বছর ধরে এপূজো দেখে আসছি। প্রিয় প্রদীপ, প্রিয় সুভাষ-আটত্রিশ বছরের অংসংখ্য স্মৃতি ও ঘটনাকে নিয়ে গ্রন্থ লেখা চলে: ক্ষুদ্র রচনার শীর্ণ বক্ষে এর গুরুভার চাপিয়ে দেয়া সম্ভব নয়।”
একটু বড় উদ্ধৃত হয়ে গেলো। নালিতাবাড়ীর সেই সময়ের সমাজ ও সামাজুক পরিমণ্ডল বুঝতে হলে মোস্তফা কামালের কাছে যেতেই হবে।সেখানেই জানতে পারব পড়শীর পাশে পড়শীর জীবন ধর্ম ও সামাজিকতা কী সুন্দর পাশাপাশি চলছে।

লেখক: শিক্ষক, কবি ও অনুসন্ধানী গবেষক ।




