ads

বুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

এলপিজি বাজারে অস্থিরতা : সংকট মোকাবেলায় সরাসরি আমদানিতে যাচ্ছে সরকার

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৮:১২ অপরাহ্ণ

দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে চলমান তীব্র সংকট নিরসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গত ১০ জানুয়ারি সরকার থেকে সরাসরি (জিটুজি) ভিত্তিতে এই আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিপিসি।

Shamol Bangla Ads

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। এর ফলে সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই বাস্তবতায় সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় বিপিসির প্রধান লক্ষ্য।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বাজারে বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই বিভিন্ন জটিলতার কারণে নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

Shamol Bangla Ads

চিঠিতে আরো বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। সরকার আপাতত শুধু আমদানির দায়িত্ব নেবে। আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতই করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের হেড অব ডিভিশন (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) রেদুয়ানুর রহমান বলেন, ‘এলপিজি সংকট মোকাবেলায় সরকার যে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এই উদ্যোগের ফলে দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীল হবে এবং ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেড সবসময় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো সংকট মোকাবেলায় আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা কারণে এলপিজি আমদানি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এখন সরকার যদি নিজ দায়িত্বে আমদানি করতে পারে তাহলে দেশের ভোক্তারা উপকৃত হবেন। আগে দেশের ভোক্তারা বাঁচুক পরে অন্যকিছু। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।’

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নায়। যদিও ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা, বাস্তবে অনেক জায়গায় তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলপিজির সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি পাবেন বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Need Ads
error: কপি হবে না!