‘শ্রীবরদী উপজেলা শিক্ষক ও কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’ (কালব) নামক একটি বেসরকারি ঋণ দান সংস্থা থেকে উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ করে সর্বশান্ত হয়েছে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার অনেক শিক্ষক-কর্মচারী। সংস্থাটির উচ্চ সুদের ঋণের চক্রজালে জড়িয়ে বছরের পর বছর বহু শিক্ষক-কর্মচারীরা অসহায় হয়ে পড়েছে। সময়মতো ঋণের সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে ঋণের মামলা না দিয়ে অন্যায়ভাবে দেওয়া হয় চেক জালিয়াতির মামলা। কালব থেকে ঋণ নিয়ে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। শিক্ষকদের ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তৈরি হওয়া ‘কালব’ যেন শ্রীবরদী’র অনেক শিক্ষকের গলার কাঁটা। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উচ্চ সূদের হার ও নানা অনিয়মের প্রতিকার চান ভূক্তভোগী শিক্ষকরা।
জানা যায়, শিক্ষকদের ঋণ প্রদান করে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ২০০৭ সালে কালব এর যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকেই বহু শিক্ষক কালব থেকে ঋণ গ্রহণ করে অতিরিক্ত সুদের কবলে পড়ে নি:স্ব হয়েছে।
তাতীহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি শহিজল ইসলাম বলেন, আমি ২০১৮ সালে শ্রীবরদী কালব অফিস থেকে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করি। প্রতিমাসেই আমার বেতন থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে। কিন্তু তারপরও আমার বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মামলা দিয়েছে। তারাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী মনু মিয়া বলেন, ২০১৮ সালে আমি কালব থেকে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা নিয়েছি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভ দিয়েছি। আমি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রায় ১৬ মাস যাবত অসুস্থ হয়ে পড়ে রয়েছি। কিন্তু তারা ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই আমি ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করে কালব থেকে পরিত্রাণ চাই। তাতীহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কে.এম রবিউল ইসলাম বলেন, করোনার সময় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ১০০ টাকা ঋণ গ্রহণ করি। আমি মাঝে মাঝে কিস্তি দিয়েছি। কিন্তু তারা বর্তমানে লাভসহ ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ২৫৪ টাকা দাবি করতেছে। আমি টাকা পরিশোধ করতে গেলে তারা বলে, আগে সুদের টাকা জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে আসল টাকা গ্রহণ করবো।
সিংগাবরুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, আমি শ্রীবরদী কালব থেকে ২০১৯ সালে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ঋণ গ্রহণ করি। বর্তমানে কালব থেকে আমার নামে ১০ লক্ষ টাকার চেক ডিজওনার মামলা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, আমি শ্রীবরদী কালব থেকে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করি। বর্তমানে তারা আমার নামে ১৩ লক্ষ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা দিয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কাকিলাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী শাহিনুল ইসলাম কালব এর ঋণের জালে মামলায় পড়ে দেউলিয়া হয়ে এলাকা ছেড়েছেন।
এব্যাপারে শ্রীবরদী কালব এর ম্যানেজার রেহেনা পারভীন বলেন, ঋণ পরিশোধ না করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঋণের বিপরীতে কেন চেক জালিয়াতির মামলা দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা দেওয়ার নিয়ম আছে। এটা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক হয়।
কালব এর শেরপুর জেলা ব্যবস্থাপক সোলায়মান হোসেন বলেন, ঋণ পরিশোধ না করলে চেক জালিয়াতির মামলা করা যাবে। আমরা সমিতিকে টাকা প্রদান করি। সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি শিক্ষকদের ঋণ দেন। মামলার বিষয়টি তারা দেখেন।




