ads

সোমবার , ৩ মার্চ ২০২৫ | ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

তালাত মাহমুদ : যে কণ্ঠধ্বনি আর বাজে না

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মার্চ ৩, ২০২৫ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

আইয়ুব আকন্দ বিদ্যুৎ

‘নক্ষত্রের জিভে লেগে আছে কালির স্বাদ
তোমার কবিতা ভেঙে পড়ছে মহাকাশের অসীম শূন্যতায়
যেন শব্দরা আজ বিভ্রান্ত পথিক–
কোথায় ফেলে এলে শেরপুরের সে প্রাচীন অক্ষর-বাগান?’
কবি বিপ্লব সাহা তাঁর ‘তালাত মাহমুদ : এক বছরের দূরত্ব’ কবিতায় এভাবেই স্মরণ করেছেন কবিকে। এক মহাকাব্যিক মহাপুরুষের অন্তর্ধানের এক বছর অতিক্রান্ত হতে না হতে আমরা তাঁর অভাব, তাঁর অনুপস্থিতি আজ মর্মে মর্মে অনুধাবন করছি হৃদয় দিয়ে। আমাদের শেরপুর জনপদের এই প্রাণপুরুষ, এই আন্ধার মানিককে হারিয়ে আজ আমরা যেন অভিভাবকশূন্য। কেননা অদম্য কর্মকুশল আর অমিত শক্তি আর ভালবাসার কবি তালাত মাহমুদকে হারিয়ে আজ আমরা যেন সেই আঁধারে নিমজ্জিত। আমাদের শেরপুরের তৃণমূলের কবিদের বাতিঘর যেন ছিলেন কবি তালাত মাহমুদ। তিনি ছিলেন অসম্ভব একজন কবি বান্ধব সংগঠক। তাঁর কণ্ঠধ্বনির আহ্বান আর সুমিষ্ট হাসির ঝর্ণাধারায় কবির ডাকে শেরপুরের কবিরা এসে সমবেত হতেন নিমিষেই, তিনি যেন ছিলেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা কিংবা কবিদের রাখাল রাজা।তাই তাঁর বিহনে সত্যিই কবিতার ‘শব্দরা’ আজ’ বিভ্রান্ত পথিক’।
কবি তালাত মাহমুদ মাতৃকোল আলোকিত করে ১৯৫৭ সালের ২০ আগস্ট শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা ইউনিয়নের বাছুরআলগা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তারপর তিনি প্রাথমিক, মাধ্যমিক পাঠ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের অধীনে পাস করেন স্নাতক ডিগ্রি এবং আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যয়ন করেন স্নাতোকোত্তরে। কবি তাঁর স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের আগেই জড়িয়ে পড়েন সাংবাদিকতায় ও সাহিত্য সাধনায় এবং ১৯৭৩ সাল থেকেই সম্পাদনা করেন সাহিত্য পত্রিকা ‘সাহিত্য দর্পণ'(১৯৭৩-১৯৮৬)। কবি ১৯৭৫ সালে প্রকাশ করেন তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘স্বর্গের দ্বারে মর্ত্যের চিঠি’। কবি ১৯৭৯ সালে অর্জন করেন স্নাতক ডিগ্রি এবং সে বছরই প্রকাশ করেন তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘গীতলতিকা’। আর তার দীর্ঘদিন পরে ১৯৯৯ সালে প্রকাশ করেন তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘লোকহীন লোকারণ্য’ এবং সে বছরই সাহিত্য পত্রিকা ‘আমরা তোমারই সন্তান’ সম্পাদনায় নেমে পড়েন। সেই থেকে কবি তালাত মাহমুদ মৃত্যু অবধি ‘আমরা তোমারই সন্তান’ সম্পাদনায় নিযুক্ত ছিলেন।
তালাত মাহমুদ ছিলেন মূলত সত্তর দশকের কবি। কিন্তু আশির দশকের শুরুতেই তিনি হয়ে যান একজন আলোড়ন সৃষ্টিকারী কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। প্রচণ্ড কর্ম ক্ষমতার অধিকারী ও ক্ষুরধার লেখনির আপোসহীন কলম সৈনিক তালাত মাহমুদ ছিলেন জাতীয় লেখক,শিল্পী সংগঠন ‘লেকশি’ (লেখক কল্যাণ শিবির) এবং কবিসংঘ বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। কবি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত কবিসংঘ বাংলাদেশ -এর সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আর এ কারণেই কবি শেরপুরের কবিদের সংগঠিত করেছিলেন তৃণমূল থেকে। যদিও কবি তাঁর প্রতিষ্ঠিত কবিসংঘ বাংলাদেশ-এ শেরপুরের কবিদের সংগঠিত করেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে। শুধু তাই নয় কবি তার কবিসংঘে জামালপুর, নেত্রকোণা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ ১২ টি জেলার কবিদের অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। শেরপুরের কবি হিসেবে বাংলা একাডেমির পুরস্কার প্রাপ্ত কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল -এর সাথেও ছিল কবি তালাত মাহমুদ -এর মধুর সম্পর্ক। আমরা কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে কবি তালাত মাহমুদ -এর সখ্যতা প্রত্যক্ষ অবলোকন করেছি।
সাহিত্যে ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য কবি তালাত মাহমুদ ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে সাড়া জাগানো ‘জিল বাংলা সাহিত্য পুরস্কার’ -এ ভূষিত হন। কবি তাঁর সাংবাদিকতা জীবনে যেমন ছিলেন অনন্য-উজ্জ্বল তেমনি সাহিত্য জগতেও ছিলেন ঈর্ষণীয় কৃতিত্বের অধিকারী। কবির কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধসহ বিভিন্ন লেখা জাতীয় দৈনিক ‘ইত্তেফাক, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক জাহান, সচেতন কণ্ঠ, সাপ্তাহিক শেরপুর, দশকাহনীয়া, কালের ডাক, পল্লীকণ্ঠ প্রতিদিন, ভোরের আলো, শ্যামলবাংলা২৪ডটকম, শেরপুরটাইমসডটকম, বাংলার কাগজ, আজকের পত্রিকা, ভোরের আকাশসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
নীল কণ্ঠ কবি তালাত মাহমুদ সাহিত্য সাধনায় ছিলেন শেরপুরের অগ্রপথিক আলোকবর্তিকা আর পেশায় ছিলেন একজন যশস্বী সাংবাদিক। তিনি ছিলেন শেরপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য। ছিলেন সাপ্তাহিক জামালপুর বার্তার প্রথম বার্তা সম্পাদক, দৈনিক দেশবাংলার সম্পাদনা পরিষদ সদস্য, আজকের বাংলাদেশের সহকারী সম্পাদক, সাপ্তাহিক সফিয়ার সম্পাদক ( চলতি দায়িত্ব), বিলুপ্ত সাপ্তাহিক জনকণ্ঠের প্রধান সহকারী সম্পাদক, দৈনিক ঢাকা রিপোর্টের প্রধান সহকারী সম্পাদক, সাপ্তাহিক শেরপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক পূর্বকথার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক ঝিনাইয়ের উপদেষ্টা সম্পাদক,পল্লীকণ্ঠ প্রতিদিন এর সহযোগী সম্পাদক। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বরেণ্য কবি তালাত মাহমুদ আমাদের চরাচরে আর নেই। তাঁর স্মিতহাস্য বদন আমাদের চোখের সামনে না থাকলেও হৃদয়ে ভাস্বর যেন পলে পলে। আমাদের ভালবাসার এই প্রিয় কবি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দের ৩ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেরপুরের জেলা সদর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। আজ ৩ মার্চ’ ২৫ কবির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে আমরা কবির আত্মার চির শান্তি কামনা করছি।
কবি বিপ্লব সাহার ভাষায় বলি–
‘তোমার নাম উচ্চারণ করলেই
সমস্ত মহীয়সী বৃক্ষরা মৃদু কেঁপে ওঠে’
—– —— ——- ——
‘তালাত মাহমুদ
তুমি এখনও আছো /সময় আর বাস্তবতার সীমান্তে
এক অদৃশ্য কবিতা হোয়ে!’
কবির চরণ তলে শ্রদ্ধা! শ্রদ্ধা! শ্রদ্ধা!

Shamol Bangla Ads

লেখক : কবি, ছড়াকার ও শিক্ষক, শেরপুর।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!