দাঁত ব্রাশ; দিনের শুরুতেই যে কাজটি প্রথমে সকলেরই করতে হয়। আর তাই অল্প বয়স থেকেই ছোটদের দাঁত ব্রাশে অভ্যস্ত করানো জরুরি। দাঁতের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে শিশুদের রক্ষা পাওয়ার উপায় নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বয়স ১২ বছর হওয়ার আগেই ছোটদের ওপর ও নিচের চোয়াল মিলিয়ে ২০টি দুধ দাঁত গজায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ২৮টি স্থায়ী দাঁত ওঠে। অনেক পরে আরো চারটি আক্কেল দাঁত গজায়। দাঁত ওঠার পর থেকেই নিয়মিত দাঁতের যত্ন নিতে হবে। এতে আজীবন দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকবে। আসুন জেনে নেয়া যাক…


কখন দাঁত ব্রাশ করাবেন:

৬ মাস বয়স পর্যন্ত অর্থাত্ দাঁত ওঠার আগে শিশুদের মাড়ি নিয়মিত নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে।
প্রথম দাঁত উঁকি দিলে দাঁতের যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে। দাঁত উঠলেও অনেক শিশু কুলি করতে পারে না। কুলি করা শেখার আগ পর্যন্ত এভাবেই যত্ন নিতে হবে। শিশু যখন থেকে কুলি করতে শিখবে তখন তাঁকে ব্রাশ করাতে হবে।
টুথপেস্ট:
এক থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ফ্লোরাইডমুক্ত টুথপেস্ট দিতে হবে। এই বয়সী শিশুদের জন্য বিভিন্ন রং ও স্বাদের জেল টুথপেস্ট দিতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় শিশুর পছন্দের স্বাদ ও রঙের টুথপেস্ট বেছে নেওয়া। অনেক শিশু কুলি করতে পারে না। অনেক সময় টুথপেস্ট গিলে ফেলে। এ ধরনের জেল টুথপেস্টে ফ্লোরোসিস হওয়ার শঙ্কা কমে। তিন বছর বয়স থেকে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। ফ্লোরাইড দাঁত শক্তিশালী করে, দাঁত ক্ষয় রোধ করে এবং মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে। ব্রাশ করার পর অবশ্যই মুখ ভালোভাবে ধুয়ে কুলি করাতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কের টুথপেস্ট শিশুদের দেওয়া যাবে না। এতে ফ্লোরাইড বেশি থাকে, যা ছোটদের দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

কতটুকু টুথপেস্ট লাগবে:
শিশুর বয়স ৩ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি চালের দানার সমান টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করাতে হবে। ৩ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের একটি মটর দানার সমান টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। সকালে খাওয়ার পর এবং রাতে খাবার পর দাঁত ব্রাশ করতে হবে। প্রতিবার কমপক্ষে ২ মিনিট দাঁত ব্রাশ করাতে হবে শিশুদের।
টুথব্রাশ:
এক থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ছোট মাথার টুথব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। ব্রাশের শলাকা নরম ও মাথা গোলাকার এমন ব্রাশ বেছে নিতে হবে। ব্রাশের হাতল এমন হতে হবে যেন শিশু স্বাচ্ছন্দ্যে হাতের মুঠোয় ধরতে পারে। শিশুর দাঁত সুস্থ ও ক্যাভিটিমুক্ত রাখতে প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করাতে হবে। শিশুর বয়স সাত বছর হওয়া পর্যন্ত খেয়াল রাখতে হবে সে সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করছে কি না।

খাদ্যাভ্যাস:
শিশুদের দাঁত ক্ষয়ের প্রধান কারণ ক্ষতিকর খাবার। চিপস, চুইংগাম, কোমলপানীয়, মিষ্টি, আইসক্রিম দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এসব খাবারের বদলে ফলমূল ও শাক-সবজি, দুধ, ডিম, দইসহ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াতে হবে। ভিটামিন ‘সি’ দাঁতের জন্য ভালো। তাই টক ফল খাওয়াতে পারেন। দাঁতের যেকোনো সমস্যা দেখা দেওয়া মাত্র একজন ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হবে।
গর্ভাবস্থা থেকেই শুরু হোক সতর্কতা:
গর্ভধারণের প্রথম ছয় সপ্তাহ থেকেই শিশুর দাঁতের গঠনপ্রক্রিয়া শুরু হয়। গর্ভকালীন মায়ের অপুষ্টির প্রভাবে শিশুর দাঁতের গঠনও হতে পারে ত্রুটিপূর্ণ। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুর দাঁতের গঠন দুর্বল হয়। এতে দাঁত সহজেই ভেঙে যায়, রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ জন্য গর্ভধারণের পরপরই একজন গাইনি চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।




