ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে কুম্ভমেলার পুণ্যার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ভিড় এবং ধাক্কাধাক্কির কারণে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন নারী ও শিশু ছিলেন, এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যখন গতকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২টি ট্রেন বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। এই ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। ১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিআরটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল দিল্লি রেলস্টেশনের ১৩ এবং ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে, যেখানে কুম্ভমেলার পুণ্যার্থীরা অপেক্ষা করছিলেন। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের দেরি এবং বাতিল হওয়া ট্রেনের কথা শুনে ভিড় বাড়তে থাকে। ফলে প্ল্যাটফর্মে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যদিও ভারতীয় রেলওয়ে এই দাবিটি গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এ ঘটনায় দিল্লির এলএনজেপি হাসপাতালে ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১০ জন নারী, ৩ জন শিশু ও ২ জন পুরুষ ছিল। আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে লেডি হার্ডিং হাসপাতালে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর তদন্ত শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও শোক জানিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরও শোক জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রেল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোন পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেনি এবং ভিড়ের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তারা জানিয়েছে, প্রয়াগরাজের দিকে যাওয়া বিশেষ ট্রেন দুটি চালানো হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




