লুটের সময় অন্তত ১০টি গাড়িতে আগুন
শেরপুরে মুর্শিদপুর দোজা পীরের দরবারে হামলার ঘটনায় একজনের মৃত্যুর জেরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় দরবারের লোকজনের লংমার্চ ঘোষণা এবং মুসল্লীদের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণায় দিনভর ছিল উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৮ নবেম্বর শুক্রবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শহরের শেরীব্রিজ মোড়, কুসুমহাটি মোড় ও লছমনপুর এলাকায় বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। এদিকে শুক্রবারও দ্বিতীয় দিনের মতো পীরের দরবারে লুটপাটের সময় ব্যবহৃত দুইটি মিনি ট্রাক এবং অন্তত ৮টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ভ্যানগাড়ি পুড়িয়ে দেয় দরবারের মুরিদরা। পরে চারদিক থেকে পাল্টা ধাওয়ায় পালিয়ে যান দরবারের খাদেমসহ মুরিদরা।
জানা যায়, শেরপুর সদরের লছমনপুর গ্রামের মুর্শিদপুর খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবারের মুরিদ ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় মারা যান স্থানীয় হাফেজ উদ্দিন। এরপর বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ জনতা পীরের দরবারে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এর জের ধরে শুক্রবার লংমার্চের ঘোষণা দেন পীরের অনুসারীরা। আর লংমার্চ প্রতিরোধের ঘোষণা দেন শেরপুরের তৌহিদী জনতা। এতে সকাল থেকেই লছমনপুরসহ তার আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো পীরের দরবারের বিশাল জায়গাজুড়ে থাকা গাছপালা কেটে নেওয়াসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র গাড়িতে লুট করা শুরু করে দুর্বৃত্তরা। পরে দরবারের কিছুসংখ্যক মুরিদ ও খাদেমরা দরবারে প্রবেশ করে দুটি ট্রাকসহ অন্তত ১০টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে শহরের শেরীব্রিজ ও কুসুমহাটি এলাকার রাস্তায় তৌহিদী জনতা গাছের বেরিকেড ফেলে গাড়ি চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়। পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বেরিকেড তুলে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুরোধে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছে বিজিবি। আমরা স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। একই কথা জানিয়েছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুবায়দুল আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আর হাফেজ উদ্দিন নিহতের ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ পাইনি। তারা আদালতে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া দরবারে ভাংচুরের ঘটনায় নতুন করে কোন অভিযোগ পাইনি।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে শেরপুরের মুর্শিদপুর দোজা পীরের দরবারের মুরিদ ও স্থানীয় জামতলা ফারাজিয়া আল আরাবিয়া ক্বওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং তৌহিদী জনতার মধ্যে দরবার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।