শেরপুরে সবুজে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ। চারদিকে তাকালে চোখে পড়ে সবুজের সমাহার। যতদূর দু’চোখ যায় শুধু সবুজের হাতছানি। আমন ধানের ফসলের মাঠের দিকে তাকালে যে কেউ এই সবুজের মায়ায় পড়ে যাবে। চলতি মৌসুমে আমন ফসলের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কৃষকরা সঠিক সময়ে তাদের ইচ্ছেমত আমন ধানের চারা রোপণ করতে সক্ষম হয়েছেন। রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাজার হাজার কৃষক আমনের চারা রোপণ করেছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় সার-কীটনাশক ও শ্রমিকের কোন সংকট দেখা দেয়নি। দেখা দেয়নি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি কৃষকদের দেয়া হয়েছে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ।
আমন ফসল ঘরে তুলতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সরকারের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। সঠিক সময়ে চারা রোপণ, রোপা আমনের পরিচর্যা করার জন্য পরামর্শ প্রদান, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্বল্প মেয়াদী ধানের আবাদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ধান গাছে থোড় বের হয়েছে। কোন কোন স্থানে ধান বের হয়েছে। আবার আগাম জাতের ধান কাটাও শুরু হয়েছে। কৃষকরা চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেধে মাঠে কাজ করে আসছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় সঠিক সময়ে তারা ধানের চারা রোপন ও পরিচর্যা করতে সক্ষম হয়েছেন। কোন কোন এলাকায় স্বল্প মেয়াদী ধান কাটতেও শুরু হয়েছেন কৃষকরা।

জেলা খামারবাড়ী সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য উদ্বৃত্ত অঞ্চল শেরপুর জেলায় চলতি আমন মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৯৩ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় আমন আবাদ হয়েছে ৯৩ হাজার ৭০৮ হেক্টর জমি। এর মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় ২৪ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমি, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ২৩ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমি, শ্রীবরদী উপজেলায় ১৭ হাজার ৯৫৪ হেক্টর জমি, ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমি ও নকলা উপজেলায় আমন আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ১১১ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯ মেট্রিকটন ধান। তবে এ লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন কৃষক ও কৃষিবিভাগ।
জেলা খামারবাড়ীর হিসাবমতে, শেরপুর জেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯১ জন। উল্লেখযোগ্য ধানের প্রজাতির মধ্যে রয়েছে হাইব্রীড জাতীয় ধানীগোল্ড, এ-২, ৭০০৬, উইন ২০৭, ব্রীধান ৬১, ৬২, ৭১, ৭২, ৭৫, ৮৭, ১০৩ ছাড়াও পাইওনিয়ার ও মুক্তি। স্থানীয় জাতের মধ্যে রয়েছে তুলশীমালা ও চিনিশাইল।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা খামারবাড়ীর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সঠিক সময়ে চারা রোপন ও ধান ক্ষেতের পরিচর্যা করতে সক্ষম হয়েছেন। ধান কাটার আগমুহূর্ত পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আমরা আশাবাদী।




