ads

রবিবার , ৯ জুন ২০২৪ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নেত্রকোণায় জঙ্গি আস্তানায় ৩০ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের সমাপ্তি

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ৯, ২০২৪ ৯:২৭ অপরাহ্ণ

নেত্রকোণা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ভাসাপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িটিতে ৩০ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষ হয়েছে। নেত্রকোণা জেলা পুলিশ, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল (সোয়াট), সাইবার টিমসহ বেশ কয়েকটি বিশেষ টিমের দেড় শতাধিক পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযান সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শেষ হয়। এ বাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ও খেলনা একে-৪৭ সহ বিভিন্ন ধরনের ৮০টি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

Shamol Bangla Ads

অভিযান শেষে ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শাহ আবিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, গতকাল দুপুরে সুনির্দিষ্ট একটি তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের নেত্রকোণা জেলা পুলিশের একটি টিম, সদর থানা পুলিশের ওসি, সার্কেল এসপিসহ এখানে আসেন। আমাদের কাছে একটি সংবাদ ছিল যে এখানে যারা বসবাস করতেন তাদের একজন নরসিংদীতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমরা জানতে পারি এখানকার যে বাড়িটি এই বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন।

বাড়িটির মালিক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। এটা উনার একটা ফিশারি প্রজেক্ট ছিল। নরসিংদীতে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম হোসেন ফাহিম, ওরফে আরিফ যে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে তিনি এখানে বসবাস করত তার পরিবার নিয়ে। আমরা অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছি তারা ২-৩ বছর যাবৎ এখানে বসবাস করছেন। নরসিংদীর পুলিশ আমাদেরকে জানায়, এখানে এ রকম একটা ফিশারি প্রজেক্ট আছে কিনা? আমরা খোঁজ নিয়ে তাদের নিশ্চিত করি যে নেত্রকোণাতে এ রকম একটি প্রজেক্ট আছে।

Shamol Bangla Ads

ডিআইজি আরও বলেন, এ বাড়ির যে মালিক আব্দুল মান্নান তিনি, ওসি সাহেবকে ফোন দিয়ে জানান যে তারা এখানে ভাড়া থাকতো। এবং তিনি জানতে পারেন তাদের একজন অস্ত্র মামলায় আটক হয়েছে। তিনি ধারণা করছিলেন যে এখানে হয়তো আরো কিছু থাকতে পারে এবং বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ এখানে গতকাল এসে বিধি মোতাবেক এলাকার লোকদের নিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং প্রাথমিক তল্লাশিতে একটি অস্ত্র ও গুলি পাওয়া যায়। পুলিশ আরও তদন্ত করার পর বুঝতে পারে ভেতরে বিস্ফোরক দ্রব্য আছে এবং এখান থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হতে পারে, যা নিরাপদ নয়। এরই প্রেক্ষিতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা প্রতিনিধি পাঠায়।

তিনি বলেন, সকালে ময়মনসিংহ এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান আব্দুল্লাহ চৌধুরী সকালে তার টিম নিয়ে আসেন। এর পরপরই এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের প্রতিনিধি হিসেবে পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন তার টিম নিয়ে আসেন। তিনি এসে বিস্তারিত দেখে সিদ্ধান্ত নেন এক্সপার্ট টিম এনে এটাকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। এবং আমরা সেভাবেই কার্যক্রম গ্রহণ করি। আজকে সকাল থেকে অভিযানের পর কিছুক্ষণ আগে আপনাদের সামনে দুটি শক্তিশালী আইইডি বোমা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আমরা ভেতরে ঢুকে দেখতে পেলাম সাধারণত বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে যারা কাজ করে তাদের ওখানে যে ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, ওই ধরনের আলামত আমরা এখানে পেয়েছি এবং সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

ডিআইজি আরও বলেন, এখানে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ১৭ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, দেশি রামদা, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ, খেলনা একে-৪৭, ইলেকট্রিক করাত, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম, ছয়টি সিসিটিভি ক্যামেরা, দুটি ফ্লাশ লাইট, একটি মার্শাল আর্ট ড্রেস, পাঁচটি এন্ড্রয়েড ফোন, সাতটি বাটন ফোন, একটি ল্যাপটপ, দুটি দূরবীন, অত্যাধুনিক কম্পাস, সিলিকনের তৈরি মানবাকৃতির পাঞ্চিং বক্সসহ ৮০টি আলামত জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি এখানে যে দুটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে সেগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। একটি বোমা অবস্থানগত কারণে বাসার ভেতরেই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ করতে আমরা বাধ্য হয়েছি। আরেকটি বাইরে নিয়ে এসে আপনাদের সামনেই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ করা হয়েছে।

ভেতরে যে দুটি বোমা পাওয়া গেছে, সেই দুটি বোমা যথেষ্ট শক্তিশালী। বোমা দুটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিন্তু অসাবধানতা বসত যদি এগুলো বিস্ফোরিত হতো তাহলে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতো। আমরা যেসব জিনিসপত্র এখান থেকে উদ্ধার করেছি তা দেখে আমাদের মনে হয়েছে এটা একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

গতকাল রাতে শহরের বনুয়াপাড়া এলাকায় আরেকটি বাড়ি পুলিশ ঘিরে রাখে। সেখানে অভিযান চালানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই বাড়ির ঘটনার সঙ্গে ওই বাড়ির কিছু লিংক আছে। কিন্তু তদন্তের গোপনীয়তার কারণে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলছি না। সময় হলে আপনাদের এ বিষয়ে তথ্য জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, নেত্রকোণায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে শনিবার (৮ জুন) দুপুর থেকে একটি বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ভাসাপাড়া গ্রামের ওই বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। বিকেলে ঘটনাস্থলে আসেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেক আগে থেকেই এই বাড়িটির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান শেষে ওই দিনের মতো অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়। রোববার সকাল সাড়ে আটটা থেকে পুনরায় অভিযান শুরু হয়। সারাদিনের অভিযান শেষে সন্ধ্যায় প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযানের সমাপ্তি টানেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন।

error: কপি হবে না!