ads

বুধবার , ২২ মে ২০২৪ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

 করের হিসাব কঠিন মনে হয়? ভাড়া আয়ের কর সহজে হয়! : কৃষ্টি রানী সিংহ রায় পর্ণা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মে ২২, ২০২৪ ২:১১ অপরাহ্ণ

আপনি যদি বাংলাদেশের নাগরিক হোন এবং সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে উপার্জন করে থাকেন তাহলে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী আপনাকে কর পরিশোধ করতে হবে। এর জন্য কিছু তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজনীয়। আয়কর আইন ২০২৩ অনুসারে, ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।যেমন:১: আবাসিক বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়, ২: ব্যবসায়িক কাজের জন্য ভাড়া দেওয়া সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয়। এই দুটি আয়ের হিসাব কিছুটা আলাদা তাই করদাতার আয়কর রিটার্ন ফর্ম তৈরি করার সময় জানা প্রয়োজন তার কোন ধরনের ভাড়া থেকে আয় হচ্ছে। যেমন:মেরামত, ভাড়া সংগ্রহ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন মৌলিক সেবা সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য নিম্নলিখিত অংক:

  • বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার ৩০% ( ত্রিশ শতাংশ)
  • আবাসিক কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তির ভাড়ার ২৫% ( পঁচিশ শতাংশ)
  • অন্যান্য সম্পত্তির ভাড়ার (যেখানে প্রযোজ্য) ১০% (দশ শতাংশ) বিয়োজনযোগ্য।
Shamol Bangla Ads

এবার একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের উপর কিভাবে কর পরিগণনা করা হয় তা জেনে নেওয়া যাক।

ধরা যাক, জনাব অমিত মিরপুরে একটি তিনতলা ভবনের মালিক যেটি দুই বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। তিনি তার পরিবারের সাথে ২য় তলায় বসবাস করেন এবং ৩য় তলাটি মাসিক ২৫,০০০ টাকায় আবাসিক উদ্দেশ্যে ভাড়া দেন। ১ম তলাটি একটি প্রাইভেট ব্যাংকের শাখাকে ভাড়া দিয়ে মাসিক ৩৮,০০০ টাকা পেয়েছেন, যেখানে ৫% টিডিএস কেটে রাখা হয়। বাড়িটির বার্ষিক মূল্য ১৫,০০,০০০ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, ভাড়াটিয়াদের পানি ও গ্যাসের বিল জনাব অমিত পরিশোধ করেন, যার বার্ষিক পরিমাণ ১৬,০০০ টাকা। এক্ষেত্রে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী বার্ষিক  ভাড়া হবে, উক্ত সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত ভাড়ার পরিমাণ বা সম্পত্তির বার্ষিক মূল্য, দুটোর মাঝে যেটা বেশি = ১,০০০,০০০টাকা [ভাড়া মূল্য= {আবাসিক উদ্দেশ্যে: (২৫,০০০×১২)=৩,০০,০০০ টাকা +বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (৩৮,০০০ × ১২)=৪,৫৬,০০০}=৭,৫৬,০০০ টাকা এবং টিডিএস { ৪৫৬,০০০ × ৫ ÷ (১০০-৫)}=২৪,০০০ মোট= ৭৮০,০০০ টাকা, (যার থেকে  ভাড়াটিয়াদের পানি ও গ্যাসের বিল বাবদ পরিশোধিত ১৬,০০০ টাকা বাদ যাবে)( ৭৮০,০০০-১৬,০০০) =৭৬৪,০০০ টাকা এবং বার্ষিক মূল্য { ১,৫০,০০০×(২÷৩)}=১,০০০,০০০ টাকা]। এছাড়া, তিনি বছরে ভাড়াটিয়াদের থেকে ১,০০,০০০ টাকা অগ্রিম পেয়েছিলেন যার ৫০% (৫০,০০০ টাকা ) চলতি অর্থ বছরের ভাড়ার সাথে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া তৃতীয় তলাটি পুরো আয়বর্ষে ২ মাস খালি ছিল। তাই শূন্যতা ভাতা হিসেবে তার ব্যয় ৫০,০০০ টাকা (২৫,০০০×২)। সেক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়ামূল্য =১,০০০,০০০ টাকা (১,০০০,০০০+১,০০,০০০-৫০,০০০-৫০,০০০)।

Shamol Bangla Ads

জনাব অমিত, এ বছর পৌর বা স্থানীয় কর (সিটি কর্পোরেশন ট্যাক্স) দিয়েছেন ১৮,০০০ টাকা ; ভূমি রাজস্ব দিয়েছেন ৬,০০০ টাকা।  ধরা যাক, জনাব অমিত  তার বাড়ির জন্যে ব্যাংক থেকে বাৎসরিক ৬ শতাংশ সরল সুদ হারে ১,০০০,০০০ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।ঋণের বার্ষিক কিস্তি ২,০০,০০০ টাকা (নির্মাণকালের ১.৫ বছরে মোট সুদের খরচ ৯০,০০০ টাকা)। আবার, জনাব অমিত  তার বাড়ির ঝুঁকি নিরসনের জন্যে বীমা পলিসি ক্রয় করেছিলেন। এজন্যে তাকে বীমা প্রিমিয়াম বাবদ প্রদান করতে হয়েছে ১৮,০০০ টাকা। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী ভাড়া থেকে নিম্নবর্ণিত খরচ বিয়োজন করা যায়:

  • সম্পত্তির ক্ষতি বা ধ্বংসের ঝুঁকি কমানোর বিপরীতে নেওয়া বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধ।
  • সম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, সংস্কার, নবনির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা।
  • সম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, মেরামত, নবনির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণের কোনো সুদ বা মুনাফা ভাড়া দেওয়ার আগেই পরিশোধ করা হলে সেই সুদ বা মুনাফা ভাড়া শুরুর পরপ্রথম বছর থেকে মোট ৩ (তিন) বছরের  মাঝে সমকিস্তিতে বিনিয়োগ যোগ্য হবে।

এক্ষেত্রে, জনাব অমিতের বাড়িভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের হিসাব নিম্নরূপ :

বার্ষিক ভাড়ামূল্য                                                                                                                        ১,০০০,০০০ টাকা

বাদ: অনুমোদনযোগ্য খরচ:

১. অনুমোদিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়

 [(৩,০০,০০০ × ২৫%) +(৪,৮০,০০০ × ৩০%)]                      ২,১৯,০০০ টাকা

২. পৌর কর {১৮,০০০× (২÷৩)} *                                                  ১২,০০০ টাকা

৩.বীমা প্রিমিয়াম {১৮,০০০ × (২ ÷ ৩)} *                                      ১২,০০০ টাকা

৪.ভূমি রাজস্ব (৬,০০০ × ২ ÷ ৩) *                                                  ৪,০০০ টাকা

৫.নির্মাণকালের সুদ (৯০,০০০ ÷ ৩)                                             ৩০,০০০

৬. বর্তমান ঋণের সুদ (৬০,০০০ × ২ ÷ ৩) *                               ৪০,০০০ টাকা

মোট খরচ:                                                                                                                                       ৩,১৭,০০০ টাকা

নীট ভাড়া আয়:                                                                                                                           ৬,৮৩,০০০ টাকা

*ভাড়া ২/৩ অংশ, যেহেতু, জনাব অমিত তার পরিবারের সাথে ২য় তলায় বসবাস করেন।

কর নির্ধারণ:

মোট আয়                                                           করহার                                             করের পরিমাণ

প্রথম ৩,৫০,০০০ টাকার জন্য                                            ০%                                                                     –

পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকার জন্য                                        ৫%                                                   ৫,০০০টাকা

এবং অবশিষ্ট ২,৩৩,০০০ টাকার জন্য                           ১০%                                                                ২৩,৩০০ টাকা

মোট ৬,৮৩,০০০ টাকার জন্য                                  –                                                  ২৮,৩০০ টাকা

মোট কর: ২৮,৩০০ টাকা, যার থেকে বিভিন্ন কর ছাড় বাদ যাবে যা আপনি এনবিআরের ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে পারেন।

ভাড়া থেকে আয়ের উপর কর নির্ধারণের নিয়ম জটিল হতে পারে। তবে,আশা করি এই নিবন্ধটি আপনাকে একটি ধারণা দিতে সাহায্য করবে। আরও তথ্য জানতে ভিজিট করুন : https://nbr.gov.bd/

দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। এটি কোন আইনি পরামর্শ নয়। কর সংক্রান্ত বিষয়ে একজন কর বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।

লেখক : শিক্ষার্থী, অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্‌ বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস।

error: কপি হবে না!