ads

রবিবার , ১৭ মার্চ ২০২৪ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

জাতির পিতার জন্মদিন

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মার্চ ১৭, ২০২৪ ১:৩৭ অপরাহ্ণ

আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার এক বর্ধিষ্ণু মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দিনটি বরাবরই সমগ্র জাতির জন্য আনন্দের উপলক্ষ নিয়ে আসে; অন্যান্যবারের ন্যায় এবারও তাই দিবসটি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে উদযাপিত হচ্ছে। ইতিহাস থেকে আমরা জানি, ১৯৪৭ সালে পূর্ববঙ্গকে কৃত্রিমভাবে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দেয়ার মধ্যেই যিনি এই ভূখণ্ডে নতুন এক রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের সম্ভাবনা দেখেছিলেন, তিনি ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। বস্তুত দেশভাগ উত্তর অনিবার্য বাস্তবতায় কলকাতা থেকে ‘স্বাধীন’ পাকিস্তানের অংশ পূর্ব বাংলার মাটিতে পা রেখে তিনি বুঝেছিলেন, বাঙালি প্রতারণার শিকার। অতএব পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ববঙ্গের বিচ্ছেদই চূড়ান্ত সত্য হতে চলেছে। এ কারণেই তিনি নিজ দলের বিরুদ্ধে গিয়ে একদিকে পূর্ব বাংলার নাম পূর্ব পাকিস্তান রাখার বিরোধিতা করেছেন, অন্যদিকে এই ভূখণ্ডের স্বায়ত্তশাসনের দাবি ধারাবাহিকভাবে করে গেছেন। বাঙালিকে স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে স্বাধীনতার জন্য তিনিই প্রস্তুত করেছিলেন। এ কারণেই বঙ্গবন্ধুর জন্ম এই ভূখণ্ডের মানুষের জন্য একটি বিশেষ ঘটনা এবং এই দিবসে সমগ্র বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধামিশ্রিত কৃতজ্ঞতার সাথে তাকে স্মরণ করে।

Shamol Bangla Ads

নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর উত্থানের পূর্ব পর্যন্ত বাংলার রাজনীতি ছিল মূলত কথিত অভিজাত– তার নিজেরই ভাষায়, খাজা-গজাদের আধিপত্যাধীন। তিনিই প্রমাণ করেন পরিশ্রম ও একাগ্রতা থাকলে, সর্বোপরি আমজনতার সাথে হৃদয়ের বন্ধন সৃষ্টি করতে পারলে সাধারণ পারিবারিক পটভূমি থেকে এসেও রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করা যায়। মূলত বঙ্গবন্ধুর এই মৃত্তিকাসংলগ্নতারই প্রতিফলনস্বরূপ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা প্রায় সর্বজনগ্রাহ্য একটা সংবিধান পেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর মাত্র সাড়ে তিন বৎসরের শাসনামলে এখানে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নীতিসমূহ চালু হয়, অনেকাংশে সেগুলির ধারাবাহিকতা রক্ষার কারণেই তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নানাবিধ অর্থনৈতিক-সামাজিক সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটা মর্যাদার আসন পেতে চলেছে।

আমরা জানি, গত দেড় দশকে, বর্তমান সরকারের আমলে দারিদ্র্য ২০ শতাংশের নিচে নেমেছে; প্রাথমিকে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তির পাশাপাশি নারী-পুরুষ সমতা বিধান, শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাসসহ জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাফল্য বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলের আসনে বসিয়েছে। এ কথাও অস্বীকারের উপায় নাই, আজ বাংলাদেশের জন্য যে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের খ্যাতি এসেছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বর্বর হত্যাকাণ্ড না ঘটলে, হয়তো বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আরও অনেক পূর্বেই এমন অর্জন সম্ভব হতো।

Shamol Bangla Ads

আমরা জানি, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবসও উদযাপিত হয়। এটার যথার্থতাও প্রশ্নাতীত। জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধু তার জন্মদিন শিশুদের সাথে কাটাতেন। তিনি মনে করতেন, শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম গেঁথে দিতে পারলে এই জাতিকে কেউ দাবাইয়া রাখতে পারিবে না। তাই শিশুদের উন্নয়নে তার বিশেষ নজর ছিল। তিনি শিশুকল্যাণের জন্য মায়েদের সম্পৃক্ত করে শুধু মা ও শিশু কল্যাণ অধিদপ্তরই প্রতিষ্ঠা করেননি, শিশু অধিকার সুরক্ষায় শিশু আইনও প্রণয়ন করেছিলেন। একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে রাজকোষ প্রায় শূন্য থাকার পরও শিশুর শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। সুতরাং এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, শিশুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ব বোধ করতেন বলেই বঙ্গবন্ধুর মনটাও ছিল শিশুর মতো সরল– যার সুযোগ ঘাতক চক্র নিয়েছিল।

আমরা মনে করি, এই বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ঘিরে/ আনব হাসি সবার ঘরে’ নির্ধারণ করে সরকার সুবিবেচনার পরিচয় দিয়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই জাতির মুক্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। নতুন প্রজন্ম তা যতো উপলব্ধি করবে, মুক্তি ও সমৃদ্ধি ততোই ত্বরান্বিত ও টেকসই হবে।

error: কপি হবে না!