ads

বৃহস্পতিবার , ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুর-১ আসনে জমে উঠছে নির্বাচনী আমেজ ॥ ভোটের মাঠে নৌকা, লাঙল ও ট্রাক

স্টাফ রিপোর্টার
ডিসেম্বর ২১, ২০২৩ ৩:৩৪ অপরাহ্ণ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুরের ৩টি আসনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর ভোটের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। তারা স্ব-স্ব এলাকায় নির্বাচনী কেন্দ্র উদ্বোধনসহ পথসভা ও গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে একদিকে ভোটাররা যেমন ভোট উৎসবে অংশ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন, অন্যদিকে তেমনি এলাকায় ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনের আমেজ। শেরপুর-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সাথে দলের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাশাপাশি জাপা প্রার্থী মাঠে থাকায় এলাকায় ভোটের হাওয়ায় বাড়ছে উত্তাপ। তবে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অপর ৪ প্রার্থীর এলাকায় নেই যেমন অবস্থান, তেমনি ভোটের মাঠেও তাদের বিচরণ চোখে পড়ছে না- এমন চিত্রই উঠে এসেছে শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র পর্যবেক্ষণে।

Shamol Bangla Ads

শেরপুর-১ (সদর) আসনটি সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা নিয়ে গঠিত। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৮৬৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৭ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৯ জন।

আর এ আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৭ জন। তারা হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক মনি (লাঙল), কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ মনোনীত প্রার্থী বারেক বৈদেশী (গামছা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (নোঙর), বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি-বিএসপি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ (একতারা), তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক হোসেন (সোনালী আঁশ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানুয়ার হোসেন ছানু (ট্রাক)।

Shamol Bangla Ads

আওয়ামী লীগ প্রার্থী হুইপ আতিউর রহমান আতিক টানা ৫ বারের সংসদ সদস্য এবং দুদফায় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় হুইপ থাকায় নির্বাচনী এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট এবং প্রায় অর্ধশতাধিক স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নসহ এলাকায় নজরকাড়া উন্নয়ন সাধন করেছেন। কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা হুইপ আতিক সাধারণ জীবন-যাপনের পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে উঠাবসা করায় তিনি একদিকে যেমন এলাকায় মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন, তেমনি ভোটের রাজনীতিতেও হয়ে উঠেছেন হিরো। এবার বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা পঞ্চম দফায় প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন-এমনটা নিশ্চিত জেনে তিনিও বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এলাকার প্রাণের দাবি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও রেলপথ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়নের ষোলকলা পূর্ণ করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তিনি রাতদিন গণসংযোগের পাশাপাশি নানা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যোগ দিচ্ছেন। তার পক্ষে দলের জেলা, উপজেলা, শহর ও তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা-কর্মীরা একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন।

কিন্তু দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়েও এবার স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তার মুখোমুখি হয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানুয়ার হোসেন ছানু। তার সাথে মাঠে নেমেছেন দলের নেতা-কর্মীদের একাংশ। ভোটের রাজনীতিতে এ আসনটি নৌকার ঘাটি হিসেবে পরিচিত পূর্বাঞ্চল ও নৌকাবিরোধী হিসেবে পরিচিত পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত। আতিক পূর্বাঞ্চলের অধিবাসী। আর পশ্চিমাঞ্চলের প্রার্থী হিসেবে ছানুয়ার হোসেন ছানু থাকার পরও এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন মাহমুদুল হক মনি। এছাড়াও একই এলাকায় রয়েছেন বিএনএম প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। ফলে ভোটের সমীকরণে ছানু এখনও আছেন পিছিয়ে। তবে তত্বাবধায়ক সরকারের এক দফা দাবিতে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার পরও বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার ভোটারদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে টানা হচ্ছে। এজন্য নির্বাচনবিরোধী নেতাদের সাথে চলছে রফাদফার প্রচেষ্টা। ইতোমধ্যে ওই ঘরানার মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে নেমেছেন। ফলে নির্বাচনবিরোধীরা ভোট উৎসবে যোগ দিলে ভোটের সমীকরণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এ আসনে জাপা প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি একজন তরুণ শিল্পপতি ও চরাঞ্চলের অধিবাসী হলেও রাজনীতিতে নবীন। প্রায় এক বছর আগে দলে যোগ দিয়ে হয়েছেন জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক। এ আসনটি পরপর ৩ দফায় লাঙলের দখলে থাকায় এলাকায় বিশেষ করে চরাঞ্চলে জাপার এখনও একটা অবস্থান রয়েছে। এক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জোরালোভাবে জাপা প্রার্থী মাঠে রয়ে গেলে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোট বিভক্তির সুযোগে তিনিও মূল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারেন।

এ আসনে বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএমে যোগ দিয়ে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রার্থী হলেও ভোটের মাঠে নেই তার সরব উপস্থিতি। এছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী বারেক বৈদেশী বাউলশিল্পী হওয়ার সুবাদে এলাকায় পরিচিতি থাকলেও অপর ২ প্রার্থী তৃণমূল বিএনপির ফারুক হোসেন ও বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি-বিএসপির আবুল কালাম আজাদের মোটেই নেই পরিচিতি। ভোটের মাঠেও তাদের বিচরণসহ নির্বাচনী কেন্দ্র ও পোস্টার-লিফলেটও চোখে পড়ছে না। ফলে নৌকা, লাঙল ও ট্রাক প্রতীকের সাথে ভোটের মাঠে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারছে না নোঙর, গামছা, সোনালী আঁশ ও একতারা- এমনটাই দেখা যাচ্ছে।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!