ads

রবিবার , ১৯ নভেম্বর ২০২৩ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে কার মাথায় মুকুট

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ১৯, ২০২৩ ১২:৩২ অপরাহ্ণ

সবরমতী নদীর উপচে পড়া জলে ভোরের আশ্চর্য এক সরল রোদ এসে ঠিকরে পড়েছে– প্রশ্ন তাড়া করে এখানে বসেই কি বিখ্যাত গুজরাটি কবি নারসিন মেহেতা তাঁর কল্পনাগুলো ভাসাতেন, এখানে এসেই কি মহাত্মা গান্ধী শান্তি খুঁজে পেতেন? ১৯ নভেম্বর ২০২৩– এ আহমেদাবাদে এসে কারও এমন মনে হলে নিশ্চিত তাঁকে বোকাই ভাবা হবে। কেননা, আজ এ শহর সবকিছু ভুলে শুধুই বিশ্বকাপ ফাইনালে মন দিয়ে আছে। আজ এখানে ১ লাখ ৩২ হাজার আসনের সর্ববৃহৎ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারত-অস্ট্রেলিয়া মহারণ। ছবি বা কবিতা নয়, রাজনীতিও নয়। এই আহমেদাবাদ শুধুই ক্রিকেট দেখতে চায়। রোহিত-কোহলিদের জার্সি সাজিয়ে ক্রিকেটের কাছে নীল আকাশ চায়।

Shamol Bangla Ads

কিন্তু ভারত কি পারবে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্রিকেটের বিশ্বমুকুট তৃতীয়বারের মতো নিজেদের কাছে রাখতে। পারবে কি ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের বদলা নিতে? রোহিতের উত্তর, ‘২০ বছর আগের কথা জানি না, আমরা তাকিয়ে শুধু কালকের (আজ) দিকে।’ অসি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও অতীতের গৌরবে গা-ভাসাতে রাজি নন। ‘অতীত অতীতই, আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’ তাসমানপাড়ের ছেলেরা বুঝিয়ে দিতে চান ষষ্ঠবারের মতো ট্রফি জেতার জন্য তৈরি তারা।

আহমেদাবাদের এই আবেগটুকু বাইরে রেখে তার আগে ইতিহাস, পরিসংখ্যান, অঙ্ক, বিজ্ঞান নিয়ে চর্চা করা যেতেই পারে। সাম্প্রতিক অতীত বলছে, গত তিন বিশ্বকাপে স্বাগতিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১১-তে ভারত, ২০১৫-তে অস্ট্রেলিয়া ও ২০১৯-এ ইংল্যান্ড। গত তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালেই রান তাড়া করা দল ম্যাচ জিতেছে। যার অর্থ আজও মোদির মাঠে আগে ব্যাট করে কোনো বড় স্কোরই নিরাপদ নয়। রাউন্ড রবিন লিগে এই মাঠে যে চারটি ম্যাচ হয়েছে, তার তিনটিই জিতেছে পরে ব্যাটিং করা দল। এমনকি দুটি আইপিএলের ফাইনালেও এই মাঠে ট্রফি নিয়ে গেছে পরে ব্যাটিং করা দল।

Shamol Bangla Ads

আহমেদাবাদের গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে এক ভারতীয় সাংবাদিক তাঁর চ্যানেলের লাইভে বলেই দিলেন– ফাইনালে পরে ব্যাটিং করা দলই চ্যাম্পিয়ন হবে এবং এ জন্য রোহিত শর্মাকে আগে টস জিততে হবে! বিশ্লেষণ বলছে, দু’দলের মধ্যে পাওয়ার প্লেতে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে খানিকটা এগিয়ে ভারত। প্রথম ১০ ওভারে ভারতীয়রা যেখানে ওভারপ্রতি ৬.৮৭ করে রান তুলেছে, সেখানে অসিদের গড় ৬.৫৫। বোলিংয়ে ভারতীয়রা রান দিয়েছে এ সময় ৪.৩৪, অসি বোলাররা নতুন বলে রান দিয়েছে ৪.৭৫।

এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি শহরে গিয়েই বিমানবন্দর থেকে অন্যদের হোটেলে পাঠিয়ে সরাসরি মাঠে চলে আসার একটা অভ্যাস করেছেন কোচ রাহুল দ্রাবিড়। মাঠে এসে শুরুতেই পিচ দেখে থাকেন তিনি, এটা নাকি তাঁর জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে (ভারতীয় সাংবাদিকদের ধারণা অন্তত এমন)। ফাইনালের বাইশ গজে কী দেখতে পেলেন রাহুল? সেটা কি কিছুটা স্লো অ্যান্ড লো? আন্দাজ করা যায়, এদিন পিচ দেখার পর রোহিত শর্মার স্লিপে দাঁড়িয়ে লো ক্যাচিং প্র্যাকটিস করা দেখে। তেমনটি হলে আজ তিনশর নিচে স্কোরও ফাইটিং হতে পারে।

তথ্য বলছে, বাঁহাতি ব্যাটারদের জন্য এই বিশ্বকাপে মূর্তিমান আতঙ্ক মোহাম্মদ শামি। অসি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেডের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন তিনি। এই আসরে ৫২ বলে ৩২ রান দিয়ে ৮ বাঁহাতি ব্যাটারকে আউট করেছেন শামি। বুমরাহ পাওয়ার প্লেতে ওভারপ্রতি মাত্র ২.৭৪ রান দিয়েছেন। সে তুলনায় মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউডরা এবারের আসরে উইকেটের সুবিধা না পেলে পাওয়ার প্লেতে সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি। আজকের ফাইনাল ব্যাটলে টুকরা টুকরা খণ্ড যুদ্ধও হতে পারে। এই যেমন রোহিতের সঙ্গে হ্যাজেলউডের, জাদেজার সঙ্গে ম্যাক্সওয়েলের এবং অতি অবশ্যই বিরাট কোহলির সঙ্গে অ্যাডাম জাম্পার।

ভারত টানা ১০ ম্যাচ জিতে ঘরের মাঠে ফেভারিট হতেই পারে, অস্ট্রেলিয়াও বোধ হয় কম যায় না। তারাও তো টানা আট ম্যাচ জিতেছে। ‘ভারতের মতো আমরা ১০টি ম্যাচ জিততে পারিনি। শুরুতে আমরা দুটি ম্যাচ হেরেছি। এখন পর্যন্ত নিজেদের সেরাটাও দিতে পারিনি। হয়তো সেটা ফাইনালের জন্যই তুলে রেখেছে দলের সবাই।’

প্রচ্ছন্ন একটা হুমকিই কাল দিয়ে গেলেন প্যাট কামিন্স। ১৯৮৭, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭, ২০১৫ সালের পর আবার তাদের সামনে বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ। এ নিয়ে আটবারের মতো ফাইনালে নামতে যাচ্ছে তারা। অসিদের এই বড় মঞ্চের মানসিকতা নিয়ে অনেকের হিংসা হতে পারে। তবে তাদের নিজেদের বাড়তি কোনো আবেগ বোধ হয় নেই তাতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ মাঠ হাজির থাকবেন। শোনা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টোনি আলবেনিজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু ক্যানবেরার অতিথি আসছেন না আজ। তবে মাঠে থাকছেন ভারতের অনেক ধনকুবের, বলিউডের অনেক তারকা। উদ্বোধনের দিন অনুষ্ঠান না থাকায় যে কথা শুনতে হচ্ছে, আজ ফাইনালের ইনিংস বিরতির মাঝে প্রীতিমের গান আর প্রায় পাঁচশ অ্যাক্রোবেটের উপস্থিতি, টসের আগে এয়ারশো দিয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায় ভারত। তবে সব আনন্দযজ্ঞ সম্পূর্ণ হবে যদি আজ রোহিতের হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি ওঠে। কারণ, ক্রিকেটের চেয়েও যে বেশি কিছু চাইছে আজ আহমেদাবাদ।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!