বেশির ভাগ ক্রিকেটপ্রেমী এমনকি সাংবাদিকরাও ভেবেছিলেন, বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম সেশনেই খেলা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ক্রিকেট দেখিয়ে দিল তার অনিশ্চয়তার সুন্দরতম রূপটি। উইকেটে আঁকড়ে পড়ে থাকার দুর্দমনীয় মানসিকতার প্রদর্শন দেখিয়ে ইনিংস হার এড়াল আয়ারল্যান্ড। নিশ্চিত হয়ে গেল যে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামতে হবে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইরিশদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২০০। লিড হয়েছে ৪৫ রানের।

বৃহস্পতিবার ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন সকালে দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণ শুরু করেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং তাইজুল ইসলাম। শুরুতেই তাইজুলের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন হ্যারি টেক্টর। তবে লিটন দাসের পক্ষে ক্যাচ নেওয়াটা কঠিনই ছিল। তবে দিনের প্রথম সাফল্য কোনো স্পিনার নয়, বরং পেসার শরীফুল ইসলামের হাত ধরে আসে। তার বলে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হয়ে ফেরেন পিটার মুর (১৬)। দলীয় ৫১ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি হ্যারি টেক্টর আর লরকান টাকার। দুজনের জুটিতে ৫ উইকেটে ৯৩ রান তুলে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় আয়ারল্যান্ড। বিরতির পর ১৪৫ বলে টানা দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি তুলে নেন হ্যারি টেক্টর। ৫৬ রানে তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি টেক্টর। এরই সঙ্গে ভাঙে ৭২ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। এরপর অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা লরকান টাকারও ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন ৯৪ বলে। এর পরপরই লিড নেয় আয়ারল্যান্ড।

গতকাল দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে দিনশেষে ৪ উইকেটে ২৭ রান তুলেছিল আয়ারল্যান্ড। ২টি করে উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান এবং তাইজুল ইসলাম। এর আগে আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে করা ২১৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৬৯ রানে অল-আউট হয়। এতে টাইগারদের লিড হয় ১৫৫ রানের। মুশফিক খেলেন ১৬৬ বলে ১৫ চার ১ ছক্কায় ১২৬ রানের ইনিংস। এ ছাড়া সাকিব ৮৪ বলে ৮৭, মিরাজ ৫৫ আর লিটন ৪১ বলে ৪৩ রান করেন। আইরিশদের হয়ে ১১৮ রানে ৬ উইকেট নেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রেইন।




