শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় খাঁচায় বন্দী একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় উপজেলার নাকুগাঁও এলাকা থেকে ওই লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নাকুগাঁও এলাকার পাহাড়ের ঢালে একটি গাছে লজ্জাবতী বানরটিকে দেখতে পান ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান। পরে তিনি বানরটিকে ধরে এনে বাড়িতে খাচায় বন্দী করে রাখেন। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় বন বিভাগ ও পুলিশ গিয়ে লজ্জাবতী বানরটিকে মান্নানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে মধুটিলা ইকোপার্কে নিয়ে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, লজ্জাবতী বানর লাজুক বানর নামেও পরিচিত। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই প্রাণীটিকে উদ্ধার করে মধুটিলা-ইকোপার্কে এনে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রাণীটি বর্তমানে সুস্থ্য আছে। যেহেতু এই প্রাণী দিনের বেলায় চোখে দেখতে পায় না।তাই আজ (শুক্রবার) রাতে ইকোপার্কের বনে প্রাণীটিকে অবমুক্ত করা হবে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। এটি দেশের ক্ষুদ্রতম বানরজাতীয় প্রাণী। বাংলাদেশে মূলত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। এগুলো নিশাচর ও বনের গভীরে উঁচু গাছে থাকতে পছন্দ করে। দিনে গাছের খোঁড়লে বা ঘন পাতার আড়ালে ঘুমিয়ে কাটায়। বিরল, নিশাচর ও লাজুক হওয়ায় দিনে সহজে চোখে পড়ে না। এগুলো গাছে গাছেই থাকে এবং সহজে মাটিতে নামে না। অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাফেরা করে। এগুলো সাধারণত ফল, পাতা, উদ্ভিদের কষ বা নির্যাস ইত্যাদি খায়। মাঝেমধ্যে বড় কীটপতঙ্গ, পাখির ডিম-ছানা, সরীসৃপও খেয়ে থাকে।




