ads

বুধবার , ৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ২২শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে বিয়ের আনন্দ শ্রমিক-পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করলেন ইদ্রিস গ্রুপের পরিচালক জিহান

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জানুয়ারি ৪, ২০২৩ ৭:২৮ অপরাহ্ণ

শেরপুরে এবার নিজের বিয়ের আনন্দ কোম্পানীর হাজার হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করে নিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান ইদ্রিস গ্রুপ অব কোম্পানীর পরিচালক গুলজার মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জিহান। ২ জানুয়ারি সোমবার ওই বিয়ের দাওয়াতি মেহমান হিসেবে ছিলেন তাদের কোম্পানীর বিভিন্ন ব্রাঞ্চের ৫ হাজার শ্রমিক, তাদের পরিবার-পরিজন এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সব মিলিয়ে দাওয়াতি মেহমানের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। আর তাতে উৎফুল্ল মনে মালিকের বিয়ের দাওয়াতে শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অবাক করেছে সবাইকে।

Shamol Bangla Ads

ইদ্রিস গ্রুপ অব কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়ার একমাত্র পুত্র ও কোম্পানীর পরিচালক গুলজার মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জিহান সম্প্রতি দেশের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মালিকের মেয়ে ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের ভাতিজি নুসফাত সুমাইরাকে বিয়ে করেন। এর আগে ঢাকায় গায়ে হলুদ ও বিয়ের অনুষ্ঠান হলেও শ্রমিকদের জন্য ছিলো নিজ শহরে বৃহৎ আয়োজন। গেলো ২০ ও ২২ ডিসেম্বর শেরপুরে হয়েছে দেশের নামকরা শিল্পীদের নিয়ে সঙ্গীতানুষ্ঠান ও রিসিপশন। এই আয়োজনেও কোম্পানীর প্রতিটি শাখায় ছিলো শ্রমিকদের জন্য বড় পর্দায় অনুষ্ঠান উপভোগের ব্যবস্থা।

এরপর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৫ হাজার শ্রমিকদের জন্য সোমবার দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বৌভাতের জমকালো অনুষ্ঠান। দিনটিতে ছিল না কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ভেদাভেদ। শ্রমিকরা জানান, তাদের মালিকের এমন আয়োজনে সবাই অনেক খুশি। অনেকে আবার পরিবার নিয়ে এসেছে দাওয়াত খেতে। অনুষ্ঠান ঘিরে শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের মধ্যে বিরাজ করছিল উৎসবের আমেজ। সকাল থেকে সবাই রঙ্গিন কাপড় পড়ে কোম্পানীর মূল ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে। যা ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক ব্যতিক্রম। অনেকে দিনটিকে স্মরণীয় করতে ছবি তোলায় ছিলেন ব্যস্ত। পরিচালকের নতুন সহধর্মিনীর সাথে ছবি তুলতে পেরে আনন্দিত সবাই। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

Shamol Bangla Ads

এদিকে অনুষ্ঠান ঘিরে এক মাস ধরে কোম্পানীর ভেতরে শুরু হয় সাজসজ্জার কাজ। সোমবার ছিল বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান। এছাড়া পুরো কমপ্লেক্স জুড়েই ছিল লাইটিংসহ নানা রকমের সাজ-সজ্জা। কয়েকটি পর্বে সাজানো হয় অনুষ্ঠানমালা। লাল গালিচা এবং ফুল ছিটিয়ে বর-কনে বরন করে শ্রমিকরা। বর-কনেও সব শ্রমিকদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠে। এ সময় সবাই বর-কনের সঙ্গে ছবি তুলেন।

দুপুরের খাবার শেষে মালিক-শ্রমিক ছিল না কোনো দূরত্ব। আনন্দ-উল্লাসে সবাই হয়ে পড়েছিলেন একাকার। বিত্ত-বৈভব ছেড়ে অন্তর থেকে নিজ শ্রমিকদের ভালোবেসেই এমনটা করেছেন ইদ্রিস গ্রুপের পরিচালক গুলজার মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জিহান।
এ বিষয়ে কোম্পানীর শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম জানান, আমাদের বড় সাহেব খুব আদর করতেন। সব ধরনের উৎসব-পার্বণ ছাড়াও বিভিন্ন সময় খাওয়াইতেন। আজ উনি বেঁচে নেই। আমরা উনার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন। আমাদের ছোট সাহেবের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমরা আসতে পেরে খুব খুশি হইছি।

কোম্পানীর ডিজিএম মো. কামরুজ্জামান রিপন বলেন, আমাদের বড় সাহেবের মতো তার ছেলেও মানুষকে খাওয়াচ্ছেন। শ্রমিকদের নিয়ে নিজের বিয়ের আনন্দ করছেন, এজন্য আমরা খুবই খুশি। আল্লাহ আমাদের ছোট সাহেব ও নববধূকে সুখে রাখুন।
কোম্পানীর সেলস বিভাগের প্রধান লুৎফর রহমান ঠান্ডা বলেন, আজকে আমাদের জন্য আনন্দের দিন। আমরা সবাই আমাদের ছোট সাহেবের বিয়ে উপলক্ষে একসাথে সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া ও অনেক আনন্দ-ফুর্তি করলাম। এ আয়োজন করার জন্য আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব ও পরিচালক মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

কোম্পানীর ডিএমডি মুতাসিম বিল্লাহ আরিফ বলেন, আমাদের কোম্পানীর সকল শাখার কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক, সর্বসাধারণ সবাই মিলে একসাথে খাইলাম। এ খাওয়ার আনন্দই আলাদা। এ দিনটির কথা আমরা সারাজীবন মনে রাখবো।

কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের কোম্পনাীর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম শিল্পপতি ইদ্রিস মিয়ার একমাত্র ছেলে তরুণ শিল্পপতি গুলজার মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া জিহানের বিয়েতে সবাই মিলে যে আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, এটা খুব কম কোম্পানীতেই পাবেন। আজ সবাই খুব খুশি। আমরা দোয়া করি নবদম্পতির জন্য তারা যেন সুখে থাকেন।

অন্যদিকে নববধূ নুসফাত সুমাইরা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আমি খুবই খুশি যে এরকম একজন ভাল মানুষের ছেলে সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। আপনারা আমার প্রয়াত শ্বশুরের জন্য দোয়া করবেন। আমি সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং আমাদের জন্য দোয়া চাচ্ছি।

ইদ্রিস গ্রুপের পরিচালক গুলজার মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জিহান জানান, আমার বাবা প্রয়াত ইদ্রিস মিয়া প্রতি বছর বিভিন্ন উপলক্ষে আমাদের সব শ্রমিক, এলাকার গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে প্রীতি ভোজের আয়োজন করতেন। আমার বিয়ে নিয়েও বাবার বেশ পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু তিনি তা শেষ করে যেতে পারেননি। তবে আমার বাবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমার শ্রমিকদের নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করেছি। আজ আমার বাবা নেই, আছেন আমার মা, আমাদের শুভাকাঙ্খীরা। তাদের পরামর্শে আমি চলতে চাই। আমি দোয়া চাই আমরা যেন আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে পারি।

এ ব্যাপারে কোম্পানীর বর্তমান চেয়ারম্যান ও জিহানের মা বেগম রেহানা ইদ্রিস বলেন, আপনারা জানেন আমার সাহেব কত বড় মনের মানুষ ছিলেন। আজ আমাদের একমাত্র ছেলের বিয়ে। বেঁচে থাকলে উনি খুব খুশি হতেন। আমাদের একমাত্র পুত্রবধু ও আমাদের জন্য দোয়া চাই। আজ আমরা যে আয়োজন করেছি, দেখলাম সবাই খুব খুশি। এতে আমরাও খুশি।

error: কপি হবে না!