ads

রবিবার , ৯ অক্টোবর ২০২২ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) প্রচলনের ইতিহাস

ড. আবদুল আলীম তালুকদার
অক্টোবর ৯, ২০২২ ১২:৪২ অপরাহ্ণ

ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) হচ্ছে শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ মোস্তুফা (স.)-এর জন্মদিন হিসেবে মুসলমানদের মাঝে পালিত একটি উৎসব। বিশ্ব মুসলিমদের মাঝে এ দিনটি বেশ উৎসবের সাথে পালন হতে দেখা যায়। তবে এ উৎসব নিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মাঝে অনেক বিতর্ক রয়েছে। হিজরি বর্ষের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল এর বারো তারিখে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশী মুসলমানরা এই দিনকে ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) বলে অভিহিত করে থাকেন। আর পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের কাছে এই দিনটি নবি দিবস হিসেবে পরিচিত।

Shamol Bangla Ads

‘ঈদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ খুশি হওয়া, ফিরে আসা, আনন্দ উদযাপন করা ইত্যাদি। আর ‘মিলাদ’ শব্দের অর্থ জন্মতারিখ, জন্মদিন, জন্মকাল ইত্যাদি। অতএব ‘মিলাদুন্নবি’ (স.) বলতে নবিজীর আগমনকে বুঝায়। আর ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ (স.) বলতে নবি করীম (স.)-এর আগমনে আনন্দ উদযাপন করাকে বুঝায়। সুতরাং অশান্তি আর বর্বরতায় ভরপুর সংঘাতময় আরবের বুকে আধাঁরের বুক চিড়ে মহানবি (স.) শান্তি নিয়ে এসে মানবজাতিকে সত্যের, সভ্যতা ও ন্যায়ের দিকনির্দেশনা দিয়ে গোটা বিশ্বকে শান্তিতে পরিপূর্ণ করে তোলেন। মহানবি (স.)-এর পবিত্র শুভাগমনে খুশী উদযাপন করাটাই হচ্ছে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ (স.)।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, নবি (স.)-এর সময়, খোলাফায়ে রাশেদিনের সময় এমনকি তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের সময়েও ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) নামে কোনো উৎসবের প্রচলন ছিল না। জমহুর মুহাদ্দিসীনে কিরাম, ফিকহ্বিদগণ এবং ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। আব্বাসীয় খলিফাদের যুগে মুসলমানদের প্রধান দুই ঈদোৎসবের বাইরে কোনো দিনকে সামাজিকভাবে উদযাপন শুরু হয় হিজরি ৪র্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে। সর্বপ্রথম ৩৫২ হিজরিতে (৯৬৩ খ্রি.) বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার প্রধান প্রশাসক ও রাষ্ট্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক বনী বুয়াইহির শিয়া শাসক মুইজলি দীনিল্লাহ্ ১০ মুহররম আশুরাকে শোক দিবস ও জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ ‘গাদীরে খুম’ দিবস হিসাবে পালন করার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে এই দুই দিবস সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সাথে পালন করা হয়। ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপন করার ক্ষেত্রেও শিয়াগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

Shamol Bangla Ads

ইতিহাসবেত্তাদের মতে, রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মিশরের ফাতেমীয় শাসকগণ মিলাদুন্নবি উদযাপন করতেন এবং ঈদে মিলাদুন্নবির প্রচলন শুরু হয় হিজরী ৪র্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকেই। রাসূল (সা.), হযরত আলী (রা.), হযরত ফাতিমা (রা.), ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হুসাইন (রা.) এর জন্মোৎসব উদযাপনের মূল প্রবর্তক ছিলেন খলিফা মুইজলি দীনিল্লাহ্।

ইবনে জারীর সূত্র মতে, আব্বাসীয় খলিফাদের যুগে বাদশাহ্ হারুনুর রশীদের মাতা খায়জুরান বিবি ১৭৩ হিজরিতে মদিনা শরীফে নবি (সা.) এর রওজা মোবারক যিয়ারত করার ও সেখানে দরূদ ও দু’আ পাঠ করার যে ব্যবস্থা রয়েছে, ঠিক সেভাবে নবি (সা.) মক্কায় যে ঘরে ভূমিষ্ট হয়েছিলেন, সেই ঘরটির যিয়ারত ও সেখানে দু’আ করার প্রথা সর্বপ্রথম চালু করেন। পরবর্তীকালে ১২ রবিউল আউয়ালে ঐ নারীর নেতৃত্বে তীর্থযাত্রীগণ প্রতিবছর নবি (সা.) এর জন্মদিবস ধরে নিয়ে ঐ ঘরে আনন্দোৎসব পালন করা শুরু করেন।
মুসলিমদের মাঝে এই জন্মবার্ষিকী চালু হওয়ার পর আফজাল ইবনু আমিরুল জাইশ (৪৮৫-৫১৫ হি.) মিশরের ক্ষমতা দখল করে এই মিলাদুন্নবিসহ আরও ৫টি [আলী (রা.), ফাতিমা (রা.), হাসান (রা.), হুসাইন (রা.) ও জাইনুল আবেদিন (রা.)] জন্মবার্ষিকীর প্রথা বাতিল করে দেন। ৫১৫ হিজরিতে শিয়া খলিফা আমির বিল আহকামিল্লাহ্ তা পুণরায় চালু করেন। পরবর্তীতে কুরআন সুন্নাহর অনুযায়ী গাজী সালাহউদ্দীন আইয়ুবি (৫৩২-৫৮৭ হিজরি) ঈদে মিলাদুন্নবিসহ সকল জন্মবার্ষিকী উৎসব বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে যিনি ঈদে মিলাদুন্নবির প্রবর্তক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ তিনি হলেন, ইরাক অঞ্চলের ইরবিল প্রদেশের শাসক আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দীন কুকুবুরী। তিনিই প্রথম সুন্নীসহ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঈদে মিলাদুন্নবির প্রবর্তন করেন। সিরাতুন্নবি গবেষক ও ঐতিহাসিকরা তাকেই মিলাদুন্নবির প্রকৃত উদ্ভাবক বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ তিনিই প্রথম এই উৎসবকে বৃহৎ আকারে উদযাপন শুরু করেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই উৎসবের প্রচলন করেন। সে হিসেবে জানা যায়, ৬০৪ হিজরি থেকে আনুষ্ঠানিক মিলাদ উদযাপন শুরু হয়। মিলাদের উপর সর্বপ্রথম ‘কিতাবুল তানভীল ফি মাউলিদিস সীরা-জিল মুনীর’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন স্পেনের অধিবাসী আবুল খাত্তাব ওমর ইবনে হাসান ইবনে দেহিয়া আল কালবি। যিনি তার ৯০ বছরের দীর্ঘ জীবনে ইসলামি বিশ্বের সর্বত্র ভ্রমণ করেন এবং ঈদে মিলাদুন্নবি নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেন।

ভারতীয় উপমহাদেশে মিলাদুন্নবি প্রচলনকারীরা ছিলেন শিয়া মতাবলম্বী মোগল শাসকগণ। ইসলামী অনুশাসনে মিলাদ, মিলাদুন্নবী প্রচলনকারী হলেন ফাতেমীয় শাসক শিয়া মতাবলম্বী মুয়ীজলি দীনিল্লাহ্ আর ভারতীয় উপমহাদেশে মিলাদ প্রচলনকারী হলেন মোগল সম্রাট হুমায়ুন ও সম্রাট আকবরের মাতা তাদের অভিভাবক বৈরাম খাঁ। সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাষ্ট্রদূত মোগল শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ্ এর মাধ্যমে এই উপমহাদেশে সুন্নীদের মাঝে মিলাদুন্নবির প্রচলন হয়। ফলে শিয়া মতাদর্শী মিলাদ ও মিলাদুন্নবির আনুসাঙ্গিক ব্যাপারগুলো সুন্নীদের মধ্যে প্রচলিত হয়।

ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) উদযাপনের পক্ষাবলম্বীরা তাদের মতের সপক্ষে দলীল হিসেবে সূরা আলে ইমরানের ৮১ নং আয়াতটি উল্লেখ করেন। এ আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন,- ‘হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের ঘটনা যখন আল্লাহ্ পাক আম্বিয়ায়ে কিরামদের নিকট প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অত:পর তোমাদের কাছে যা আছে তার প্রত্যয়নকারীরূপে যখন একজন রাসূল আসবেন তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’

দলীল হিসেবে তারা সূরা ইউনুসের ৫৭ ও ৫৮ নং আয়াতটিও উল্লেখ করেন। এ আয়াতে কারিমায় আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘হে মানবকুল! তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তরসমূহের বিশুদ্ধতা, হেদায়েত এবং রহমত ঈমানদারদের জন্য। হে নবী আপনি বলুন, আল্লাহরই অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে। এটা তাদের সমস্ত ধন দৌলত সঞ্চয় করা অপেক্ষা শ্রেয়।’

পরিশেষে বলা যায় যে, ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) উদযাপনের পক্ষে বিপক্ষে নানা বিতর্ক থাকার পরেও ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে এ দিনটি কালক্রমে উৎসবে রূপ নিয়ে প্রতিবছর সাড়ম্বরে পালিত হয় এবং বাংলাদেশসহ কতিপয় মুসলিম দেশে এদিনটি সরকারি ছুটির দিন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর, E-mail: [email protected]

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!