ads

বুধবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা

মইনুল হোসেন প্লাবন, স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ ১:৪৭ অপরাহ্ণ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে শারদীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শেরপুরে পূজামন্ডবগুলোতে চলছে জোরেশোরে প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির মৃৎশিল্পীরা। দম ফেলার এখন সময় নেই তাদের। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরে রবিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। আগামী ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গা উৎসব।
জানা যায়, এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা শিল্পীরা কল্পনায় দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দিতে রাতভর চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নিখুঁত হাতের কারুকার্য দিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তৈরি করছে প্রতিমা। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ছে শেরপুরের প্রতিমা তৈরি শিল্পীরা। দুর্গার আগমন ও প্রস্থানের বাহন ও তার ফলাফল নিয়ে বাঙালি সমাজে বহু কথা প্রচলিত রয়েছে। দেবী দুর্গা ও তার পুত্র-কন্যার নিজস্ব বাহন থাকলেও আগমন ও প্রস্থানের বাহনের কথা আলাদা করে পঞ্জিকায় উল্লেখ করা থাকে। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, দুর্গার আগমন ও প্রস্থানের বাহন নির্ধারণ করে মর্তলোকে সারা বছর কেমন যাবে। মনে রাখতে হবে পুজোর সপ্তমীতে দেবীর আগমন হয়, আর গমন দশমীতে। ওই ২ দিন সপ্তাহের কোন কোন বারে পড়ছে, তার উপরেই নির্ভর করে দেবীর কীসে আগমন ও কীসে গমন। শাস্ত্রে বলা আছে। দেবী দুর্গার প্রতিমা, বাহন, কার্তিক গনেশসহ নকশা আঁকা কারুকাজে পূজার বেদি তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। ইতিমধ্যে জলমাটির শেষ করে ফেলেছে। শিল্পীর নিপুণ ছোঁয়ায় সূচিত হচ্ছে দেবীর আগমন। প্রথম পর্যায়ের এ কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রং তুলির আঁচড়। তবে সব কষ্ট উপেক্ষা করে দেবীর আগমনে বেশ আনন্দিত ভক্তরা।

Shamol Bangla Ads

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিমা তৈরির কারিগরা বাঁশ, কাঠ, সুতা, খড়, কাদামাটিসহ প্রতিমা তৈরির উপকরণ দিয়ে তাদের নিখুঁত হাতের কারুকার্যে তৈরি করছে প্রতিমা। সদর উপজেলার পালপাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর দিলীপ কুমার পাল, গুরুপদ পাল, অন্ত পাল, শুভাস পাল, বকুল পাল জানান, এ বছর প্রতিমার অর্ডার অন্যান্য বারের চেয়ে বেশি। এখন মাটির ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে এর পরে রংয়ের কাজ করা হবে। এদিকে আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। তাই সময় ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে, যার কারনে সারাদিন কাজ করার পরে রাতেও কাজ করতে হচ্ছে। তবে সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় এখন আর তেমন লাভ নেই। ৭০ বছর যাবত প্রতিমা তৈরী করে আসছে পালপাড়ার মন্টু চন্দ্র পাল। তিনি বলেন, লাভ না হলেও বাপ দাদার পেশা ধরে রেখেছেন তিনি। এখন বাঁশ, কাঠ, সুতা, খড়ের দাম অনেক বাড়তি, তাই খরচ বেশি পড়ছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, মহামারী করোনার কারণে গত দু বছর দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান ছিল। পূজার সেই পুরনো সংস্কৃতি অনেকটা অগোচরে ছিলো সেইসময়। শেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী চন্দ্র বলেন, বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পূজার মণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জাসহ নানা ধরনের আয়োজন ছিলো না গত দু বছর। মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় উৎসবের সব ক্ষেত্রেই আরোপিত ছিলো স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ। এবার তা আর নেই, তাই অনেক মজা হবে পূজোয়।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, শেরপুরে এবার ১৬৩টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে শেরপুর সদরে ৭৭, নালিতাবাড়ীতে ৩৬, নকলায় ২১, ঝিনাইগাতীতে ১৯ ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১০টি মন্ডপ রয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গোৎসবের শুরু ও ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে উৎসব শেষ হবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট সুব্রত কুমার দে ভানু শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে বলেন, এ বছর জেলায় ১৬৩টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। মহামারী করোনার কারণে গত ২ বছর দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান ছিলো। কিন্তু এবার জাঁকঝমকভাবে এ অনুষ্ঠান হবে। সবাইকে শারদীয় দুর্গা পূজার অগ্রীম শুভেচ্ছা রইলো।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!