ads

মঙ্গলবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে নতুন মামলার চেয়ে নিস্পত্তির হার ২০ ভাগ বেশি

জয়ন্ত দে, স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ ৪:১৩ অপরাহ্ণ

দেওয়ানী, ফৌজদারী ও নারী-শিশুসহ বিচারাধীন মামলা ২৪ হাজার

মামলা নিস্পত্তি ও সাক্ষ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে শেরপুর বিচার বিভাগ নজির স্থাপন করেছে। জেলা বিচার বিভাগের আওতায় দেওয়ানী, ফৌজদারী ও নারী-শিশু মিলে ২৪ হাজার ৮৯টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও দায়েরের চেয়ে নিস্পত্তির হার প্রায় ২০ ভাগ বেশি, যা অতীতের সকল সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জেলা বিচার বিভাগের মামলা নিস্পত্তি সংক্রান্ত এক ত্রৈ-মাসিক পরিসংখ্যানে পাওয়া গেছে ওইসব তথ্য।

Shamol Bangla Ads

জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুনের সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় জেলা বিচার বিভাগের ২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈ-মাসিক সম্মেলন। ওই সম্মেলনে আদালতওয়ারী উপস্থাপন করা হয় মামলা নিস্পত্তি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান। প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের তথ্যমতে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত শেরপুর জেলা জজশীপের আওতায় দেওয়ানী, ফৌজদারী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আওতায় জেলায় সর্বমোট ২৪ হাজার ৮৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জজশীপের আওতায় ১২ হাজার ৭৮২টি দেওয়ানী ও ৩ হাজার ২২৩টি ফৌজদারী এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আওতায় ৬ হাজার ৫৯৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আওতায় জেলায় একই সময়ে বিচারাধীন রয়েছে ১৪৯০ টি মামলা।

অন্যদিকে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জেলা জজশীপের আওতায় ৭৩৩টি মামলা দায়ের হলেও নিস্পত্তি হয়েছে ৮০৫টি মামলা ও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে ৮৭৪ জনের। একই আদালতের আওতায় ৬৫৮টি ফৌজদারী মামলা দায়ের হলেও নিস্পত্তি হয়েছে ৪৮১টি মামলা ও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে ৪৫৮ জনের। আর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আওতায় একই সময়ে ৭৭৩টি মামলা দায়ের হলেও নিস্পত্তি হয়েছে ১৩২০টি মামলা ও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে ১৬৪৬ জনের। ফলে ওইসব আদালতসমূহে গড়ে মামলা দায়েরের চেয়ে নিস্পত্তির হার ২০.৪২ ভাগ বেশি। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আওতায় একইসময়ে ৩৪০টি মামলা দায়ের হলেও নিস্পত্তি হয়েছে ৪০৭টি মামলা ও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে ৪০০ জনের। এতে মামলা দায়েরের চেয়ে নিস্পত্তির হার ১৯.৭০ ভাগ বেশি।

Shamol Bangla Ads

এদিকে একইসময়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের আওতায় ৬৭টি মামলার আবেদন গ্রহণ ও ২০টির নিস্পত্তি এডিআরের (বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি) ১১৪টি আবেদন গ্রহণ ও ৬৬টি নিস্পত্তি, ২০৫টি ঘটনায় পরামর্শ প্রদান এবং এডিআরের মাধ্যমে ৩৪টি মামলা নিস্পত্তি হওয়ায় ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ টাকা আদায় হয়েছে। লিগ্যাল এইড অফিসের এ পরিসংখ্যানও অতীতের সকল সময়ের চেয়ে বেশি। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার গোলাম মাহবুব খান জানান, বর্তমানে লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হওয়ায় দিন দিন সফলতা বাড়ছে। ফলে অনেকেই সহজেই ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।

মামলা দায়েরের চেয়ে নিস্পত্তির হার সন্তোষজনক হওয়া প্রসঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, বর্তমানে জেলায় বিচারক স্বল্পতা না থাকায় এবং বার-বেঞ্চের সমন্বয় সাধনে আমরা সকলে মিলে একসাথে কাজ করার সুবাদেই মামলা দায়েরের চেয়ে নিস্পত্তির হার অনেকটা বেড়েছে। তার মতে, জেলায় বিচার অঙ্গনে বড় সমস্যা এজলাস সঙ্কট ও সিজেএম ভবন না থাকা। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের সাক্ষাতের পর আইনমন্ত্রী আশ^স্ত করেছেন দ্রুতই এখানে সিজেএম ভবন হবে। আর এটি হলে বিচারের ক্ষেত্রে শেরপুর একটি মডেল হিসেবে রূপ নিতে পারে।

জেলা জজ আদালতের জিপি আবুল কাশেম ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি গোলাম কিবরিয়া বুলু জানান, বর্তমানে বিচার বিভাগে ক্রিমিনাল রুলস এ্যান্ড অর্ডারস (ভলিউম-১) বিধি মোতাবেক মামলা নিস্পত্তিতে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি ৩ মাস অন্তর বিচার বিভাগীয় সম্মেলন হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বিচার অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি চন্দন কুমার পাল বলেন, করোনাকালীন সময়েও ভার্চুয়ালী আদালত পরিচালনায় শেরপুরের বিচার বিভাগ অনন্য সাক্ষর রেখেছে। বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা থাকায় বর্তমানে মামলা দায়েরের চেয়ে নিস্পত্তির হার যেভাবে বাড়ছে, এজলাস সঙ্কট দূরকরণসহ বিচারের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনে বিচার অঙ্গনে শেরপুর মাইলফলকে রূপ নিতে পারে।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!