ads

বৃহস্পতিবার , ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ডিসি সাহেলা আক্তারের যাত্রা : সমস্যা ও সম্ভাবনার সমীকরণে প্রত্যাশা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

আমাদের শেরপুরের ২৬তম জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং নারী হিসেবে চতুর্থ জেলা প্রশাসক নবাগত সাহেলা আক্তারের যোগদানের পর থেকেই লেখাটির শিরোনাম নির্বাচন করে রাখলেও যন্ত্রচালিতের মতো ব্যস্ত এ জীবনে সময়-সুযোগ হয়ে উঠছিল না। অবশেষে যেন অনেকটা দায়বদ্ধতার তাগিদেই লেখাটি লিখতে হচ্ছে। একজন জেলা প্রশাসকের ভাষ্যমতে, জেলার ‘প্রেসার সংগঠন’ হিসেবে পরিগণিত হাতে গোনা কয়েকটি সংগঠনের মধ্যে আইনজীবী সমিতি ও প্রেসক্লাবের মতো দায়িত্বশীল দুটি প্রতিষ্ঠানের যুগপৎ শীর্ষকর্তা হিসেবে আমার পক্ষে বেশ কয়েকজন জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসনের অনেক শীর্ষ কর্তাদের অনেকটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. নাসিরুজ্জামান, মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, ডা. পারভেজ রহিম, ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, আনার কলি মাহবুব ও মো. মোমিনুর রশীদ। তাদের সাথে আমার সম্পর্কটাও ছিল অনেকটাই মধুর। আর তাদের দু’একজনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সবাই যেন ছিলেন কর্ম পাগল এবং নান্দনিক শেরপুর গড়ার কারিগর। সেই সম্পর্কের সূত্রে প্রায় সকলের সাথেই এখনও যোগাযোগটা রয়ে গেছে।

Shamol Bangla Ads

বলাবাহুল্য, তাদের মধ্যে নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে আনার কলি মাহবুবকে নিয়ে প্রথমে স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই যতটা হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন, তিনি সেই হতাশা স্বল্প সময়েই ভেঙ্গে দিয়ে একজন পরিচ্ছন্ন ও কর্মোদ্যোগী প্রশাসক হয়ে ওঠেছিলেন। সেই সাথে কাজের মধ্য দিয়ে একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে ততটাই সার্বজনীন ও জনবান্ধবও হয়ে ওঠেছিলেন। ঠিক তেমনই এবার জেলা প্রশাসক হিসেবে সাহেলা আক্তারের যোগদান (৩০ মে/২০২২) ও যাত্রায় অনেকেই সন্দিহান হলেও আমি প্রথম থেকেই আশাবাদী এজন্য যে, তিনিও আনার কলি মাহবুবের মতো একজন চৌকস-কর্মঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন। হ্যা, তুলছেনও তাই। সর্বশেষ মোমিনুর রশীদ যোগদানের অব্যবহিত পর পর যেভাবে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন অল্প সময়ে, বিদায়ের মুহূর্তে মানুষের কান্না তার সাথে সেই সম্পর্কেরই যেন জানান দিয়েছে। অবশ্য বেশি মিশতে গিয়ে বা অতি সার্বজনীন হতে গিয়েই কিংবা সাদা ও কালোর প্রভেদ না করে চলাতেই তার কাল হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য। যাই হোক সম্পর্কের সূত্রে জেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের বৃহৎ অংশসহ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তার বদলি প্রত্যাহারের দাবি তোলায় অনেকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন করেছেন, দেখেছেন বাকা চোখে। সূত্রের তথ্যমতে, আবার তাদেরই একটি অতি উৎসাহী অংশ নাকি নয়া জেলা প্রশাসকের কান ভারি করার চেষ্টা করেছেন।

কাজেই সাহেলা আক্তারের যোগদানের পর প্রথমে কিছু কিছু সভা-সেমিনার/অনুষ্ঠানে অনেকটা ভিন্ন স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের বলে মনে হলেও মাত্র ক’মাসের ব্যবধানে তিনি জেলা প্রশাসক হিসেবে নিজেকে বেশ মানিয়ে তুলেছেন ও মানিয়ে উঠছেন। সকাল থেকে প্রাত্যহিক অফিস দায়িত্বের পাশাপাশি প্রতি বুধবার গণশুনানী এবং প্রায়ই খেলার মাঠ থেকে শুরু করে জেলা সদর থেকে উপজেলা কিংবা কোথাও বা তৃণমূলেও ছুটে যেতে পিছপা হচ্ছেন না। আগ্রহ-উদারতা ও কর্ম স্পৃহা তাকে ক্রমেই সাহসী করে তুলছে। আর এমনই অবস্থায় ‘পর্যটনের আনন্দে, তুলশীমালার সুগন্ধে’ বিমোহিত সীমান্তবর্তী প্রান্তিক জেলা শেরপুরের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার সমীকরণে তার কাছে আমাদের তথা শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা তুলে ধরতেই আজকের প্রয়াস।

Shamol Bangla Ads

একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিশ্চয়ই এতদিনে তিনি অধস্তন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা/মতবিনিময়ের মাধ্যমে জেনে গেছেন, শেরপুরের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়গুলো। তারপরও শেরপুরবাসীর হয়ে বহু প্রত্যাশা নিয়ে সেই সমস্যা ও সম্ভাবনার কিছু চিত্র তার দৃষ্টি আকর্ষণে তুলে ধরছি।

সার্বিক আইন শৃঙ্খলা: সার্বিক আইন-শৃঙ্খলার দিক দিয়ে শেরপুর সারাদেশের তুলনায় অনেকটা ভালো অবস্থানে থাকলেও মাদকের ভয়াবহতা রোধ থেকে এ জেলা এখনও অনেক পিছিয়ে। মাদকের অপব্যবহার ও সহজলভ্যতা যেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে মাদকের ভয়বহতার ছোবল অনেক তরুণ-যুবকের জীবন গ্রাস করার পাশাপাশি তার খোদ পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেইসাথে মাদকের করাল গ্রাস কোন কোন ক্ষেত্রে খোদ সমাজকেই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। এছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা, খুন, আত্মহত্যা, চুরি-ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ যতটা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন, তার নিয়ন্ত্রণ গতিটা যেন শ্লথ ও গতানুগতিক। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে বিচরণকারী প্রধান কর্তৃপক্ষ কেবল পুলিশ নয়, তাদের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বিজিবি ও র‌্যাবসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠোর করে তুলতে হবে। দায়সারা অভিযানে যোগ করতে হবে ভিন্ন, গতিশীল ও কার্যকর মাত্রা। সেই সাথে বাড়াতে হবে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ব্যাপক গণসচেতনতা।

যানজট নিরসন: এ জেলায় বিশেষ করে জেলা শহরের প্রধান সমস্যা যানজট। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি শহরে যে পরিমাণ যানজট লেগে থাকে, তাতে প্রতিদিন চাকুরীজীবীসহ অনেকেরই অনেক কর্মঘন্টা অপচয় হয়। অফিস/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে। এক সময় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে, আবার কখনও জেলা পুলিশের উদ্যোগে পৌরসভাসহ যানবাহন মালিক, চালক-শ্রমিক আর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ/পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরও যানজট সমস্যার আজও নিরসন হয়নি। কেবল জোড়-বেজোড় সংখ্যা আর কালার সাদা-কমলা বিভাজন করে একেকদিন একেকটি ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চলাচলের প্রথাটি চালু রয়েছে। তাই যানজট সমস্যা নিরসনে আবারও একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ খুবই প্রয়োজন।
জলাবদ্ধতা দূরীকরণ: যানজটের পাশাপাশি শহরে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব ও জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের প্রাণকেন্দ্রে অনেক রাস্তা হাটু পানিতে তলিয়ে যায় এবং কোথাও কোথাও বাসাবাড়ির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। পরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই এমনটি হলেও নিরসনে নেই কার্যকর উদ্যোগ। কোন কোন ক্ষেত্রে উদ্যোগে নেওয়া হলেও তাতে নেই গতি ও সফল বাস্তবায়ন। এছাড়াও রাতে শহরের সর্বত্র সড়কবাতির অপর্যাপ্তও রয়েছে।
ডিসি উদ্যান ও লেকের উন্নয়ন: ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনের মেয়াদকালে জেলা কালেক্টরেট অঙ্গনে গড়ে তোলা ডিসি উদ্যান করোনাকালীন বন্ধের পর এখন খুললেও যেন প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। শেরপুর শহরে শিশু-কিশোরদের চিত্ত-বিনোদনের জন্য কোন তেমন কোন পার্ক না থাকায় যেহেতু ডিসি উদ্যান তাদের চিত্ত বিনোদনে একটি অনন্য ক্ষেত্র হয়ে ওঠেছিল, সেইহেতু ফের উদ্যানটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ডিসি লেক/জলাধার খননে গভীর করে ওয়াকওয়ে চালুর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাতিগুলো আবার জ্বালানোর ব্যবস্থা করে আলোকিত করা প্রয়োজন। বলাবাহুল্য একসময়ে, জমিদার ও অধ্যূষিত এ অঞ্চলে ষোল আনী জমিদারির বৃহৎ নয়ানী জমিদারবাড়ীতে ছিল শিক্ষিত ও অনারারী ম্যাজিস্ট্রেটদের বসবাস এবং বিচার পরিচালনা ছিল সেই বাড়ির কর্তাদের অন্যতম শখের অংশ। সেই বাড়ির ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করেই সেখানে স্থাপিত হয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এ কার্যালয়ের চারপাশের জলটলমল যে পরিখা আজও দৃশ্যমান তা অতীত হওয়া জমিদারদেরই নিদর্শন, যা আজ পরিবর্তিত অবস্থায় ডিসি লেক নামে পরিচিত। কাজেই এ লেকটির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি লেক তীর দিয়ে ওয়াকওয়ের কার্যকর ব্যবস্থা হলে সেটাও হবে অনন্য। সেই সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ একই অঙ্গনে থাকা জেলা জজ কোর্ট, সিজেএম কোর্ট ও এসপি অফিসের চারপাশও হবে আলোকিত।

ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা: শেরপুর অনেক ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম পাদপীঠ। জমিদার অধ্যূষিত এ জেলায় জমিদারদের যেমন রয়েছে লুপ্ত প্রায় নিদর্শন, তেমনই একসময়কার কামরুপ রাজ্যের রাজধানীখ্যাত গড়জরিপা তথা গড়জরিপার বারোদুয়ারী মসজিদ, বাদশা জরিপ শাহর মাজার, কালিদহ সাগর, গাজীরখামারের শেরআলী গাজীর মাজার, কসবা কাচারীপাড়ায় শাহ কামালের মাজার, ঘাগড়ায় মোঘল মসজিদ, নকলার রুনীগাঁওয়ে গাজীর মাজারসহ যেমন শতশত বছর পূর্বে পুরাকীর্তির স্বাক্ষর বহন করে, তেমনই এ অঞ্চলের অধিক্ষেত্র কসবায় মোঘলবাড়ী, শহরের কয়েকটি জমিদারবাড়ীর অস্তিত্ব কালের আবর্তে আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হয়ে গেলেও আজও পৌণে তিনআনী জমিদারবাড়ীর অস্তিত্ব অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের জানান দিচ্ছে। কাজেই সেইসব ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তিগুলো আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে গোল্ডেন হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণ করা বড় প্রয়োজন।

নদ-নদী,জলাশয়-জলাধার : বলা হয়ে থাকে, ‘পাহাড় নদী ধান, ক্ষুদে জেলা শেরপুরের প্রাণ’। ব্রক্ষপুত্র, ভোগাই, চেল্লাখালী, মৃগী, সোমেশ^রী, মহারশী, কালঘোঁষা নদী, ইসলি বিল, বয়সা বিল, আওড়াবাওড়া বিলসহ ছোট বড় নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়-জলাধার একসময় ছিল এ জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। কিন্তু মানুষ, বসতী ও মানুষের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি কালের আবর্তে সেইসব জলাধারের অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। দিনদিন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আর কর্তৃপক্ষের নীরব দর্শকের ভূমিকার কারণে সেইসব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়-জলাধার ছোট হয়ে এসেছে। সেগুলোর বুকে এখন বয় না স্রোত, থাকে না পানি। অধিকাংশই মৃতপ্রায়। এছাড়া শহর গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা পুকুর ও জলাধারগুলো ভরাট হয়ে দিনদিন বসতি গড়ে ওঠছে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই হারাচ্ছে ঐতিহ্যও। তাই সেগুলো রক্ষায় নেওয়া প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ।
অবৈধ পাহাড় কাটাসহ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধকরণ: প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পাহাড় থেকে নির্বিচারে পাহাড়কাটা ও পাথর উত্তোলন বন্ধে আইন থাকলেও একশ্রেণির প্রভাবশালী মহলের শেল্টারে আর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় প্রতিবছর ওইসব কর্মকাণ্ড বাড়ছে তো কমছে না। ফলে দিনের পর দিন সীমান্তের ভোগাই, চেল্লাখালী, মহারশী, সোমেশ^রীসহ বিভিন্ন শাখা-উপশাখা নদীর ইজারা বর্হিভূত এলাকা থেকে একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। একইভাবে প্রায় একই গোত্রের অসাধু ব্যক্তিরা সীমান্তের গারো পাহাড় থেকে নির্বিচারে পাহাড় কেটে উজাড় করছে। পাহাড়ের সংরক্ষিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে নিচ্ছে পাথর। ফলে যাতায়াত ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। ওইসব এলাকায় কালে-ভদ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানার ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে দু/চার দিন পর থেকেই পুরোদমে চলছে একই রকম কাণ্ড-কারবার। তাই ওইসব কাণ্ড বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

ভেজাল বিরোধী অভিযান : নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাদ্য, ভেজাল প্রতিরোধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। সার্বিক কর্মকাণ্ডে আনতে হবে সমন্বয়। সেই সাথে অভিযানের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে কাঙ্খিত লক্ষ্য।
নির্মাণ কাজে তদারকি : জেলা পর্যায়ে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে এলজিইডি, জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রকৌশল ও ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টসহ নানা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাজে প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে নানা উন্নয়নের নামে একশ্রেণির প্রভাবশালীরা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। সম্প্রতি এলজিইডির তুঘলকি কাণ্ড যেন সেটাই প্রমাণ করে। কাজেই কেবল এলজিইডি নয়, প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই পুকুর চুরি ঠেকাতে প্রশাসনিক নজরদারির বিকল্প নেই। এছাড়া জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানে এলজিএসপি, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, জিআর বরাদ্দের নামে যেভাবে আত্মসাতের মহোৎসব চলে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

বিচারিককাজে গতি ও রেভিনিউ খাতকে কলুষমুক্তকরণ : একজন জেলা প্রশাসক যেহেতু প্রশাসনিক কর্ণধারের পাশাপাশি যুগপৎ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রেভিনিউ কালেক্টর, সেহেতু নির্বাহী বিভাগের আওতায় বিচারিক বিশেষ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও ডিএম কোর্টসহ অন্যান্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পরিচালনায় দক্ষতা নিশ্চিতকরণসহ সমন্বয় ও গতিশীলতা বাড়াতে হবে। এছাড়া অনিয়ম-দুর্নীতির অন্যতম ক্ষেত্র রেভিনিউ খাতকে কলুষমুক্ত করতে হবে।
পরিবেশ দূষণ রোধ : শহরে যানবাহনের কালো ধোয়া এবং ইটের ভাটা ও চাতালসহ মিল কারখানার ধোঁয়া ও চাতালের ছাইয়ে পরিবেশ মারাত্মভাবে দূষিত হচ্ছে। এগুলো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে শহরে মিল কারখানা স্থাপনে আইনী বাধার যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
উন্নয়ন সমন্বয় : প্রতি মাসে জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা হলেও সেগুলো যেন গতানুগতিক ও গতিহীন। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূলত কোন সমন্বয়ই কাজ করে না। এ ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে সাহেলা আক্তারের নেতৃত্বাধীন জেলা প্রশাসনকে গতি ফেরাতে হবে। বাস্তবায়নে নিয়ে আসতে হবে কার্যকর ও গতিশীল তৎপরতা।

সবুজায়ন : নান্দনিক শেরপুর গড়তে ঝিমিয়ে পড়া বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে আবারও গতি সঞ্চার ঘটাতে হবে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা তথা ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শহরের উপকন্ঠের রাস্তার দুপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পাহাড়ে সবুজায়নের নামে টেকসই জীবন ও জীবিকা ‘সুফল’ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লোপাটের সুযোগ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বনবিভাগের এ প্রকল্পে গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য জানার অধিকারকে অবারিত রাখতে হবে।
পর্যটনক্ষেত্র সমৃদ্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ : শেরপুর সীমান্তের সবুজ-শ্যামল গারো পাহাড় পর্যটনক্ষেত্রে এক অন্যন্য আধার। বিশেষ করে ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্র, নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যটনক্ষেত্রে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। ফলে প্রতিবছর আশেপাশের জেলাগুলো এবং রাজধানী ঢাকাসহ দূরদুরান্ত থেকে পিকনিক মৌসুমে হাজার-হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষের সমাগম ঘটে ওইসব পর্যটন কেন্দ্রে। এছাড়া নালিতাবাড়ী সীমান্তের পানিহাতা ও শ্রীবরদী সীমান্তের রাজার পাহাড়সহ আরও কয়েকটি অঘোষিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠেছে, দিনদিন যেগুলোর প্রসারও ঘটছে। কিন্তু পর্যটনক্ষেত্রগুলোকে আরও সমৃদ্ধ ও দর্শনীয় করে তোলার পাশাপাশি সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে নেই কোন পদক্ষেপ। ফলে প্রতিবছর দুর্বৃত্তদের হাতে অনেক ভ্রমণবিলাসী ছিনতাই ও নাজেহালের শিকার হচ্ছে। এতে পর্যটন কেন্দ্রের সুনামও কিছুটা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বৈকী? তাই ওইসব কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ বিলাসী/পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থাসহ যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটন পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়া সীমান্তের ৩টি উপজেলাতেই যেহেতু প্রায় অর্ধলক্ষাধিক ক্ষুদ্র নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, সেহেতু তাদের চিত্তবিনোদন ও সাংস্কৃতি চর্চা প্রসারে গজনীতে বিরিশিরির আদলে একটি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন।

হাতি-মানুষ দ্বন্দ্বের নিরসন: সীমান্তের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে যেমন বিশাল বনজ সম্পদের গারো পাহাড়, তেমনই এ পাহাড়েই যুুগযুগ ধরে চলে আসছে হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব । প্রতিবছর সীমান্তের ওপার থেকে বন্য হাতির দল খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। চালায় ফসলসহ বসতবাড়ীতে তান্ডব। আর এতে স্থানীয় অধিবাসীদের ফসল ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। বন্য হাতির দল তাড়াতে গিয়ে ঘটে প্রাণহানির মতো ঘটনা। অথচ বন্যহাতির দলের বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে বেত বাগান, সোলার ফেন্সিংসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং গচ্ছা গেছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা হাতির অভয়াশ্রম গড়ে তোলা ছাড়া হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভব নয় বলে দীর্ঘদিন যাবত জানিয়ে আসলেও নেয়া হয়নি কার্যকর উদ্যোগ। আশার কথা, সম্প্রতি বন প্রধান সরেজমিন পরিদর্শন করে পাহাড়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রাচীর তৈরি করে হাতির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তাই ওই প্রকল্পের বাস্তবায়ন যেন দ্রুত হয় সেজন্যও বাড়াতে হবে তাগিদ, নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ।
তৃণমূল থেকে জাগাতে হবে ক্রীড়াঙ্গণ : সুষ্ঠু ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা যেহেতু সুস্থ্য দেহ ও মন গঠনে সহায়ক, সেহেতু সুন্দর দেহ ও মনন গঠনে শেরপুরে তৃণমূল থেকে জাগাতে হবে ক্রীড়াঙ্গন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনকে জাগাতে ইতোমধ্যে জেলায় ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে ওঠেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষুদে খেলোয়াড় হিসেবে এখন যেভাবে এগিয়ে আসছে অভিভাবকদের উৎসাহে, সেভাবে পৃৃষ্ঠপোষকতা পেলে নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির মতো অনেকেই এগিয়ে যাবে ক্রিকেট ও ফুটবলসহ নানা ক্ষেত্রে। আর এতে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি শেরপুরবাসীর জন্য আরও বয়ে আনবে সুনাম। বলাবাহুল্য, জেলা সদরে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্টেডিয়াম গড়ে উঠলেও অন্য ৪টি উপজেলাতেই এখনও পূর্ণাঙ্গরূপে গড়ে ওঠেনি মিনি স্টেডিয়াম। তাই ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসতে এ বিষয়টিও ভাবতে হবে মান্যবর জেলা প্রশাসককেই।

স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে নজর : মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা অন্যরকম হওয়ায় সরকার এ খাতে অতি গুরুত্ব হওয়া স্বত্বেও এ খাতের সেবা যেন চলছে অনেকটাই দায়সারা ও গতানুগতিক। তাই তৃণমূল পর্যায় থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে যেমন গতিশীলতা, সক্রিয়তা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন, তেমনি সরকারি হাসপাতালগুলোতে এমসি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম বন্ধে নিতে হবে নবউদ্যমে কার্যকর উদ্যোগ। কারণ এমনও নজির অনেক রয়েছে যে, কোন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোন মৃত্যু/জখম/ধর্ষণ সংক্রান্তে মেডিকেল রিপোর্ট তলব দেওয়ার মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও বা কোন কোন ক্ষেত্রে তাগিদ দেওয়ার পরও বিশেষ কারণে সেই মেডিকেল রিপোর্ট সরবরাহ করে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে কৃষিপ্রধান এ জেলায় কৃষি অর্থনীতি বিশেষ অবদান রাখলেও এ খাতে মাঠ পর্যায়েও চলছে একই অবস্থা। তাই স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা এবং কৃষিখাতের কাজে গতি ফেরানোসহ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণেও চাই জেলা প্রশাসকের বিশেষ তৎপরতা।

প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়ন : একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জেলাকে একটি অর্থনৈতিক জোন বদলে দিতে পারে- তার সফল বাস্তবায়নে। এ বিশ^াস-ধারণা পোষণ করেই সারাদেশের ন্যায় সরকারের মেগা প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় অর্ধযুগ আগে পাশর্^বর্তী জামালপুর জেলাসহ শেরপুর জেলায় অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এতদিনে জামালপুরের অর্থনৈতিক জোন আলোর মুখ দেখার দ্বার প্রান্তে উপনীত হলেও শেরপুর এখনও অনেক পিছিয়ে। শেরপুরের জামালপুর প্রান্তে ব্রক্ষপুত্র নদের তীরে সেই অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। নানা জটিলতার নামে ঝুলে আছে এ বৃহৎ প্রকল্প। বাস্তবায়নে নেই গতি। দায়িত্বশীল মহলেও নেই সক্রিয়তা। তাই যে প্রকল্পের সাথে জেলার ভাগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিদ্যমান, সেই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে নবাগত জেলা প্রশাসক তার অগ্রাধিকার তালিকায় রেখে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন-এমনটাই প্রত্যাশা শেরপুরবাসীর।
মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও রেলপথ বাস্তবায়ন : ভিন্ন মতাদর্শের গোত্রের লোকজন স্বীকার করুক আর না করুক একথা বলার অবকাশ নেই যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। আর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বিশ্ব দরবারে এখন এক রোল মডেল। তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের ন্যায় কৃষি ও খাদ্য সমৃদ্ধ অঞ্চল শেরপুরেও রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও অবকাঠামোগতসহ নানা দিক দিয়েই নজরকাড়া উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের টানা তিন মেয়াদে এ জেলায় যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সকল সরকারের মেয়াদ মিলেও হয়নি। কিন্তু এর পরও যেন সব উন্নয়ন ম্লান হয়ে যায়, যখন দেখা যায় দেশের প্রায় জেলাসহ ময়মনসিংহ বিভাগের অপর ৩টি জেলাতেই মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও রেলপথ বাস্তবায়ন হলেও শেরপুরে তার কোনটাই না হওয়া। অন্যদিকে জেলায় এ ৩টি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবিতে নাগরিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ এবং রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সেগুলো বাস্তবায়নে একাত্মতা পোষণ আর জাতীয় সংসদসহ উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরার পরও কেন জানি সেগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে বিষয়টি এখন শেরপুরবাসীর দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার নামে মেডিকেল কলেজ, শেখ রাসেলের নামে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়সহ ৩টি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠলেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেরপুরের উন্নয়নের ষোলকলা পূরণ হতে পারে। তাই সরকারের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে এ কঠিন কাজটি করার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিবেন নবাগত জেলা প্রশাসক-এমন দাবি ও প্রত্যাশা শেরপুরবাসীর।

কাজেই ওইসব সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে নবাগত জেলা প্রশাসক তার স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন প্রশাসন নিয়ে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীলদের সাথে সমন্বয় সাধনে শেরপুরবাসীর হয়ে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, গড়ে তুলবেন একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক শেরপুর – এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।

লেখক : সম্পাদক-প্রকাশক, শ্যামলবাংলা২৪ডটকম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক দশকাহনীয়া ও সাবেক সভাপতি, শেরপুর প্রেসক্লাব।

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

error: কপি হবে না!