Top_Ads

  • রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল

শেরপুরে ফায়ারফাইটার রনির লাশের অপেক্ষায় পরিবার ॥ পুত্রের মৃত্যুতে বাবার জামিন

/ ১৫৮৮ বার পঠিত
প্রকাশকাল : সোমবার, ৬ জুন, ২০২২

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত ফায়ারফাইটার রমজানুল ইসলাম রনির (২২) নিজ এলাকা শেরপুরে এখন চলছে রনির লাশের অপেক্ষা। ৬ জুন সোমবার দুপুরের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিহত রমজানুল ইসলাম রনির লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তার মা কামরুন্নাহার রত্না, চাচা আবুল কাশেম ও ছোট ভাই তারিকুল ইসলাম।

Shamol Bangla Ads

পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে চরশেরপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হুমায়ুন মিয়া জানান, মময়নাতদন্তের পর আনুষ্ঠানিকতা শেষের রনির লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা লাশ নিয়ে শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ৭ জুন সোমবার সকাল ১১টার দিকে নিজ এলাকা শেরপুর সদরের চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া বালুরঘাট গ্রামে নিহত ফায়ারফাইটার রমজানুল ইসলাম রনির নামাজে জানাযা শেষে লাশ দাফনের কথা রয়েছে।

এদিকে শেরপুরে বিচারাধীন একটি হত্যা মামলায় জেলহাজতে থাকা নিহত ফায়ারফাইটার রমজানুল ইসলাম রনির বাবা মো. আক্রাম হোসেন আঙ্গুর মিয়ার পক্ষে সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন জানানো হলে আদালতের বিচারক আব্দুর সবুর মিনা পরবর্তী ৭ দিনের জন্য অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন ঠান্ডু।

Shamol Bangla Ads

জানা যায়, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়ে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভাতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সীতাকুন্ড দমকল বিভাগে কর্মরত শেরপুরের ছেলে ফায়ারফাইটার রমজানুল ইসলাম রনি। রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার স্ত্রী ও সহকর্মীরা তার লাশ শনাক্ত করেন। রবিবার সন্ধ্যায় রমজানুল ইসলাম রনির নিজ এলাকা শেরপুর সদরের হেরুয় বালুরঘাট গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছায়। খবর পেয়ে রবিবার রাতেই রমজানুলের মা কামরুন্নাহার বেগম, চাচা আবুল কাশেম ও ছোট ভাই তারিকুল ইসলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়ে সোমবার সকালে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন রনির স্ত্রী রূপা আক্তার।

রমজানুল ইসলাম রনির চাচা চরশেরপুর ইউপির সাবেক মেম্বার মো. জামান মিয়া জানান, প্রায় দেড় বছর আগে দমকল বিভাগে চাকুরী হয় ভাতিজা রনির। চার ভাইবোনের সবর বড় ছিলো রনি। প্রায় তিনমাস আগে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড বদলী হয়ে সেখানেই স্ত্রীসহ বসবাস করছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছি। আমরা এখন ভাতিজা রনির লাশের জন্য অপেক্ষা করছি।

এদিকে আদরের নাতি রনির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বিছানায় পড়ে গেছেন দাদি আফরোজা বেগম। নাতি মারা যাওয়ার কথা শুনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে ৭৫ বছর বয়সী দাদা ইউনুস আলীর। চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলে উঠছেন, আমার দাদু ভাই কই গেল, আমার দাদু ভাই কই গেল, ভাইরে তুমি আমারে ফালায়া কই গেলা।

গ্রামের লোকজন জানায়, স্বজনদের কাছে রনি যেমন প্রিয় ছিলেন। একইভাবে গ্রামে নম্র-ভদ্র ও পরোপকারী ছেলে হিসেবে রনি গ্রামে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ছুটিতে বাড়িতে এলেই তিনি প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নিতেন, সাহায্য করতেন। চার ভাইবোনের মধ্যে রনি সবার বড়। তার ছোট ভাই তারিকুল ইসলাম রকিব ময়মনসিংহ রেখে পড়াশোনা করাতেন রনি। এক বোন আশামনি নবম শ্রেণিতে ও ছোট বোন আঁখিমনি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। এদের লেখাপড়ার খরচসহ পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন রনি।

রনিকে খুব আদর করতেন তার বড় চাচি সাদিয়া। তিনি ভাতিজাকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন। রনি ও তার স্ত্রী রূপা তাকে মা বলে ডাকতেন। সাদিয়া বেগমের কাছে মৃত্যুর খবর জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ছোট ঈদে বাড়িতে এসেছিল রনি। এরপর মাঝে মাঝে ফোনে কথা হইতো। শুক্রবারেও কথা হইছে। রবিবার সকালে বউমা রূপা আমাকে ফোন কইরা কইলো, মা আপনার ছেলেরে পাইতাছি না। এরপরে সকাল ১১টার দিকে আবার ফোন কইরা কইলো রনির লাশ পাওয়া গেছে। সংসারের বড় পোলাডারে হারাইলাম। এখন পরিবারটা চলব কেমনে। তিনি রনির পরিবারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেন।

Shamol Bangla Ads

এই বিভাগের আরও খবর

Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!