Top_Ads

  • রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:২১ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল

সরকারের কাছে একটি ঘর ভিক্ষা চান ঝিনাইগাতীর মনোয়ারা

/ ১৭১ বার পঠিত
প্রকাশকাল : শনিবার, ৪ জুন, ২০২২

মোছা. মনোয়ারা বেগম ওরফে বানেছা বেগম। বয়স ৭০ বছর। তিনি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা স্ত্রী। অর্থাভাবে নিজের জরাজীর্ণ বসতঘরটি মেরামত করতে না পারায় রোদ-বৃষ্টিতে কষ্টে কাটছে তার দিন-রাত। ওই অবস্থায় সরকারের কাছে একটি ঘর ভিক্ষা চান তিনি।

Shamol Bangla Ads

জানা গেছে, মোছা. মনোয়ারা বেগম ১৯৬৬ সালে মৃত হাফিজ উদ্দিন ওরফে বাসু মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের আট বছর পরেই কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মনোয়ারার স্বামী হাফিজ মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পরে এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়নি মনোয়ারা। অভাবের সংসার চালাতে গিয়ে কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন, আবার কখনো বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পণ্য (সাবান, তেল, বিস্কুট, চানাচুর) বিক্রি করেছেন। পরে মেয়ে বড় হওয়ায় দিয়েছেন বিয়ে ও ছেলেকে করিয়েছেন বিয়ে। সন্তানের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল না থাকায় জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পান। টাকা-পয়সা না থাকায় চিকিৎসার অভাবে পুঙ্গাত্ব বরণ করেন তিনি। সংসারে একের পর এক পরিবারের সদস্য বেড়ে যায়। পরিবারের চাহিদা ও বাসস্থান পর্যাপ্ত না হওয়ায় তার স্বামীর বসতভিটা বিক্রি করে দেন ছেলে মহির উদ্দিন।

মনোয়ারা বর্তমানে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের সীমানা ঘেঁষা ধানশাইল ইউনিয়নের দাড়িয়ারপাড় এলাকার কাহিলাকুড়া বিলের এক কোনায় গড়ে তুলেছেন বসত ভিটা। ওই ভিটায় দুই রুম বিশিষ্ট একটি দুচালা টিনের ঘরের এক রুমে ছেলে ও ছেলের স্ত্রী, অপর এক রুমে থাকেন মনোয়ারার নাতি। আর মনোয়ারা বসবাস করতেন ছনের একটি ঘরে। তার মাথা গোঁজার একমাত্র বসত ঘরটি বসবাসের অযাগ্য হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি আসলেই পানি পড়ে ঘরের মধ্যে। তখন নাতিনের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয় মনোয়ারাকে।

Shamol Bangla Ads

মনোয়ারা জানান, দিন মজুর ছেলে খুব কষ্ট করে সংসার চালান। প্রায় সময় মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চলতে হয় তাকে। বয়স্ক, বিধবা বা প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডও নেই তার। এর মধ্যে আবার বসতঘরটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। টাকার জন্য ঘরটি ঠিকও করতে পারছেন না। বৃষ্টি হলে নাতির ঘরে আশ্রয় নিতে হয় তাকে। সরকারের কাছে নতুন করে একটি ঘরের দাবি জানিয়ে মনোয়ারা বলেন, একটি ঘর পেলে আমার থাকার কষ্ট দূর হবে। আমি একটি ঘর ভিক্ষা চাই।

মনোয়ারার ছেলে মহির উদ্দিন বলেন, আমার মায়ের পা ভেঙে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। সবসময় পায়খানা-প্রসাব করে, তাই ভাঙা-চোরা ঘরেই থাকেন। হাতে টাকা-পয়সা নাই; তাই ঘর মেরামত করতে পারছি না। তবে বৃষ্টি হলে আমার ছেলের ঘরে রাত্রি যাপন করেন মা। আমার যে অবস্থা, তাতে খুব কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়। সরকারের সহযোগিতায় একটি বসত ঘর পেলে অনেক উপকার হবে। আমার মায়ের জন্য সরকারের কাছে একটি বসত ঘর চাই।

স্থানীয় শিক্ষক মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, মনোয়ারা দীর্র্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন। তার ছেলের আর্থিক অবস্থা ভালো না। মনোয়ারার বসতঘরটি; যা বর্তমানে বসবাস অনুপযোগী। সরকারিভাবে যদি মনোয়ারার জন্য একটি ঘর করে দেওয়া হয়, তাহলে ওই বিধবা নারী নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ বলেন, সরকার এমন অসহায় লোকই খুঁজছে। তার বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। এমন অবস্থার কথা জানতে পারলে, অনেক আগেই খোঁজ নিয়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হত। দ্রুত সময়ের মধ্যে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Shamol Bangla Ads

এই বিভাগের আরও খবর

Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!