Top_Ads

  • রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল

প্রধানমন্ত্রীর জমি অধিগ্রহণ : উদারতার আরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত

প্রকাশকাল : শনিবার, ৪ জুন, ২০২২

আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে যুগ যুগ ধরে মানবতার লংঘন-বিপর্যয় আর উদারতার ঘাটতির নজীর যখন অগণিত, ঠিক তখন একজন প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মানবতা ও উদারতা তাকে দিয়েছে এক অনন্য রূপ। তার আদর্শিক বৈশিষ্ট্যকে করে তুলেছে এক বিরল ঐশ্বর্য্যমণ্ডিত ও বিশ্বপরিমণ্ডলে আলোকিত। সরকার প্রধানের পাশাপাশি এশিয়া উপ-মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি যেমন অসীম ধৈর্য্য, দক্ষ ও সাহসিকতায় সফলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তেমনই মানবতা ও উদারতার মত একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষের মৌলিক গুণাবলী ধারণ করে নিজেকেই গড়ে তুলেছেন মানবতা ও উদারতার এক অনন্য আধার বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। এ জন্যই তিনি ‘দেশরত্ন’; অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় দেশকে এগিয়ে নিতে মুখ্য দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করে চলেছেন মানবতা ও উদারতার অনন্য দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি তিনি মহাসড়ক খাতে একটি মেগা প্রকল্পের আওতায় রংপুর অঞ্চলে থাকা স্বামী প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলসহ নিজের একখণ্ড জমি অধিগ্রহণের জন্য সায় দিয়ে উদারতার ওই নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Shamol Bangla Ads

একটি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, টাঙ্গাইল-রংপুর ভায়া এলেঙ্গা, হাটিকুমরুল (সিরাজগঞ্জ) পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নতি করতে সরকার ২০১৬ সালের শেষাংশে ১১ হাজার ৯শ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা (সাসেক-) নামে এক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু গত প্রায় ৬ বছরে প্রকল্পের অধিগ্রহণ খাতের ৩২৬ হেক্টর জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৭০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ সম্ভব হলেও অবশিষ্ট ২৬ হেক্টর জমির অধিগ্রহণ আটকে আছে নানা জটিলতায়। অন্যদিকে ওই প্রকল্প এলাকার আওতাধীন রংপুরের পীরগঞ্জের ২৬ শতাংশ জমির মালিক হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা ও তার ছেলে-মেয়ে। একটি সরকারি সংস্থাসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা অধিগ্রহণে নানা জটিলতায় প্রকল্পের একাংশে ধীরগতি নেমে এলেও কোন সমস্যা হয়নি প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সেই জমি অধিগ্রহণে। প্রথমত: প্রধানমন্ত্রী পরিবারের জমি অধিগ্রহণে নারাজ ছিল স্থানীয় জেলা প্রশাসন। কারণ সরকার প্রধানের জমিতে হাত দিতে ভয় পাচ্ছিলেন তারা। ফলে মহাসড়ক ঘুরিয়ে করার পরামর্শ দেয় জেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে স্থানীয় (রংপুর-৬/পীরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে বিষয়টি জানান সাসেক-২ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারি সংস্থা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর সঙ্গে-সঙ্গে তিনি তার জমি অধিগ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রয়াত ওয়াজেদ মিয়ার জমির সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার দুই সন্তানের আবেগ জড়িত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানানো মাত্রই তিনি বলেছেন ‘সবার জমি অধিগ্রহণ হলে আমারটা কেন হবে না। রাস্তার জন্য সাধারণ মানুষের জমি নেওয়া হচ্ছে, আমার জমি সবার আগে নেওয়া হোক’। এভাবেই জনস্বার্থে নিজের পরিবারের জমি অধিগ্রহণের সায় দেন শেখ হাসিনা।
কাজেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন ওই জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আমাদের প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নি:সন্দেহে একটি বিরল ঘটনা। অন্যদিকে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ‘কি জানি হয়’- এমন ভয়কাতুর আশংকায় সড়ক ঘুরিয়ে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনায় থাকার পরও প্রধানমন্ত্রীর কর্ণকুহরে পৌঁছার সাথে-সাথে তিনি বিন্দুমাত্র ভাবার সময় না নিয়ে অকপটে তা অধিগ্রহণে সায় দিয়ে নিজের জীবনের উদারতায় প্রতিষ্ঠা করেছেন আরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

এ কথা বলার অবকাশ রাখে না যে, একদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া হিসেবে এবং অন্যদিকে চার-চার বারের সরকার প্রধান হিসেবে এমন উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপনের নজির তার জীবনে রয়েছে শত-শত। সেইসব নজিরের অন্যতম কক্সবাজারে মিয়ানমারের ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার আশ্রয় তথা থাকা-খাবার ব্যবস্থা করে তিনি আন্তজার্তিক অঙ্গনে যেমন খ্যাতি পেয়েছেন ‘মানবতার মা হিসেবে, তেমনই রাজধানী ঢাকার নিমতলীতে স্মরণকালের অগ্নিকাণ্ডে নিজের মতো সব হারানো মেয়েদের বিবাহের ব্যবস্থাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে পরিচিতি পেয়েছেন ‘মমতাময়ী মা’ হিসেবে।

Shamol Bangla Ads

আর সাম্প্রতিককালে তার ত্যাগ ও উদারতায় যে অনন্য দৃষ্টান্তটি আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বপরিমণ্ডলে আলোচিত ও সমাদৃত- তা হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর প্রস্তাবিত নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ নাকচ করে নদীর নামেই তার নামকরণ। বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দলের মজ্জাগত অপপ্রচার-বিরোধিতা এবং তাদের অনুসারী কিছু দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির অপপ্রচার তথা দেশীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব ব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র বাঙালি জাতির পক্ষে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে একেবারেই নিজস্ব অর্থায়নে তা নির্মাণে সফল হওয়ায় তিনিই হয়ে উঠেছেন সফল স্বপ্নদ্রষ্টা। তার পরও সেই লোভনীয় ও বিরল কৃতিত্বে পাথরে খোদাই স্বীকৃতির প্রস্তাব নাকচ করে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর নামেই জারি করা হয়েছে সরকারি প্রজ্ঞাপন। আগামী ২৫ জুন সেতুটির রূপকার শেখ হাসিনার হাত ধরেই জমকালো উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কোটি কোটি মানুষের উন্নয়নের দ্বার। কাজেই এ কথাও বলার অবকাশ রাখে না যে, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার এমনই। তারা দেশের জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন। ত্যাগ, মহানুভবতা ও উদারতাই যেন প্রধানমন্ত্রী পরিবারের জীবনের এক অনন্য অনুসঙ্গ-বৈশিষ্ট্য।

সুতরাং ইত্যকার অবস্থায় এ কথা এখন আন্তর্জাতিক বিশ্বেও স্বীকৃত যে, উন্নয়ন অগ্রগতির প্রেরণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে যেমন দিয়েছেন তার স্বপ্নের স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশ এবং তার লাল-সবুজে খচিত/আঁকা মানচিত্র, তেমনই তার আদর্শ অনুসরণ করে শেখ হাসিনা নিজের সাহসিকতা ও যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি অবিরাম নির্লোভ ও উদার-নৈতিক মানসিকতার বর্হি:প্রকাশ ঘটিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে। যে কারণে প্রিয় স্বদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল ও উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। সেই সাথে সততা-নিষ্ঠা, মানবতা ও উদারতার মূল্যায়নে এখন এক আন্তর্জাতিক মাইলফলকের অপর নামও শেখ হাসিনা। তিনি লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়েই বিশ্বের সফল ও সেরা রাষ্ট্রনায়কদের কাতারে স্বমহিমায় অবস্থান করে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বপরিমণ্ডলেও। জয়তু: শেখ হাসিনা। জয়তু: মানবিক উদারতা।

লেখক : সম্পাদক-প্রকাশক, শ্যামলবাংলা২৪ডটকম।

Shamol Bangla Ads

এই বিভাগের আরও খবর

Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!