ads

বৃহস্পতিবার , ২৮ এপ্রিল ২০২২ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

লিগ্যাল এইডের সাফল্যের দিক দিয়ে শেরপুর এগিয়ে ॥ জেলা জজ আল মামুন

স্টাফ রিপোর্টার
এপ্রিল ২৮, ২০২২ ৯:২০ অপরাহ্ণ

অসহায়ের সহায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস

শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল মামুন বলেছেন, বর্তমান সরকারের সদিচ্ছায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমের আওতায় সাফল্যের দিক দিয়ে শেরপুর অনেকটা এগিয়ে। ইতোমধ্যে সাফল্যের দিক দিয়ে সারাদেশে শেরপুর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় লিগ্যাল এইড দিবস উপলক্ষে জেলা জজ আদালতের সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ওই কথা বলেন।

Shamol Bangla Ads

তিনি আরও বলেন, সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারই আওতায় বর্তমান সরকারের মেয়াদেই লিগ্যাল এইড আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এ আইনের আওতায় কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ লিগ্যাল এইড অফিস। বাড়ছে সচেতনতা। সরকার চাচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের আইনগত সহায়তা পৌঁছে দিতে। তাই সচেতনতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের টিম ওয়ার্ক নিশ্চিত করে কমন টিম হিসেবে কাজ করতে হবে।

সভায় জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী জজ) মো. গোলাম মাহবুব খান তার প্রতিবেদনে জানান, করোনাকালেও গত ২০২১ সালের ২৮ এপ্রিল ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল-এ এক বছরে মামলা ও এডিআর এর জন্য মোট আবেদন পড়েছে ৭৬৫টি। এর মধ্যে নিস্পত্তি হয়েছে ১২২টি, বিকল্প পদ্ধতিতে নিস্পত্তি (এডিআর) হয়েছে ৩০৫টি। নথিজাত আছে ১৯১টি, অপেক্ষমান ১৪৭টি, পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে ৫০৮ জনকে। বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির ফলে বিচারাধীন মামলার নিস্পত্তির সংখ্যা ১৪৩। এডিআর এর মাধ্যমে ২ কোটি ৯৭ লক্ষ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২০২০-২০২১-এ এক বছরে আবেদনের সংখ্যা ছিল ৩৪৫টি। এরমধ্যে মামলা নিস্পত্তি ৬৫ টি, বিকল্প পদ্ধতিতে সফল নিস্পত্তি হয়েছে ২৮৩টি, নথিজাত ছিল ৮৩টি, অপেক্ষমান ছিল ১০৩টি, এডিআর এর মাধ্যমে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫ টাকা আদায় করে পক্ষগণের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Shamol Bangla Ads

লিগ্যাল এইড অফিসের সুবিধাভোগী অসহায় অজুফা খাতুন বলেন, স্বামী নির্যাতন করে, ভরন-পোষণ দেয় না। স্বামীর ইচ্ছা হয়েছে, তালাক দিয়েছে। অজুফার টাকাও নেই, লোকজনও নেই। তাই তিনি প্রতিকার পেতে আবেদন করেন শেরপুর আইনগত সহয়তা প্রদান সংস্থায় (লিগ্যাল এইড)। লিগ্যাল এইড অফিস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পারিবারিক ওই মামলায় ওজুফার পক্ষে রায় হয়। অজুফা লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় স্বামীর কাছ থেকে সকল পাওনা বুঝে পান। এতে তার এক টাকাও খরচ হয়নি। তার মতে, লিগ্যাল এইড সহায়তাই আমার শক্তির মূল উৎস। কেবল অজুফা খাতুন নয়, লিগ্যাল এইডের সহায়তা পেয়েছে কাকন, ফয়জুন, শরিফা বেগমসহ অনেক নারী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লিগ্যাল এইড অফিস পাওনা টাকা আদায়সহ নানা আইনগত ন্যায় পাইয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির আওতায় দু’পক্ষকেই ডেকে আইনজীবী, সাক্ষী সবার সাথে বসে অনেকটা সামাজিক নিয়মে শুনে ব্যবস্থা নেয় এ অফিস। কোন পক্ষ না মানলে সংশ্লিষ্ট আদালতে বিষয়টি বিচারের জন্য পাঠানো হয়। এখানে অসহায় বিচারপ্রার্থীরা লিগ্যাল এইডের সিদ্ধান্তে, বিনা খরচে আইনজীবী পেয়ে থাকেন। লিগ্যাল এইড কর্মকর্তারাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন সহায়তা প্রত্যাশীদের। রাখছেন বিশেষ ভূমিকা। এজন্য শেরপুর লিগ্যাল এইড বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা। এছাড়া প্রতিটি বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন জেলার শীর্ষ বিচারক ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল মামুন। তবে লোকবল সংকটের কারণে সবকিছু সামাল দিতে বেগ পেতে হয় বলে জানায় অফিস সূত্র।

লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্পর্কে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী বলেন, হাজারও নিঃস্ব অসহায় মানুষ এখানে থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। লিগ্যাল এইড অফিস না থাকলে বিচার প্রার্থীর সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যেতো।

এ ব্যাপারে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী জজ) মো. গোলাম মাহবুব খান বলেন, ধনী দরিদ্র সকল নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতেই বিচার বিভাগে এই শাখাটি চলমান। প্রত্যেক নিয়মিত আদালতের বিচারকের সক্রিয় ভূমিকা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন,আইনজীবী সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে লিগ্যাল এইড অফিস শেরপুরের কার্যক্রম। আগামীতে লিগ্যাল এইড অফিস আরও বেশী সেবা প্রার্থীর সেবা দিতে পারবে বলে আশা পোষণ করেন তিনি।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads