রাজধানী কিয়েভে সর্বাত্মক হামলার জন্য প্রস্তুত রুশ বাহিনী

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার আজ ১২ তম দিন। এবার দেশটির রাজধানী কিয়েভে সর্বাত্মক হামলার জন্য প্রস্তুত রাশিয়া। এই দাবি করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘রুশ সেনারা সর্বাত্মক আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজধানী শহরের প্রবেশ মুখে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার লম্বা সেনাবহর মোতায়েন করে রেখেছে মস্কো।’ খবর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির। এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘কিয়েভ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তিনি হামলা চালিয়ে যাবেন।’ এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ বলেন, ‘রাশিয়ার বাহিনী যুদ্ধ সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করছে কিয়েভে হামলা করতে। ট্যাঙ্ক-গোলাবারুদ নিয়ে রুশ সেনারা কিয়েভের নিকটবর্তী শহর ইরপিনে অবস্থান নিয়ে আছে। সেখানে কিয়েভ হামলার গ্রাউন্ডওয়ার্ক চলছে। রাশিয়ান কমান্ডার তাদের বহরগুলোতে বেলারুশ থেকে আসা জ্বালানি সরবরাহ করছে। এসব জ্বালানি চেরনোবিল এলাকা দিয়ে আনা হয়েছে।’

অন্যদিকে মস্কোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভ, চেরনিহিভ, সুমি এবং দক্ষিণের মিকোলাইভ শহরকে অবরুদ্ধ করার দিকেই এখন মূল নজর দিচ্ছে রুশ সামরিক বাহিনী।
এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘কিয়েভ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তিনি হামলা চালিয়ে যাবেন।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর নগরীতে আটকে পড়া বেশিরভাগ লোককেই রুশ বাহিনী ঘিরে রেখেছে। গত ছয় দিনেরও বেশি সময় ধরে গোলাবর্ষণ থেকে বাঁচতে লুকিয়ে আছেন তারা। সেখানে খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রুশ সেনারা।
গতকাল রোববার (৬ মার্চ )তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ফোনে পুতিন এরদোয়ানকে বলেছেন, ‘ইউক্রেন লড়াই বন্ধ করলে ও মস্কোর দাবি মেনে নিলে কেবল ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান বন্ধ হবে।’ ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রাশিয়া জোর দিয়ে বলেছে, ইউক্রেনে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে দেশটির এই আগ্রাসন একটি বিশেষ সামরিক অভিযান। এ নিয়ে পুতিন কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে ‘নাৎসিদের প্রভাবমুক্ত করা’ প্রয়োজন।
এছাড়া পুতিন আরও বলেছেন, ‘ইউক্রনে হামলা পরিকল্পনা ও সময়সূচী মতো চলছে।’ পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা যখন বলছেন, ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ পুতিনের পরিকল্পনা মতো আগাচ্ছে না তখন তিনি এমন দাবি করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে প্রেসিডেন্ট পুতিন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে গত ১১ দিন ধরে। এর মাঝে রোববার পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কিয়েভের প্রতিরোধে মস্কোর ১১ হাজার সেনা মারা গেছেন বলে দাবি ইউক্রেনের।




