• সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল

এবারও পাবলিক বাসে চড়ে ঢাকায় ফিরলেন মতিয়া চৌধুরী

প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২২

এজন্যই তিনি ব্যতিক্রম…

এবারও পাবলিক বাসে চড়েই নিজ নির্বাচনী এলাকা শেরপুর থেকে ঢাকায় গেলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি। ৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনার বাংলা সার্ভিসের একটি বাসযোগে নকলা শহরের জালালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। ওইসময় স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে বিদায় জানান।

Shamol Bangla Ads

জানা যায়, পুলিশ পরিবারের সন্তান হয়েও মতিয়া চৌধুরী রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক জাতীয় ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছিলেন ডাকসুর জিএস। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে ছাত্র আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দেওয়ার সুবাদে খ্যাতি পেয়েছেন ‘বাংলার অগ্নিকন্যা’ হিসেবে। সেই খ্যাতি নিয়েই দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন বাম রাজনীতির সাথে। এরপর যোগ দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে। প্রথিতযশা নির্ভীক সাংবাদিক বজলুর রহমানের সহধর্মিনী মতিয়া চৌধুরী ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়নে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ঐক্যমতের সরকারের কৃষি, খাদ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০০১ সালে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে তাকে হারানো হলেও ২০০৮ সাল থেকে চলতি মেয়াদ পর্যন্ত টানা ৩ দফাসহ একই আসন থেকে মোট ৫ দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০০৮ ও ২০১৪ মেয়াদের সরকারেও সফলভাবে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন চতুর্থ দফার সরকারের কেবল চলতি মেয়াদেই মন্ত্রী পরিষদে নেই মতিয়া চৌধুরী। তবে তিনি মন্ত্রী হওয়ার সময়কালই হোক আর মন্ত্রী না থাকার সময়কালই হোক, সবসময়ই তিনি স্বাভাবিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। যে কারণে মন্ত্রীত্ব থাকার সময়ে নিয়ম রক্ষার খাতিরে সরকারি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করতে হলেও মতিয়া চৌধুরী মন্ত্রী হওয়ার আগে এবং মন্ত্রী না থাকার সময়কালে স্বভাবসুলভ জীবনযাপনের ধারাবাহিকতায় পাবলিক বাসে চেপেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত করছেন।

যার ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। গত ৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকা থেকে তার নির্বাচনী এলাকায় মেধাবী শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য নকলায় পৌঁছেন। এরপর গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার নকলা ও নালিতাবাড়ীতে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেন। পরে ৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিবারের মতোই পাবলিক বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। তার পাবলিক বাসে বসে থাকার একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবিটি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। তাদের অনেকেই স্যালুট জানান মতিয়া চৌধুরীকে।

Shamol Bangla Ads

এমনই এক প্রতিক্রিয়ায় নিজের ফেসবুক ওয়ালে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি, নালিতাবাড়ীর কৃতি সন্তান মনজুরুল আহসান বুলবুল লিখেছেন, ‘এজন্যই তিনি ব্যতিক্রম…। মতিয়া আপার বাসায় একবার আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তার রাজনৈতিক দর্শন বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কথা হতেই পারে। কিন্তু তার সততা সাদামাটা জীবন এগুলো নিয়ে মুগ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর এ সাধারণ জীবনযাপনই তাকে অসাধারণ করে তুলেছে। জানি বিলাসী জীবনযাপন করা রাজনীতিবিদরা তাদের কাছ থেকে কিছু শিখবে না। সৈয়দ আশরাফ, মতিয়া চৌধুরীদের জন্য তাই আজীবন ভালোবাসা।

ছাত্রজীবন থেকেই অনেক লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বেগম মতিয়া চৌধুরী বেশ আগে থেকেই জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন তথ্য প্রকাশ করে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, দলের প্রভাবশালী একজন নেতা হয়েও তার সাদাসিধে জীবনযাপনে কোন পরিবর্তন আসেনি। পোশাক-পরিচ্ছদ ও চলাফেরাতেও তার একই ধরন। মন্ত্রী হওয়ার পর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করলেও তার আগে তিনি বাসেই ঢাকা-শেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতেন, এখনও তাই করছেন। এটাই তার জীবনের অনুষঙ্গ।

এ ব্যাপারে নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, আমাদের লোভ-লালসার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মিতব্যয়, সততা, নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও ত্যাগ স্বীকার প্রশ্নে বেগম মতিয়া চৌধুরীর তুলনা তিনি নিজেই। তিনি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে প্রগতিশীল বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচার এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে যেমন এক সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব, তেমনি তিনি খুব সহজ ও স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত। তিনি দলের একজন কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা হওয়ার পরও তার মাঝে কোন অহমিকা ও উচ্চাভিলাস নেই। পাবলিক বাসে চেপে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত- তার সাদামাটা জীবনযাপনেরই অংশ। আর তাই পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রশ্নে তিনিই আমাদের গর্ব।

Shamol Bangla Ads

এই বিভাগের আরও খবর
Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!