• সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল

শেরপুরে সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

/ ২০৭ বার পঠিত
প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ

শীতের সবজি মৌসুমে কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল শেরপুরের মাঠে মাঠে এখন হলুদের সমারোহ। মাঠের সরিষা আবাদে ফুটেছে হলুদ ফুল। আর সেই ফুলের ম-ম গন্ধের সুবাস নিতে ফুলে ফুলে উড়ছে মৌমাছিরা। সরিষা ক্ষেতের নজরকাড়া চিত্র বাড়িয়ে দিয়েছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। সেই হলুদের সমারোহ দৃষ্টি কাঁড়ছে স্থানীয় কৃষকের পাশাপাশি ফুল বা প্রকৃতি প্রেমী মানুষের। ফলে, যুবক-যুবতীসহ অনেকেই সেই হলুদের সমারোহে দাঁড়িয়ে তুলছেন ছবি। অন্যদিকে, সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। আবাদ ভালো হওয়ায় বাম্পার ফলন ও অধিক লাভের আশায় গুনছেন অপেক্ষার প্রহর।

Shamol Bangla Ads

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত ৩ বছরের মধ্যে এবার জেলায় সরিষার আবাদ অনেক বেশী হয়েছে। দিন দিন সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরাও ঝুকছেন সরিষা আবাদে। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৭ হাজার ৩৪২ হেক্টর জমিতে, যা অর্জিত হয় ৬ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৭ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অর্জিত হয় ৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। ওই বছর দেশে করোনাকালীন নানা সমস্যা এবং চরাঞ্চলে বন্যা ও বৃষ্টির পানি দেরিতে নেমে যাওয়ায় অনেকেই সরিষার আবাদই করতে পারেননি। এরপর চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে এবং ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে, যা গত ২ বছরের চেয়ে বেশী।

এদিকে, জেলা সদরসহ ৫ উপজেলায় কমবেশী সরিষার আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশী আবাদ হয়েছে নকলা উপজেলায়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শেরপুর সদর। ওইসব এলাকার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠে দু’চোখ যতদূর যায়, ততদূর হলুদ আর হলুদ এবং সরিষা ফুলের ম-ম গন্ধে ভরে গেছে গ্রামের পর গ্রাম।

Shamol Bangla Ads

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগাম জাতের আমন ধান উৎপাদন এবং যেসব জমিতে পানি জমে থাকার কারণে সময়মতো আমনের চারা রোপন করা যায়নি, সেসব জমিতে সরিষার আবাদ হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশী। ওইসব এলাকার বিভিন্ন নদীর চরাঞ্চলে সরিষার আবাদও তুলনামূলকভাবে ভালো হয়। আমনের পর কয়েক মাসের জন্য পড়ে থাকা জমিতে এ সরিষা আবাদে বাড়তি আয় পায় স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় কৃষকরা জানান, একর প্রতি সরিষা আবাদে খরচ পড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এবার জমি তৈরী করতে ট্রাক্টরের হালচাষে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ বেশী পড়েছে। তদুপরি, কৃষকরা আশা করছেন প্রতি একরে সরিষা উৎপাদন হবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মণ। মৌসুমের সময় দাম কিছুটা কম থাকলেও প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় ১ হাজার ৫শ টাকা থেকে ২ হাজার ২শ টাকা পর্যন্ত। তবে মজুদ করে রেখে বছরের শেষে বিক্রি করলে প্রায় দ্বিগুন দামে বিক্রি করা যায় বলেও তারা জানান। এছাড়া সরিষা আবাদ উঠে গেলে ওই জমিতে সরিষা গাছের আগাছা মাটিতে পড়ে প্রচুর জৈব সার তৈরী হয়। ফলে পরবর্তী বোরো আবাদে সারের পরিমান অনেক কম লাগে। সরিষার খড়ও জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী চরাঞ্চলের কৃষক আরফান আলী জানান, আমরা আমন আবাদের পর কয়েক মাস পরে থাকা জমিতে সরিষার আবাদ করে বাড়তি আয় করি। এবার সোয়া একর জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। এ সরিষা উঠিয়ে বোরোর আবাদ করতে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবো। একই কথা জানান যোগিনীমুরা গ্রামের কৃষক আনছার আলী ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক ফজু মিয়া। আর নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা গ্রামের সরিষা চাষি মাহবুব রহমান জানান, সরিষা আবাদ খুবই লাভজনক বিধায় এবারও আমি ৩ একর জমিতে চাষ করেছি। আশা করছি এবারও বাম্পার ফলন হবে। সেক্ষেত্রে আমি দ্বিগুন লাভের আশা করছি। একই মত পোষণ করেন স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মুহিত কুমার দে জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলায় কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে প্রান্তিক চাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সরিষা আবাদের জন্য ৬ হাজার কৃষককে এক বিঘা করে মোট ৬ হাজার বিঘা জমি আবাদে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াও অনুকুলে থাকায় সরিষার আবাদও হয়েছে বেশ ভালো। এতে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

Shamol Bangla Ads

এই বিভাগের আরও খবর
Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!