• শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১৭ লাখ ৯০ হাজার ডোজ ফাইজারের টিকা পেল বাংলাদেশ বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশে ৭৫% ফ্লাইট চালু করবে ভারত পঞ্চম ধাপে ঝিনাইগাতীর ৭টিসহ ৭০৭ ইউপির নির্বাচন ৫ জানুয়ারি নকলা ও নালিতাবাড়ীর ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে সরঞ্জাম ঝিনাইগাতীতে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন ঝিনাইগাতীতে র‌্যাবের অভিযানে ৩৮৫ পিস ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের জন্য বিআরটিসি বাসের ভাড়া অর্ধেক হচ্ছে : সেতুমন্ত্রী দুর্দান্ত মুশফিক-লিটনে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশের সেঞ্চুরিতেই জবাব দিলেন লিটন শ্রীবরদীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‘বিদ্রোহের পুরস্কার’ এবং ‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গে

প্রকাশকাল : সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১

কোন রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা বা শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা বিদ্রোহ ঘোষণা বা কোন নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলের সেই নেতাকে সাংগঠনিক শাস্তি ভোগ করতে হয় এবং সেই শাস্তির ক্ষতও অনেকটা সময় বয়ে বেড়াতে হয়- এটাই কোন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনের রীতিনীতি এবং তার প্রয়োগ ও প্রভাব। কিন্তু সেই বিদ্রোহের শাস্তির পরিবর্তে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা নেতাকে উল্টো পুরস্কারে ভূষিত করা হয়, তবে তা অবাক-বিস্ময়ের বিষয় বৈকী! আর সেটা যদি এশিয়া উপমহাদেশের সর্বাধিক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে বা সেই দলের কোন নেতার ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, সেটা আরও আশ্চর্যজনক ও ব্যতিক্রম নয়, কি? আমাদের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের যেকোন নির্বাচনেই যখন (গত প্রায় ২ বছর যাবত) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়, তখন এবার দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে এক বিদ্রোহী প্রার্থীকে ‘বিদ্রোহের পুরস্কার’ হিসেবে মূল্যায়ন করাতেই তা নিয়ে সর্বত্র কেবল ওই বিস্ময়ই নয়, বেশ তোলপাড়ও সৃষ্টি হয়েছে।

Shamol Bangla Ads

বিভিন্ন জাতীয় পত্র-পত্রিকায় ওই বিষয়ে গত ১১ অক্টোবর প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউপিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির সরকার। ১০ অক্টোবর রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সংস্থার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মূলতবি বৈঠকে তার ওই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। খবরের তথ্যমতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি রিসালদার মোসলে উদ্দিন মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে এখন পালিয়ে থাকলেও সেই ঘাতক নব্বইয়ের দশকে নরসিংদীতে যে আব্দুস ছাত্তারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারই বাসাবাড়িতে আত্মগোপনে থাকতো, দুর্ভাগ্য হলেও সত্য সেই আব্দুস ছাত্তারই গত ইউপি নির্বাচনে মির্জানগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক পায় এবং তারই প্রতিবাদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিলেন দলের স্থানীয় নেতা হুমায়ুন কবির সরকার। আর বৈঠকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রসঙ্গটি উত্থাপন করলে উপস্থিত সবার মাঝে ইতিবাচক সাড়া পড়ে। ফলে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনির আশ্রয়দাতাকে প্রতিহত করতে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর হওয়ার মধ্য দিয়ে সেটা হুমায়ুন কবির সরকারের ঘোর প্রতিবাদ ছিল বলেই সেটাকে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ বা বিদ্রোহী হিসেবে আমলে না নিয়ে উল্টো প্রতিবাদী বিদ্রোহীর পুরস্কার হিসেবেই তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

কাজেই বিদ্রোহের শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কার পাওয়া ওই ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত ও তার খবরটি নিঃসন্দেহে কেবল আওয়ামী লীগের দলীয় অঙ্গণে নয়, দেশের খোদ রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কারণ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড সূত্রে এ কথা জোরালোভাবেই জানান দিচ্ছে যে, ‘কোনভাবেই যে কোন নির্বাচনে (দলের দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্যমতে, মনোনয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বা দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে- হোক সেটা স্থানীয় সরকারের ইউপি, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা, সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় নির্বাচন) বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজিত বা পরাজিত প্রার্থীকে পরবর্তীতে আর দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। কেবল তাই নয়, ওই বিদ্রোহী প্রার্থী বা নেতাকে পরবর্তীতে দলের দায়িত্বশীল কোন পদপদবীতে (বিশেষ করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) দায়িত্ব দেওয়া বা বসানোও হবে না। আওয়ামী লীগের মতো একটি গণতান্ত্রিক দলের ওই নীতিগত সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরিণ শৃঙ্খলা ফেরাতে নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ও অনুসরণীয়- এমনটাই অভিমত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের। তবে এ ক্ষেত্রে বললে বাড়িয়ে বলা হবে না যে, মির্জানগর ইউপিতে গত নির্বাচনে দলের প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের উদাসিনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ছিল। অথবা বিশেষ কোন দুর্বলতা ছিল বলেই দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনির আশ্রয়দাতার ভাগ্যেও জুটেছিল নৌকার মনোনয়ন। এছাড়া মনোনয়ন বোর্ডেও ওই সমস্যাটি তখন উত্থাপিত হয়নি বলেই ঠেকানো যায়নি তার মনোনয়ন। একইভাবে এবারও হয়তো ঠেকানো যেতো না তার মনোনয়ন, যদি ওই বৈঠকে সজাগ ও সতর্ক থাকা দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক নানক বিষয়টি উত্থাপন না করতেন কিংবা তিনি দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিয়ে ওই বিষয়ে গতবারের ন্যায় এবারও কারও কারও মতো জেনেও নীরব থাকতেন। সুতরাং তৃণমূলে বিতর্ক বা বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগের কারণে পুরোপুরি সঠিক মনোনয়ন যেমন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না, ঠিক তেমনি দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতিতে অভ্যস্ত, ভিন্ন আদর্শের বিপথগামীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া সেই আব্দুস ছাত্তারদের মতো দলের এক শ্রেণির বিতর্কিত নেতা, অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় বা কোন কোন ক্ষেত্রে জনবিচ্ছিন্ন এবং দলে অনুপ্রবেশকারীদের ভাগ্যে মনোনয়ন চলে যাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ঠেকানো যায় না সেই বিদ্রোহ। অর্থাৎ বাস্তব অবস্থাদৃষ্টে সব বিদ্রোহই যুক্তিসঙ্গত না হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে যে তা প্রতিবাদেরই বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকে- সেটাও বলাই বাহুল্য। আবার কেউবা তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতা হবার পরও স্থানীয় গ্রুপিংয়ের কারণে দায়িত্বশীলদের মাঝে তাকে দাবিয়ে রাখার নোংরা মনমানসিকতা যেমন কাজ করে, তেমনি ওই অবস্থায় কোন কোন মতলববাজ নেতাদের উৎসাহে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে চরম ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েন- এমন নজিরও দলে নেহায়েত কম নেই। একইভাবে কেবল গ্রুপিংয়ের কারণে ওই অবস্থায় পতিত নেতাদের সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষাতেও হাত না বাড়িয়ে দায়িত্বশীল নেতাদের নীরবতা পালনের নজিরও রয়েছে ঢের।

Shamol Bangla Ads

তদুপরি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে যেহেতু আওয়ামী লীগের একটি সময়োপযোগী বা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত গঠনতন্ত্র রয়েছে এবং রয়েছে তার গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির চর্চা, সেহেতু চূড়ান্ত অভিভাবক হিসেবে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত শত কষ্ট হলেও মেনে নেওয়াই শ্রেয়। অন্যথায় শাস্তির খড়গে নিজের মস্তক এগিয়ে দেওয়ার পরিণতি ভোগ এবং তার ক্ষত বয়ে বেড়ানোর যন্ত্রনা সেরে ওঠাই কঠিন। তবে, বিদ্রোহের সেই শাস্তির যেন থাকে না কোন রকম-ফের। কারণ দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা বা বিদ্রোহের ক্ষেত্রে কখনোও বা শোকজ, আবার শোকজের জবাবের পর অব্যাহতি, আবার কখনোও বা শাস্তি দূরে থাকা, শোকজ থেকেও রহস্যজনকভাবে বিরত থাকা, আবার কোথাও বা সাংগঠনিক রীতি মেনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তাব গ্রহণ ও তা উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণের সিদ্ধান্ত হলেও কারো-কারো ক্ষেত্রে সেই রীতি-নীতির তোয়াক্কা না করে সরাসরি খড়গে গর্দান কর্তনের পরিণতি নেমে আসে। কেন্দ্রীয়ভাবে যদিও বলা হচ্ছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদেরও যেহেতু দলে অবদান রয়েছে, সেইহেতু তাদেরকে কোনভাবেই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার বা তাদের প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করা যাবে না- তথাপি মাঠ পর্যায়ে এ নির্দেশনারও ব্যত্যয় ঘটছে অনেক ক্ষেত্রেই। তদুপরি দেশের গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির চর্চা অনেকটা বেশি হয় বলেই এ দলের প্রতি রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রত্যাশাও বেশি। তাই কেন্দ্রের মতো জেলা, উপজেলা ও শহরসহ দলের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটের সম্মেলন নিয়মিত হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসবেন-এমনটাও প্রত্যাশা দলের ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সচেতন মহলের।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমপি-মন্ত্রীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কেবল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নয়, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত অনেকেরই দলের ভেতর অনুপ্রবেশ ঘটেছে বা ঘটছে। তাদের কেউ-কেউবা ইতোমধ্যে দলের (মূল বা সহযোগি সংগঠনের) নেতা বনেও গেছেন। বিশেষ করে আদর্শিক নানা পেশাজীবী সংগঠনগুলোতে রাতারাতি বোল পাল্টে মতলববাজ এ অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্মই বেড়েছে ও বাড়ছে প্রশাসন, অফিস-আদালত থেকে সর্বত্র। আর দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা ওই অনুপ্রবেশকারীরাই আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শাণিত করার মধ্য দিয়ে দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার আন্দোলনে অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি বা বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ষড়যন্ত্র বা আত্মঘাতী ঘটনাতেও লিপ্ত হচ্ছে। কেবল তাই নয়, সম্প্রতি কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে অপরাজনীতির আওতায় বিশেষ গোষ্ঠীর ইন্ধনে দেশব্যাপি যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হয়েছে, তাতেও ওই বিশেষ গোষ্ঠীর পাশাপাশি রংপুরের পীরগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা সৈকত মন্ডলের মতো অনেকেই সেই গুজব ছড়ানোতে শরিক হয়েছে, কেউ কেউবা নিজেদের ফেইসবুকে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির পোস্ট দিয়েছে। সুতরাং সত্যিকার অর্থে ছাত্রলীগ নামধারী সৈকতরা কারা? পরিবর্তিত অবস্থায় এখন এটাও ভাববার সময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বলাবাহুল্য, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিপন্থি, ভিন্ন মতাদর্শের অনুসারী বা মতলববাজদের আওয়ামী লীগে যোগদান প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও প্রতিনিয়ত অঘোষিতভাবে তারা মিশে যাচ্ছে স্থানীয় দায়িত্বশীলদের বিশেষ দুর্বলতা বা বদান্যতায়। কাজেই রাজনৈতিক অপশক্তির পাশাপাশি আজ সেই তথাকথিত ছাত্রলীগ নেতা বা অনুপ্রবেশকারীদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে। সেই সাথে ফেরাতে হবে ঐতিহ্য,আদর্শ ও চেতনায় উজ্জীবিত সংগঠনে ‘অনুপ্রবেশ’। আর অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত যতটা করা না যাবে বা তাদের অনুপ্রবেশ যতটা ফেরানো না যাবে, ততই দলের জন্য, দলের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধর্মী আর্দশ বাস্তবায়নের জন্য বা ভবিষ্যতের জন্য তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা’র আধুনিক রূপ উন্নত-স্বচ্ছল ডিজিটাল বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কেবল বাধাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্তই হবে না, বরং তা ব্যুমেরাং হয়েই দাঁড়াবে।

সুতরাং দলের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের যে কোন নির্বাচনের ক্ষেত্রেই হোক না কেন, তুলনামূলকভাবে সৎ-ত্যাগী, গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দিতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রের গোড়া পর্যন্ত যেমন স্বচ্ছতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে, ঠিক তেমনি দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের পাশাপাশি তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও দ্রুত শুদ্ধি অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর সেই সিদ্ধান্তও যেন নামমাত্র বা কেবল কাগুজে না থেকে মাঠ পর্যায়ে তার দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, সে দিকেও সর্বাগ্রে খেয়াল রাখতে হবে। আর সেই খেয়াল রাখার দায়িত্ব কেবল দল ও দেশের সর্বময় আস্থার প্রতীক ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’য় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার একারই নয়, বরং সেটা তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল সকল নেতার। কাজেই ওই উপলব্ধি ও বিশ্বাসকে ধারণ করে দলের দায়িত্বশীল সকলকে মিলেই ঘোচাতে হবে সেই দায়বদ্ধতার দায়।

লেখক : সাংবাদিক, আইনজীবী ও রাজনীতিক, শেরপুর, ই-মেইল[email protected]


এই বিভাগের আরও খবর
Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!