• শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১৭ লাখ ৯০ হাজার ডোজ ফাইজারের টিকা পেল বাংলাদেশ বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশে ৭৫% ফ্লাইট চালু করবে ভারত পঞ্চম ধাপে ঝিনাইগাতীর ৭টিসহ ৭০৭ ইউপির নির্বাচন ৫ জানুয়ারি নকলা ও নালিতাবাড়ীর ইউপি নির্বাচনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে সরঞ্জাম ঝিনাইগাতীতে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন ঝিনাইগাতীতে র‌্যাবের অভিযানে ৩৮৫ পিস ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের জন্য বিআরটিসি বাসের ভাড়া অর্ধেক হচ্ছে : সেতুমন্ত্রী দুর্দান্ত মুশফিক-লিটনে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশের সেঞ্চুরিতেই জবাব দিলেন লিটন শ্রীবরদীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঝিনাইগাতীতে ১৪ বছরেও পুন:নির্মাণ হয়নি সেতু, কাঠের সাঁকোই ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের

/ ১৪৮ বার পঠিত
প্রকাশকাল : রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীতে পাহাড়ি ঢলে মাটি সরে গিয়ে ধসে যাওয়া একটি সেতু পুন:নির্মাণ হয়নি প্রায় ১৪ বছরেও। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশেপাশে ১০ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। তবে দ্রুতই সেতুটি নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Shamol Bangla Ads

জানা যায়, স্থানীয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ঘাগড়া কবিরাজপাড়া এলাকায় খালের ওপর ৪০ ফুট লম্বা একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। কিন্তু সেতুটি নির্মাণের কয়েক মাস যেতে না যেতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ধসে পড়ে যায়।

এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। এতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছেন আশেপাশের ১০ গ্রামের অন্তত: ২৫ হাজার মানুষ। পরে স্থানীয়রা যাতায়াতের জন্য কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করেন। এখন তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশ-কাঠের তৈরি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। ওই বাঁশ-কাঠের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন কবিরাজপাড়া, পটলপাড়া, মন্ডলপাড়া, সরকারপাড়া, শাকপাড়া, মাছপাড়া, তালতলাসহ ১০টি গ্রামের মানুষজন।

Shamol Bangla Ads

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এছাড়া গ্রামের বৃদ্ধ মানুষরাও ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছেন। এই সাঁকো দিয়ে আশেপাশের ১০ গ্রামের কৃষিপণ্য ও গবাদি পশু পারাপার করা হয়।

ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের মন্ডল মিয়া বলেন, সেতুটি ঠিক করার জন্য আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বার বার বললেও কোন কাজ হয় নাই। কয়দিন আগে এই সাঁকো পার হতে গিয়ে একজন খালের মধ্যে পড়ে গেছিল। পরে আমরা খালে নেমে তাকে উদ্ধার করছি। কৃষক হায়দার আলী বলেন, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল আইসা এই সাঁকো ভাইঙা যায়। বাঁশের সাঁকো ভাইঙা গেলে কিছুদিন আমাদের খুব কষ্ট করতে হয়। এর লাইগা প্রতি বছরই আমগরে কষ্ট কইরা আবার সাঁকো বানাইতে হয়। আমরা এই ভোগান্তি থাইকা মুক্তি চাই।

ঘাগড়া পুটলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, এখানে সেতু না থাকায় এই ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হইতে অনেক ভয় করে। কিন্তু তারপরও আমাদের বিদ্যালয়ে যাইতেই হয়। অনেকেই ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। খালের পাশের বাসিন্দা রোজিনা খাতুন বলেন, বাঁশের সাঁকোতে অনেকেই উঠতে ভয় পায়। এই সাঁকো ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় করে। এজন্য আমাদের বাড়ির উঠান দিয়ে পানি পেরিয়ে পার হয় অনেকে। সেতুটি পাকা করে দিলে আমাদের খুব ভালো হতো। একই দাবি জানান স্থানীয় মো. হাবিবুল্লাহ, মোছা. রেজিয়া খাতুন, হালিমা খাতুন, নূর মোহাম্মদ, অজু মিয়া, আজাহার আলীসহ বেশ কয়েকজন।

ঘাগড়া পুটলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, খালের ওইপাড় থেকে এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আসে। পাকা সেতু না থাকায় তাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেও যেন সরকার দ্রুত এখানে পাকা সেতুটি নির্মাণ করে দেয়, এই আবেদন করছি।

স্থানীয় হাতিবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকবর আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। সেতুটি পুন:নির্মাণের জন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকে বার বার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কিন্তু এখনও সেতুটি নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল বলেন, আমি ভেঙে পড়া সেতুটি পরিদর্শন করেছি। সেতুটি পুননির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন পর্যায়ে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ বলেন, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে ওই খালের ওপর সেতুটি পুন:নির্মাণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর
Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!