• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল
শিরোনাম :
ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত শেরপুর সদরে ১৩ ইউপির ৯টিতেই আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নকলায় ১৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ মাছ ধরার জাল জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন সালাহর হ্যাটট্রিকে ম্যানইউকে উড়িয়ে দিল লিভারপুল রিজভী-দুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা শেরপুরে রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে বিশ্ব পোলিও দিবস পালিত ক্যাচ মিসেই বাংলাদেশের হতাশার হার গফরগাওয়ে নকল ইলেট্রনিক সামগ্রী বিক্রির অভিযোগে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা এবার পা দিয়ে লিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন শেরপুরের ছুরাইয়া

গারো পাহাড়ে কোচ-হাজং সম্প্রদায়ের দুর্গোৎসবে অংশ নিলেন স্থানীয় সাংসদ চাঁন ও জেলা প্রশাসক

/ ২৩৪ বার পঠিত
প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ে একসময় কোচ সম্প্রদায়ের রাজত্ব ছিল। হাজং ও বর্মণ সম্প্রদায়ও ছিল ধর্ণাঢ্য। বর্তমানে এ তিন সমপ্রদায়ের অবস্থা খুবই নাজুক। কৃষিকাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। তারপরও উৎসবে পালনে তারা শহরের মানুষের চেয়ে পিছিয়ে নেই। অভাব-দারিদ্রতার মধ্যেও প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব তারা পালন করে। কাংশা ও নলকূড়া ইউনিয়নের রাংটিয়া, শালচ’ড়া, নওকুচি, ডেফলাই ও বড় রাংটিয়া এ ৫ গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে প্রতিবছর এখানে সাড়ম্ভরে দুর্গাপূজা করে। শালচুড়া গ্রামের ভূঁইয়া বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় দুর্গোৎসব।

Shamol Bangla Ads

পূজোয় অষ্টমী ও নবমী দু’রাত ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কোচ-হাজং ও বর্মণ সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি তুলে ধরে নাচ-গানের আসর বসে। যাতে যোগদেন হাজারো মানুষ। এ গ্রামের শতবছর ধরে চলা দুর্গোৎসবের কথা শুনে বুধবার রাতে সেখানে এলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল হক ও জেলা প্রশাসক মো.মোমিনুর রশিদ। শালচুড়া গ্রামে আসার সড়কটি চাপা ও কাঁচা থাকায় সেখানে যানবাহন চলাচল করতে সমস্যা হয়। তাই স্থানীয় পাতার ক্যাম্পে গাড়ি রেখে রাত আটটার দিকে রিকশা করে এমপি, আর পায়ে হেটে স্ত্রী-সন্তান ও জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে পূজা মন্ডপে এলেন জেলা প্রশাসক।

আকস্মিক এমপি ও জেলা প্রশাসককে দেখে মুগ্ধ নৃ-তাত্তিক জনগোষ্ঠীর লোকজন। শিশুরা ফুল ছিটিয়ে গান গেয়ে বরণ করে নিলেন অতিথিদের। এমপি ও ডিসিকে পেয়ে ভীষণ খুশি স্থানীয়রা। স্থানীয় নৃত্য শিল্পি রিয়া কোচ ও বৃষ্টি হাজং তাদের ভাষায় বলছিল ‘এমপি আরো ডিসি ফায়নিনিন নিন্দারা চামা রংগ মানতেনে’ (এমপি ও ডিসি সাহেব এসেছেন আমরা খুব খুশি হয়েছি)। এর আগে এখানে কেউ আসেননি।
এরপর শুরু হলো আরতি প্রতিযোগিতা। প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে চললো কোচ- হাজং ও বর্মণ ছেলে মেয়েদের নাচ- ‘মহিষাসুর বধ’ অভিনয়। এসব দেখে মুগ্ধ হন এমপি ফজলুল হক চাঁন ও জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ। শিশুদের উৎসাহিত করার জন্য তিনি ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। ২৫ জন হতদরিদ্র মানুষের হাতে তুলে দেন ১০ কেজি করে চাল ও মাস্ক।

Shamol Bangla Ads

জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশিদ বলেন, পাহাড়ে থেকে কোনরকম সুযোগ সুবিধা না পেয়েও কোচ-হাজং ছেলে-মেয়েরা যেভাবে তাদের ভাষা-কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ধরে রেখেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীদের সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের তরফ থেকে খুব শিগগিরই গজনীতে একটি আদিবাসি মঞ্চ করবো। যাতে এখানকার সংস্কৃতিভ্রমণ পিপাসুরা উপভোগ করতে পারে।

এমপি ফজলুল হক বলেন, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং তাদের মন্দিরটি পাকাকরণ করা হবে। তারা যাতে ভবিষ্যতেও তাদের উৎসব চালিযে যেতে পারে সেজন্য তিনি কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি নিজ তহবিল থেকে পূজারিদের হাতে ৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুকতাদিরুল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদা ইয়াছমিন, ঝিনাইগাতীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি দেবাশীষ ভট্টাচার্য, ঝিনাইগাতী ঐক্য পরিষদ নেতা জীবন চক্রবর্তী, রয়েল কোচ, মিঠুন কোচ, যুব ঐক্য পরিষদ সভাপতি শান্ত রায়-সম্পাদক ইন্দজিৎ বর্মণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর
Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!