• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল
শিরোনাম :
শেরপুর সদরে ১৩ ইউপির ৯টিতেই আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নকলায় ১৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ মাছ ধরার জাল জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন সালাহর হ্যাটট্রিকে ম্যানইউকে উড়িয়ে দিল লিভারপুল রিজভী-দুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা শেরপুরে রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে বিশ্ব পোলিও দিবস পালিত ক্যাচ মিসেই বাংলাদেশের হতাশার হার গফরগাওয়ে নকল ইলেট্রনিক সামগ্রী বিক্রির অভিযোগে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা এবার পা দিয়ে লিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন শেরপুরের ছুরাইয়া নালিতাবাড়ীতে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা

পর্যটনে ফিরে আসুক প্রাণ

প্রকাশকাল : সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সুপ্রাচীনকাল থেকেই ভ্রমণ গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে মানুষের জীবনাচারের সঙ্গে মিশে আছে। বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্বকে যেমন জানা যায় তেমনি এর দ্বারা চক্ষু ও মন-মননের অবারিত কৌতুহল মিটে থাকে। তারসাথে সামাজিক মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, সভ্যতা, ঐতিহ্য ও জীবনবোধের সাথে পরিচিত হয়ে নিজেকে গতিশীল ও সমৃদ্ধ করা যায়।
পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করার মানসে প্রতি বছর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বব্যাপী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ পর্যটন দিবস পালন করা হয়ে থাকে। ১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘের পর্যটন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ডব্লিওটিও) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সকল সদস্য দেশে এটি পালিত হয়ে আসছে এবং এ সংস্থাটি সারা বিশ্বে পর্যটনের নিরাপদ ও স্বাভাবিক বিকাশ সম্প্রসারণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। এছাড়াও পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।
১৯৭০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলনে এর নাম, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য পুণঃমূল্যায়ন ও নির্ধারণ করা হয় এবং তখন থেকে এটি ‘বিশ্ব পর্যটন সংস্থা’ নামে চিহ্নিত করার বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যার কার্যক্রম নতুন নামে ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হয়। ১৯৮০ সালের বার্ষিক সম্মেলনে এই সংস্থার গঠনের দিবসে অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে বিশ্বব্যাপী পর্যটন দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে এতে একটি স্বাগতিক দেশ নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আনয়নের পক্ষে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তির পর বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী পর্যটন ব্যবসার প্রসার ঘটে। এ অবস্থায় পর্যটনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিবর্গ ও ভোক্তাশ্রেণির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক সংস্থা (আইইউওটিও)। এ সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রাজস্ব আয়ে বিশেষ অবদান রাখার প্রেক্ষিতে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানরূপে যুক্ত হয়। সংস্থাটির কার্যক্রম আরো জোরদার করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের বাৎসরিক সম্মেলনের সময় এই সংস্থার সদস্যভূক্ত দেশগুলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে করণীয় ঠিক করার মাধ্যমে বিশেষ অবদান রেখে আসছে।

Shamol Bangla Ads

আমরা কম বেশি সবাই জানি, করোনা মহামারীর প্রথম আঘাতই আসে পর্যটন খাতে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব ধরনের পর্যটন বন্ধ হয়ে পড়ে করোনা অতিমারী সংক্রমণের শুরু থেকেই। ট্যুর অপারেট্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, করোনার কারণে দেশে কমপক্ষে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া বিশ্বভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিল এর ভাষ্য মতে, মহামারী করোনার কারণে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সাড়ে সাত কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং এ খাতে লোকসান হয়েছে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
এই করোনা অতিমারীর কারনে দেশের পর্যটন খাত যখন চরমভাবে বিপর্যস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত তখন বাংলাদেশের জন্য সুখবর বয়ে আনলো বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মহাসচিব জুরাব পোলোলিকাশভিলি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর সভাপতিত্বে বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সদস্য দেশসমূহের অংশগ্রহণে কমিশন ফর এশিয়া প্যাসিফিক (সিএপি) ও কমিশন ফর সাউথ এশিয়া (সিএসএ)’র যৌথভাবে আয়োজিত ভার্চুয়াল সম্মেলনে বাংলাদেশ আগামী দু’বছর মেয়াদে (২০২১-’২৩) সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিওটিও) দক্ষিণ এশিয়া কমিশনের ভাইস-চেয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পর্যটন খাতের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সময়ে এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশীয় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের গতিকে বেগবান করবে নিঃসন্দেহে।
যাহোক, প্রাকৃতিক বৈচিত্রে ভরপুর বাংলাদেশে পর্যটনশিল্পের বিকাশে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সময়ে (করোনাকালীন সময় বাদে) দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে এ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রামীণ তথা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অংশগ্রহনের সুযোগ দেয়া এবং বিশ্ব দরবারে দেশের পর্যটন শিল্পকে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে দেশীয় পর্যটন অকুস্থল ও এতদসংক্রান্ত বিষয়ের আকর্ষণীয় তথ্যচিত্র তৈরি করে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বহুলাকারে প্রচার অত্যাবশ্যক বলে মনে করি।
এছাড়াও অপার সম্ভাবনাময় এই পর্যটন শিল্পে অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোয় দক্ষ জনবল তৈরি করে দেশের সার্বিক উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি উদ্যোমি ও মনোযোগি হলে দেশীয় পর্যটন শিল্পের উৎকর্ষ সাধন বহুলাংশে ত্বরান্বিত হবে।

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও সহকারী অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর।


এই বিভাগের আরও খবর
Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!