• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল
শিরোনাম :
ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত শেরপুর সদরে ১৩ ইউপির ৯টিতেই আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নকলায় ১৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ মাছ ধরার জাল জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন সালাহর হ্যাটট্রিকে ম্যানইউকে উড়িয়ে দিল লিভারপুল রিজভী-দুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা শেরপুরে রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে বিশ্ব পোলিও দিবস পালিত ক্যাচ মিসেই বাংলাদেশের হতাশার হার গফরগাওয়ে নকল ইলেট্রনিক সামগ্রী বিক্রির অভিযোগে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা এবার পা দিয়ে লিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন শেরপুরের ছুরাইয়া

শেরপুরে অগ্নিকাণ্ডের ৪ সপ্তাহেও পুরোপুরি চালু হয়নি টেলিফোন সেবা

/ ২১৭ বার পঠিত
প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পাল্টে গেছে এক্সটেনশন নম্বর, বেড়েছে গ্রাহক ও জনভোগান্তি

শেরপুরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ভবনের সুইচ কন্ট্রোলরুমে অগ্নিকাণ্ডের ৪ সপ্তাহেও পুুরোপুরি চালু হয়নি টেলিফোন সেবা। এতে বিদ্যুৎ বিভাগ, থানা, হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিসসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সেবা গ্রহণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। অন্যদিকে টেলিফোন সেবা দ্রুত পুরোপুরি চালুকরণে এবং এক্সটেনশন নম্বরের কারণে বেড়ে যাওয়া গ্রাহক ও জনভোগান্তি নিরসনে কর্তৃপক্ষ রয়েছে দায়সারা ভূমিকায়- এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের।
জানা যায়, গত ২২ আগস্ট ভোরে শহরের শহীদ বুলবুল সড়কস্থ বিটিসিএল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত সুইচ কন্ট্রোলরুমে আগুন লাগে। এতে কন্ট্রোলরুমে থাকা ২টি এসি, এক হাজার ইউনিট প্রকল্পের একটি ওডিএফ মেশিন পুড়ে যায়। সুইচ কন্ট্রোলরুমের ওডিএফ মেশিন বিকল হয়ে যাওয়ায় জেলার ৫ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী বকশীগঞ্জ, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার টেলিফোন সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ ও জামালপুর বিটিসিএলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেইসাথে অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Shamol Bangla Ads

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ওডিএফ মেশিন মেরামতযোগ্য না থাকায় চালুর অপেক্ষায় থাকা উন্নত প্রযুক্তির অন্য একটি কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে টেলিফোন সংযোগ মেরামত কার্যক্রম শুরু করেন বিটিসিএল কার্যালয়ের প্রকৌশলী ও কর্মচারীরা। তবে এতে টেলিফোন গ্রাহকদের পুরাতন নম্বর বদলে নতুন নম্বরে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। এতে শেরপুরের বিভিন্ন জরুরি দপ্তরের সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন জনসাধারণ। কারণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিদ্যুৎ বিভাগ, থানা পুলিশ, হাসপাতালসহ সকল দপ্তরের নম্বর পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় আগের নম্বরে ফোন ঢুকছে না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করতে গিয়ে। কোথাও কোন দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তাদের পুরাতন নাম্বারে (৬১-২২২) ফোন করলে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে বাধ্য হয়ে ৯৯৯ বা তাদের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এতে সময় লাগছে বেশি। অন্যদিকে বেড়ে যাচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি।

সদর উপজেলার গাজীরখামার ইউনিয়নের পলাশিয়া গ্রামের আরিফ হাসান বলেন, সম্প্রতি তাদের এলাকায় একটি দুর্ঘটনা ঘটায় জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের টেলিফোন নাম্বারে বার বার ফোন করলেও ফোন ঢুকেনি। পরে এক পরিচিত সাংবাদিকের কাছ থেকে তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করেছি। কিন্তু সবার কাছে তো তাদের মোবাইল নম্বর নেই। তারা জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করবে কিভাবে? একই কথা জানান শহরের কালিগঞ্জ মহল্লার জমির উদ্দিন বাচ্চু, বাগরাকসা মহল্লার মো. আলী ইমাম, গৌরীপুর এলাকার আবু জাফরসহ বেশ কয়েকজন।
এদিকে শহরের বটতলা এলাকার আইনজীবী নারায়ণ চন্দ্র হোড় জানান, তার টেলিফোনটি প্রায় ১৫ দিন পর সচল হলেও নম্বরটি পুরোপুরি বদলে গেছে। এতে আগের নম্বরে তাকে ফোন দিয়ে কেউ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, এই আধুনিক মুঠোফোনের যুগে ব্যক্তিগত টেলিফোন নম্বরগুলোর ক্ষেত্রে ততোটা সমস্যা না হলেও সরকারি নম্বরগুলো পরিবর্তন হওয়ায় জনসাধারণের জরুরি সেবা পেতে খানিকটা ভোগান্তি হচ্ছে। তাই নতুন এক্সটেনশন নম্বরটি প্রচার চালানো উচিৎ।

Shamol Bangla Ads

সমস্যা প্রসঙ্গে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মো. তারেক জানান, টেলিফোন অফিসে অগ্নিকাণ্ডের পর তারা আমাদের নতুন নম্বর দিয়েছে। সেটি হচ্ছে ০২৯৯৭৭৮১২২২। নম্বরটি আমরা স্থানীয় ক্যাবল ডিশসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণার মাধ্যমে জনসাধারণকে জানানোর চেষ্টা করছি। এছাড়া আমরা একটি মোবাইল নম্বর (০১৭৩০-০০২১৮৭) হটলাইন হিসেবে রেখেছি। আর জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমেও এখানে অনেক ফোন আসে।
এ ব্যাপারে বিটিসিএল শেরপুর অফিসে বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী ব্যবস্থাপক (টেলিকম) আশিকুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। কথা হয় অফিসের প্রশাসনিক সহকারী আসাদুজ্জামানের সাথে। তিনি জানান, সহকারী ব্যবস্থাপক (টেলিকম) ইসমাইল হোসেন সদ্য পিআরএলে চলে যাওয়ায় এখানে নতুন করে তার স্থলে পদায়ন হয়েছে আশিকুর রহমানের। কিন্তু জামালপুর অফিসের দায়-দায়িত্ব তিনি এখনও বুঝিয়ে দিতে পারেননি। তার মতে, আমাদের একটি উন্নত প্রযুক্তির নতুন সুইচ কন্ট্রোলরুম চালুর অপেক্ষায় ছিল। অগ্নিকাণ্ডে পুরাতন মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুনটির মাধ্যমে জেলায় টেলিফোন সেবা চালু করা হয়েছে। তবে শেরপুরের আগের এক্সটেনশন নম্বর ০৯৩১ পরিবর্তন হয়ে নতুন এক্সটেনশন নম্বর ০২৯৯৭৭৮ যুক্ত হয়েছে। গ্রাহকদের পুরাতন নম্বরের পূর্বে এখন নতুন এক্সটেনশনটি যোগ করতে হবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকের নম্বর পুরোটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, আমাদের কাজ এখনও চলছে। যেসব গ্রাহকদের সমস্যা আছে, তারা জানালেই আমরা ঠিক করে দিচ্ছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি গ্রাহকসেবা চালু করা যাবে বলে আশা করেন তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর
Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!